অরণ্য বাঁচাতে ইসরোর নতুন মিশন, ব্রাজিলের আমাজোনিয়া স্যাটেলাইট পাঠাবে মহাকাশে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: একুশের প্রথম অভিযান হবে ফেব্রুয়ারিতেই। একগুচ্ছ বিদেশি  স্যাটেলাইটের সঙ্গে দেশীয় উপগ্রহও মহাকাশে পাঠাবে ইসরো। বছরের প্রথম মিশনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল আমাজোনিয়া-১ স্যাটেলাইট। ব্রাজিলের তৈরি এই কৃত্রিম উপগ্রহের উৎক্ষেপণ করবে ইসরো। সেই সঙ্গে দেশীয় সংস্থার তৈরি ‘আনন্দ’ স্যাটেলাইটও বসবে পৃথিবীর কক্ষপথে।

২৮ ফেব্রুয়ারি শ্রীহরিকোটার সতীশ ধবন মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র থেকে সকাল ১০টা ২৩ মিনিট নাগাদ পিএসএলভি-সি৫১ রকেটে চাপিয়ে মহাকাশে পাঠানো হবে ২০টি উপগ্রহকে। যার মধ্যে থাকবে ব্রাজিলিয়ান স্যাটেলাইন আমাজোনিয়া-১।

Image result for amazonia-1 satellite

ইসরো চেয়ারম্যান কে শিবন বলেছেন, নতুন মিশন মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে বড় পদক্ষেপ হতে চলেছে। বিদেশি মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলির সঙ্গে জোট বেঁধে আগামী দিনে আরও অনেক বড় অভিযানের পথে যাবে ইসরো।

Image result for amazonia-1 satellite

‘পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল’ তথা পিএসএলভি রকেটে চাপিয়ে আমাজোনিয়া-১ উপগ্রহকে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে পৌঁছে দেওয়া হবে। ব্রাজিলের বিজ্ঞান মন্ত্রকের অধীনে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ইব স্পেস রিসার্চ (আইএনপিই) তৈরি করেছে আমাজোনিয়া-১ স্যাটেলাইট। এটি মূলত নজরদারি স্যাটেলাইট। ইসরোর বিজ্ঞানীরা বলছেন, অরণ্য বাঁচাতে বড় ভূমিকা নেবে এই স্যাটেলাইট। কোথায় জঙ্গল নষ্ট করার চেষ্টা হচ্ছে, একরের পর একর গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে তার খবর দেবে এই উপগ্রহ। দাবানলের খবরও দ্রুত পৌঁছে দেবে পৃথিবীর গ্রাউন্ড স্টেশনে। দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন নদের পাশে প্রায় ৫৫ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে গড়ে উঠেছে সুবিশাল বৃষ্টি-অরণ্য (রেন ফরেস্ট) আমাজন। পৃথিবীর ২০ শতাংশ অক্সিজেনের আমদানি হয় ওই বৃষ্টি-অরণ্য থেকে। ১৬ হাজার প্রজাতির গাছ রয়েছে ওই বৃষ্টি-অরণ্যে। পরিবেশবিদরা বলেন ‘পৃথিবীর ফুসফুস’। ভয়ঙ্কর দাবানলে এই বৃষ্টি-অরণ্যের বেশিরভাগটাই নষ্ট হয়ে গেছে। ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘ইনপে’-র সমীক্ষা বলছে আমাজন বৃষ্টি-অরণ্যে ৭২,৮৪৩টি দাবানলের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর প্রকোপ আগামী দিনে আরও বাড়বে। তাই অরণ্য বাঁচাতে পদক্ষেপ নিতে হবে এখন থেকেই। সেই কাজে সাহায্য করবে আমাজোনিয়া-১ স্যাটেলাইট।

ব্রাজিলের উপগ্রহ ছাড়াও ভারতের পিক্সেল মহাকাশ গবেষণা সংস্থার তৈরি আনন্দ স্যাটেলাইট ও ইউনিটিস্যাটও মহাকাশে পাঠাবে ইসরো। ইউনিটিস্যাট হল তিনটি উপগ্রহের কম্বিনেশন যা বানিয়েছে জেপ্পিপার ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, নাগপুরের জিএইচ রাইসোনি কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং এবং কোয়েম্বত্তূরের শক্তি ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More