মঙ্গলে নামল নাসা, ভারতের দ্বিতীয় মঙ্গলযাত্রা কেমন হবে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলের চারদিকে ঘুরপাক খাচ্ছে চিনের মঙ্গলযান। হইহই করে আজ মঙ্গলের মাটিতে নেমে পড়েছে নাসার ‘পারসিভিয়ারেন্স’ । জেজেরো ক্রেটার থেকে এবার পারসিভিয়ারেন্সের মঙ্গল-অভিযান শুরু হবে। এবার কথা হল, ভারত আবার কবে যাবে মঙ্গলে। সেই ২০১৪ সালে নাসার প্রথম মঙ্গলযান তথা মম (মার্স অরবিটার মিশন) মঙ্গলের মাটিতে নেমেছিল। লাল গ্রহের বিস্ময়কর সব তথ্য পৃথিবীতে পাঠিয়েছে মম। তবে তার বয়স হয়েছে। এবার তরতাজা আরও এক মঙ্গলযান পাঠানোর সময় এসে গিয়েছে।

ইসরো এখন ব্যস্ত গগনযান ও তৃতীয় চন্দ্রযানের প্রস্তুতি নিয়ে। মানুষ নিয়ে মহাকাশে ঘুরপাক খাওয়ার সময় এসেছে। আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই ইসরোর প্রথম ‘ম্যানড মিশন’ ইতিহাস তৈরি করবে। এর মাঝেই চন্দ্রযান-৩ কে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পাঠাতে পারে ইসরো। তাই সব মিলিয়ে চূড়ান্ত ব্যস্ততা।

Image result for ISRO MOM-2

চাঁদ আর স্পেস স্টেশন পাখির চোখ হলেও মঙ্গল কিন্তু ব্রাত্য নয়। দ্বিতীয় মঙ্গলযান থুরি মম-২ এর ঘোষণা দিনকয়েক আগেই করে দিয়েছেন ইসরোর চেয়ারম্যান কে শিবন। তিনি বলেছেন, মঙ্গলের মাটিতে নামার ঝক্কি অনেক। তার জন্য বিস্তর গবেষণা আর প্রস্তুতি লাগে। মম-১ কে মঙ্গলে পাঠানোর আগে সেই রাজকীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তবে এখনই মঙ্গলের মাটিতে যান নামানোর পরিকল্পনা নেই ইসরোর। কিন্তু মঙ্গলের অরবিটে অর্থাৎ কক্ষপথে অরবিটার পাঠানো যেতে পারে। ইসরোর পরবর্তী মঙ্গলযাত্রা হবে এই মার্স অরবিটার, যা লাল গ্রহের চারপাশে ঘুরপাক খেয়ে খবরাখবর পৃথিবীতে পাঠাবে।

মমের পাঠানো মঙ্গলের ছবি

Image result for ISRO MOM-2

ইসরোর প্রথম ঐতিহাসিক মঙ্গলযাত্রা

২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর পিএসএলভি (পোলার স্যাটেলাই লঞ্চ ভেহিকল) রকেটের পিঠে চেপে শ্রীহরিকোটার সতীশ ধবন মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র থেকে রওনা দেয় ইসরোর ‘মম’। প্রায় এক মাস পৃথিবীর চারধারে লাট্টুর মতো পাক খেয়ে মাধ্যাকর্ষণের মায়া কাটায় ১ ডিসেম্বর। শুরু হয় মঙ্গলের পথে যাত্রা। ২৯৮ দিন লাল গ্রহের চারধারে পাক খেয়ে শেষমেশ মঙ্গলের কক্ষপথে ‘মম’কে বসানো হয় ২০১৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর।

Image result for ISRO MOM mars pics

মঙ্গলযানের আয়ু ধরা হয়েছিল ছ’মাস থেকে এক বছর। কিন্তু লালগ্রহের পরিক্রমায় পাঁচ বছর পার করে ফেলেছে মঙ্গলযান ‘মম’। ঝড়-ঝাপটা যে আসেনি তা নয়। চন্দ্রযানের মতো রেডিও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছিল ‘মম’-এর সঙ্গেও। ২০১৫ সালের ২ জুন থেকে ২ জুলাই মম-এর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় পৃথিবী ও মঙ্গলের মাঝে সূর্য চলে আসায়। ফের ২০১৬ সালের ১৮-৩০ মে তীব্র সৌর বিকিরণের কারণে মম-এর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা যায়নি।

