দুরন্ত গতিতে ছুটল এয়ার মিসাইল, র‍্যামজেট প্রযুক্তিতে তাক লাগিয়ে দিল ডিআরডিও

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্ষেপণাস্ত্র হবে অপ্রতিরোধ্য। একবার নিক্ষেপের পরে তার গতি রোধ করা হবে অসম্ভব ব্যাপার। শব্দের চেয়ে দ্রুত গতিতে ছুটে গিয়ে লক্ষ্য বস্তুতে নির্ভুল আঘাত করবে। দেশের তৈরি মিসাইলকে এমনই শক্তিশালী করে তুলতে আধুনিক র‍্যামজেট টেকনোলজির পরীক্ষা চালাচ্ছিল প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিআরডিও। সেই পরীক্ষায় চূড়ান্ত সাফল্য এল আজ।

চাঁদিপুরের টেস্ট-রেঞ্জ থেকে সারফেস-টু-এয়ার মিসাইলের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সফল হল। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এয়ার মিসাইলের শক্তি পরীক্ষা করছে ডিআরডিও। মিসাইলের গতি আর বাড়ানোর জন্য সলিড ফুয়েল ডাকটেড র‍্যামজেট (এসএফডিআর) টেকনোলজির প্রয়োগ হয়েছে এদিন। আর তাতে দেখা গেছে, কোনওরকম যান্ত্রিক ত্রুটি ছাড়াই মিসাইল তীরের বেগে উড়ে গিয়ে নিশানায় আঘাত করেছে। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের এটি অন্যতম বড় সাফল্য বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশষজ্ঞরা।

দূরপাল্লার মিসাইলের জন্য র‍্যামজেট প্রযুক্তির প্রয়োগ করা হয়। র‍্যামজেটের সলিড ফুয়েল ইঞ্জিন আছে, আবার লিকুইড ইঞ্জিনও আছে। সলিড ফুয়েলের প্রয়োগ করে আজ এয়ার মিসাইল ছোড়া হয়েছে। হায়দরাবাদের ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ল্যাবরেটরি এবং পুণের হাই-এনার্জি মেটিরিয়াল রিসার্চ ল্যাবরেটরির গবেষকরা ছিলেন এই প্রযুক্তি প্রয়োগের দায়িত্বে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মিসাইলকে সুপারসনিক বেগে ওড়াতে এই প্রযুক্তির দরকার পড়ে। ২০১৮ ও ২০১৯ সালেও র‍্যামজেট টেকনোলজিতে মিসাইল উৎক্ষেপণের পরীক্ষা করা হয়েছিল।

Solid Fuel Ducted Ramjet (SFDR)

কিছুদিন আগেই যুদ্ধট্যাঙ্ক বিধ্বংসী বা অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইলের (এটিজিএম) পরীক্ষায় বড় সাফল্য এসেছে। ভূমি থেকে যেমন ছোড়া যায়, তেমনি হেলিকপ্টার থেকেও নিক্ষেপ করা যায়। দুরন্ত গতিতে ছুটে গিয়ে নির্ভুল লক্ষ্যে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে পারে যে কোনও আধুনিক প্রজন্মের যুদ্ধট্যাঙ্ক। অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল আগে বিদেশ থেকে আনানো হত। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পে এখন দেশেই আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র তৈরিতে জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পূর্ব লাদাখে ভারত ও চিনের সেনার মুখোমুখি সংঘর্ষের পর থেকে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চলছে। হালে দূরপাল্লার এয়ার মিসাইলের একের পর এক পরীক্ষা চলছে।

ওড়িশার বালাসোরের লঞ্চ প্যাড থেকে নতুন দুই এয়ার মিসাইলের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ হয়েছে কিছুদিন আগেই। ডিআরডিও জানিয়েছে, সমুদ্র সুরক্ষাতেও এই সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল ব্যবহার করতে পারেন নৌসেনারা। শত্রুপক্ষের যে কোনও আধুনিক যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করার ক্ষমতা আছে এই মিসাইলের। একবার নিক্ষেপ করলে এর গতিরোধ করা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More