দিল্লিতে ৩৩ শতাংশের শরীরে করোনার অ্যান্টিবডি আছে, বেশিরভাগই উপসর্গহীন, দাবি সেরো সার্ভের রিপোর্টে

রক্তে আইজিজি অ্যান্টিবডি দেখে বলে দেওয়া যায় সেই ব্যক্তি সংক্রামিত কিনা। অ্যান্টিবডি টেস্ট করার এই প্রক্রিয়াকেই বলে সেরো সার্ভে। এই পরীক্ষা করলে বোঝা যায় করোনা সংক্রমণ কতজনের মধ্যে এবং কী পরিমাণে ছড়িয়েছে।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: জুন মাসের শেষ থেকে রক্তে অ্যান্টিবডি টেস্ট বা সেরো সার্ভে চলছে রাজধানীতে। গত দু’মাসে সেরো সার্ভের রিপোর্টে বলা হয়েছিল দিল্লিতে মাত্র ২২ শতাংশ মানুষের রক্তে করোনার অ্যান্টিবডি পাওয়া গেছে। পরে সেই সংখ্যাই বেড়ে ২৯ শতাংশে গিয়ে পৌঁছয়। সেপ্টেম্বরের সার্ভে রিপোর্ট বলছে, দিল্লিতে অন্তত ৩৩ শতাংশ মানুষ কোভিড আক্রান্ত হয়েছিলেন অজান্তেই এবং তাঁদের অনেকে সেরেও গেছেন। এই রোগীদের একটা বড় অংশই উপসর্গহীন অর্থাৎ রোগের কোনও বাহ্যিক লক্ষণ নেই। তাই কনট্যাক্ট ট্রেসিংয়ে এদের চিহ্নিত করাও সম্ভব হয়নি।

রক্তে আইজিজি অ্যান্টিবডি দেখে বলে দেওয়া যায় সেই ব্যক্তি সংক্রামিত কিনা। অ্যান্টিবডি টেস্ট করার এই প্রক্রিয়াকেই বলে সেরো সার্ভে। এই পরীক্ষা করলে বোঝা যায় করোনা সংক্রমণ কতজনের মধ্যে এবং কী পরিমাণে ছড়িয়েছে। গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়েছে কিনা সেটাও ধরা যায় সেরো সার্ভেতেই। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের উদ্যোগে দিল্লিতে এই সেরো সার্ভে চালাচ্ছে  ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (এনসিডিসি)। গত ২৭ জুন থেকে সেরো সার্ভে শুরু হয় দিল্লিতে। করোনার উপসর্গ রয়েছে এমন রোগী, আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা বা সংক্রমণের সন্দেহে থাকা রোগীদের অ্যান্টিবডি টেস্ট করা হয়।

প্রথম দফায় সেরো টেস্টের রিপোর্টে দেখা গিয়েছিল দিল্লিতে মাত্র ২৩.৪৮% শতাংশ মানুষের রক্তে করোনার অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। দ্বিতীয় দফার রিপোর্টে কিছুটা আশা জাগে। দেখা যায় দিল্লির জনসংখ্যার ২৯.১ শতাংশ মানুষের রক্তে অর্থাৎ প্রায় এক তৃতীয়াংশ বাসিন্দার শরীরেই করোনাভাইরাসের অ্যান্টিবডি মিলেছে। অর্থাৎ প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষের করোনা হয়ে সেরেও গিয়েছে।

গত ১ অগস্ট থেকে দিল্লিতে দ্বিতীয় দফায় সেরো সার্ভে শুরু হয়েছিল। চলেছিল ৭ অগস্ট অবধি। মোট ১৫ হাজার জনের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। সমীক্ষা বলছে, দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লিতে অন্তত ৩৩ শতাংশ মানুষের রক্তে করোনার অ্যান্টিবডি তৈরি শুরু হয়েছিল। দক্ষিণ-পশ্চিমে এই সংখ্যা কিছুটা কম, ১২.৯৫ শতাংশ।

তৃতীয় দফার সার্ভে রিপোর্টে বলা হয়েছে, ৩৩ শতাংশ মানুষের রক্তে ভাইরাস প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি পাওয়া গেছে। কিন্তু এই অ্যান্টিবডির পরিমাণ খুবই কম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রথমবার সংক্রমণ হওয়ার পরে যদি রক্তে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি হয় তাহলে দ্বিতীয়বার সংক্রমণ বা পুনঃসংক্রমণের (রিইনফেকশন) ঝুঁকি থাকে না। তবে সংক্রামিতদের রক্তে অ্যান্টিবডির পরিমাণ এত তাড়াতাড়ি কমে যাচ্ছে যে করোনার রিইনফেকশনের শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More