Image result for ISRO MOM mars pics

‘মম’-এর শীরে বসানো পাঁচটি যন্ত্র—মিথেন সেন্সর (MSM), মার্স কালার ক্যামেরা (MCC), লেম্যান অলফা ফোটোমিটার (LAP) মার্স এক্সোফেরিক নিউট্রাল কম্পোজিসন অ্যানালাইজার (MENCA), থার্মাল ইনফ্র্যারেড ইমেজিং স্পেকট্রোমিটার (TIS) মঙ্গলের মাটির গঠন, চরিত্র, আবহাওয়ার প্রকৃতি, বাতাসে মিথেন গ্যাসের অস্তিত্ব, বাযুমণ্ডলে অ-তরিদাহত কণার গবেষণা চালাচ্ছে। মঙ্গলযান ‘মম’ দেখিয়েছে, মঙ্গলে দিন-রাত আছে, ঋতু পরিবর্তন আছে, আছে উত্তর ও দক্ষিণ মেরু, খুব উঁচু পাহাড় আছে, বিরাট আগ্নেয়গিরি আছে, বিশাল নদীখাতও আছে, যা একদা সেখানে জল থাকার প্রমাণ দেয়।

Image result for ISRO MOM mars pics

মম-এর মার্স কালার ক্যামেরা প্রথম ছবি তুলে পাঠায় ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই। তার পর থেকে এখনও অবধি হাজারেরও বেশি ছবি এবং ডেটা পাঠিয়েছে ভারতের মঙ্গলযান। মঙ্গলপৃষ্ঠ (Mars Surface) থেকে ২৫৫৫ কিলোমিটার উচ্চতায় ১৩২,৮ মিটার রেজোলিউশনের প্রথম ক্রেটার বা গহ্বরের ছবি তোলে মঙ্গলযান ‘মম।’ মঙ্গলের উত্তর-পশ্চিম অংশে অবস্থিত গেইল ক্রেটারের খোঁজ ছিল মম-এর অন্যতম সাফল্য। বিভিন্ন সময়ে মঙ্গলের বুকে গ্রহাণু, উল্কাপিণ্ড আর ধূমকেতুরা আছড়ে পড়ার ফলেই তৈরি হয়েছিল সেই গেইল ক্রেটার এলাকা।

মঙ্গলে এক সময় ছিল বড় বড় নদী। কম করে ১৭ হাজার কিনোমিটার দৈর্ঘ্যের।‘লাল গ্রহে’র উত্তর গোলার্ধে অ্যারাবিয়া টেরা (Arabia Terra) সুবিস্তীর্ণ এলাকায় ওই সব বড় বড় নদীর ‘ফসিল’-এর হদিশ দিয়েছিল মঙ্গলযান ‘মম।’ লাল গ্রহ বরাবরই পাথুরে আর বরফে মোড়া ছিল বলে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের যে ধারণা বদ্ধমূল ছিল তাকেই ভেঙে চুরমার করে দেয় ‘মম।’ তার পাঠানো তথ্য থেকেই বিজ্ঞানীরা বলেছিলেন, প্রায় ৪০০ কোটি বছর আগে মঙ্গলের উত্তর গোলার্ধে ‘অ্যারাবিয়া টেরা’য় প্রায় ১৭ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকা জুড়ে বইত বড় বড় নদী।  মঙ্গলযান ‘মম’-এর সাম্প্রতিক খোঁজ বিশাল পর্বতশ্রেণি অলিম্পাস মনস (Olympus Mons) অনেকগুলো জীবন্ত আগ্নেয়গিরির সমষ্টি এই পর্বতশ্রেণি দৈর্ঘ্যে ২৫ কিলোমিটার। ইসরো জানিয়েছে,, মম ২মঙ্গলের মাটিতে জৈব বস্তুর প্রমাণ খুঁজবে। প্রাণের অস্তিত্বের খোঁজই হবে ভারতের পরবর্তী মঙ্গলযাত্রার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More