পুলওয়ামায় ফের সাফল্য ভারতীয় সেনার, ভোররাত থেকে গুলির লড়াইয়ে খতম দুই জঙ্গি

উপত্যকার হিজবুল কম্যান্ডার রিয়াজ নাইকু ও জইশের বোমা বিশেষজ্ঞ ফিদায়েঁ প্রশিক্ষক ফৌজি ভাই ওরফে লম্বুকে নিকেশ করা এ যাবৎ ভারতীয় বাহিনীর অন্যতম সফল জঙ্গি দমন অভিযান। এরপর থেকে উপত্যকার আনাচ কানাচে জঙ্গিদের ডেরা খুঁজে এনকাউন্টার চালিয়ে যাচ্ছে সেনাবাহিনী।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিন-ভারত প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় উত্তাপ ক্রমশই বাড়ছে। তার মধ্যেই জম্মু-কাশ্মীরে জঙ্গি নাশকতাও বেড়ে চলেছে। সোমবার সন্ধ্যায় ত্রালের বটাগুন্ড সিআরপিএফ ক্যাম্প লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছুড়েছে জঙ্গিরা। আর ভোজরাত থেকে ফের পুলওয়ামায় শুরু হয়েছে গুলির লড়াই। দুই জঙ্গিকে নিকেশ করেছে ভারতীয় সেনা। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ জানিয়েছে, জঙ্গিদমন অভিযানে ফের সাফল্য পেয়েছে ভারতীয় বাহিনী। গুলির লড়াই এখনও চলছে। জঙ্গিদের গোপন ডেরা ঘিরে রেখেছে সেনা জওয়ানরা।

উপত্যকার হিজবুল কম্যান্ডার রিয়াজ নাইকু ও জইশের বোমা বিশেষজ্ঞ ফিদায়েঁ প্রশিক্ষক ফৌজি ভাই ওরফে লম্বুকে নিকেশ করা এ যাবৎ ভারতীয় বাহিনীর অন্যতম সফল জঙ্গি দমন অভিযান। এরপর থেকে উপত্যকার আনাচ কানাচে জঙ্গিদের ডেরা খুঁজে এনকাউন্টার চালিয়ে যাচ্ছে সেনাবাহিনী। গোয়েন্দা সূত্রে খবর পেয়ে, অতর্কিতে হামলা চালানো হচ্ছে কখনও সোপিয়ান, কখনও পুলওয়ামায় জঙ্গিদের গোপন ঘাঁটিগুলিতে।  পুলওয়ামার বান্দজু এলাকায় হিজবুল মুজাহিদিনের কিছু জঙ্গি লুকিয়ে আছে বলে খবর এসেছিল গোয়েন্দা সূত্রে। তক্কে তক্কেই ছিল ভারতীয় বাহিনী। এদিন ভোর রাতে আচমকাই বান্দজুতে হামলা চালায় সিআরপিএফ ও জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের স্পেশাল টিম। সেনাদের উপস্থিতি টের পেয়ে গোপন ডেরা থেকে গুলি ছুড়তে শুরু করে জঙ্গিরা। পাল্টা জবাব দেয় সেনাও। এখনও অবধি দুই জঙ্গির খতম হওয়ার খবর মিলেছে।

আইজিপি (কাশ্মীর) বিজয় কুমার বলেছেন, চারমাসের মধ্যে লস্কর-ই-তৈবা, জইশ-ই-মহম্মদ, হিজবুল মুজাহিদিন ও আনসার ঘাজওয়াত-উল হিন্দের চার কম্যান্ডারকে নিকেশ করেছে সেনাবাহিনী। সেই সঙ্গেই খতম হয়েছে পুলওয়ামার করিমবাদ গ্রামের বাসিন্দা জইশের আর এক আগ্নেয়াস্ত্র বিশেষজ্ঞ জাহিদ মনজুর ওয়ানি এবং শোপিয়ানের বাসিন্দা মানজুর আহমেদ কর।

চলতি বছরের শুরুতেই লস্কর, জইশের একাধিক জঙ্গি নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে দেশে ঢুকেছে এমন খবর দিয়েছিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। পাক জঙ্গি সংগঠনের কয়েক কম্যান্ডারও উপত্যকায় ঘাঁটি গেড়ে রয়েছে এমন খবরও রয়েছে গোয়েন্দাদের কাছে। বিশেষ করে পুলওয়ামায় দ্বিতীয়বার গাড়িবোমা বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্য ফৌজি ভাইকে যে নিয়োগ করেছিল জইশের সেই অন্যতম শীর্ষ নেতা আবদুল রউফ আসগার ২০১৮ সালেই পাকিস্তান থেকে কাশ্মীর ঢুকে তার ডেরা তৈরি করেছে বলে খবর।  আত্মঘাতী হামলার প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য ফৌজি ভাইকে কাজে লাগিয়েছিল আসগর। এই জইশ কম্যান্ডারের নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে রয়েছে উপত্যকায়।

পুলওয়ামা ও সোপিয়ানে লাগাতার এনকাউন্টার চলছেই। গত সপ্তাহেই সোপিয়ানে চার জঙ্গিকে নিকেশ করেছে ভারতীয় বাহিনী। গত ১০ জুন একসঙ্গে পাঁচ জঙ্গিকে খতম করেছিল রাষ্ট্রীয় রাইফেলস, সিআরপিএফ ও জম্মু-কাশ্মীরের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ। তার দু’দিন আগেই সোপিয়ানের দুই জায়গায় অভিযান চালিয়ে নয় হিজবুল জঙ্গিকে নিকেশ করে বাহিনী। তাদের মধ্যে তিনজন ছিল হিজবুলের কম্যান্ডার। গত শনিবার কুলগামে দুই হিজবুল জঙ্গি সেনার গুলিতে খতম হয়েছে। গত রবিবার শ্রীনগরে এনকাউন্টারে খতম হয়েছে তিন জঙ্গি।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More