আবহাওয়ার ভোলবদলের আগাম বার্তা দেবে, রোহিনী স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠাল ইসরো

দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম পূর্বাভাস দিতে পারবে এই কৃত্রিম উপগ্রহ। বাতাসের গতিপ্রকৃতির হালহকিকত জানাবে। আবহাওয়া বদলের ইঙ্গিতও দেবে। রোহিনী স্যাটেলাইট পৃথিবীর কক্ষপথে পাঠাল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। এ বছরেই ইসরোর সুপার-১৪ মিশন রয়েছে। ইতিমধ্যেই ব্রাজিলের আমাজোনিয়া স্যাটেলাইট সহ একগুচ্ছ কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠিয়েছে ইসরো। নজরদারি স্যাটেলাইটও পাঠানো হয়েছে। এবার আবহাওয়া ও জলবায়ু বদলের খবর দেওয়ার জন্য রোহিনী সিরিজের স্যাটেলাইট ছাড়া হল মহাকাশে।

রোহিনী সিরিজের তিনটি স্যাটেলাই আরএইচ-২০০, আরএইচ-৩০০ ও  আরএইচ-৫৬০ লঞ্চ করছে ইসরো। রোহিনী সিরিজের রকেট উৎক্ষেপণে আগে অনেকবার ব্যর্থতা এসেছে। ইসরো চেয়ারম্যান কে শিবন বলেছেন, আগেকার সব খামতি পূরণ করে এবার সাফল্যের সঙ্গে রকেট পাঠানো সম্ভব হয়েছে। শ্রীহরিকোটার সতীশ ধবন মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র থেকে রেকটের সফল উৎক্ষেপণ হয়েছে।

১৯৭৯ সালে প্রথম রোহিনী সিরিজের স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। ৩৫ কিলোগ্রাম ওজনের এই উপগ্রহটি শ্রীহরিকোটার সতীশ ধবন মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র থেকে যাত্রা শুরু করে ১৯৭৯ সালের ১০ অগস্ট। ভারতের মাটি থেকে মহাকাশে পাড়ি জমানো এটিই প্রথম উপগ্রহ। চারটি উপগ্রহ নিয়ে স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকলের (এসএলভি) পিঠে চেপে পরীক্ষামূলক ভাবে এই উপগ্রহের উৎক্ষেপণ তো হয়েছিল, কিন্তু সঠিক কক্ষপথে সেটিকে স্থাপন করা যায়নি। ইসরোর বিজ্ঞানীরা জানিয়েছিলেন, রোহিনীর বাহক রকেটের মধ্যেই ছিল গলদ। যদিও পরবর্তীকালে রোহিনী সিরিজের আরও তিনটি উপগ্রহ আরএস-১ (৩৫ কেজি), আরএস-ডি১ (৩৮ কেজি) এবং আরএস-ডি২ (৪১.৫ কেজি) মহাকাশে পাঠাতে সফল হয়েছিল ইসরো।

Stretched Rohini Satellite Series - SROSS | Diary Store

‘পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল’ তথা পিএসএলভি রকেটে চাপিয়ে আমাজোনিয়া-১ উপগ্রহকে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এর মধ্যেই। ১৯টি কৃত্রিম উপগ্রহও নিয়ে গেছে পিএসএলভি রকেট। সেই সঙ্গেই মহাকাশে গেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ছবি ও ভগবত গীতার ডিজিটাল ভার্সন ই-গীতা। গোটা একুশ সাল জুড়েই ইসরোর একের পর এক সুপার মিশনের পরিকল্পনা আছে। গগনযানও নাকি উড়বে এ বছরের শেষেই। ইসরো প্রধান কে শিবন বলছেন, সাতটি লঞ্চ ভেহিকল মিশন আছে এ বছরেই। পৃথিবীর কক্ষে পাঠানো হবে আরও ৬টি স্যাটেলাইট। বছর শেষের সবচেয়ে বড় অভিযান হল গগনযান। এখনই মানুষ নিয়ে নয়, চলতি বছরে গগনযানের ‘আনম্যানড’ মিশনের পরিকল্পনাই করেছে ইসরো। ২০২২-২৩ সালে তিন নভশ্চরকে নিয়ে উড়ে যাবে গগনযান। তার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে বায়ুসেনার চারজন দক্ষ পাইলটকে। আপাতত তাঁদের প্রশিক্ষণ চলছে রাশিয়ায়। বাইশ সালে ফের লুনার-মিশনে নামবে ইসরো। চন্দ্রযান-২ এর খামতিগুলো কাটিয়ে চাঁদের রহস্যময় আঁধার পিঠে পাঠানো হবে চন্দ্রযান-৩ কে। তার প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গেছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More