সরকারিভাবে পর্যটন চালু হয়ে গেল জম্মু-কাশ্মীরে, একাধিক ট্যুর প্যাকেজ ঘোষণা আইআরসিটিসির

এতদিনের কড়া লকডাউনের বাধা পেরিয়ে আনলক পর্বে একটু একটু করে স্বাভাবিক হচ্ছে জনজীবন। এই সময়েই পর্যটনের বিকাশে নতুন উদ্যোগ নিল ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ক্যাটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম সার্ভিস বা আইআরসিটিসি।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের পর থেকে নানা বিধি নিষেধের বেড়াজালে আটকে ছিল সেখানকার পর্যটন শিল্প। আগ্রহ থাকলেও নানা সংশয়ের কারণে ভূস্বর্গে বেড়াতে যাওয়ার ইচ্ছা এড়িয়েই চলেছিলেন পর্যটকরা। উপত্যকায় বিধিনিষেধের শৃঙ্খল আলগা হওয়ার মুখেই করোনা সংক্রমণের কারণে ফের বড় ধাক্কা আসে পর্যটনে। এতদিনের কড়া লকডাউনের বাধা পেরিয়ে আনলক পর্বে একটু একটু করে স্বাভাবিক হচ্ছে জনজীবন। এই সময়েই পর্যটনের বিকাশে নতুন উদ্যোগ নিল ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ক্যাটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম সার্ভিস বা আইআরসিটিসি।

রাজ্য বিভাজনের পরে গত বছর নভেম্বর নাগাদ পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেন চালানো শুরু হয়েছিল জম্মু-কাশ্মীরে। তবে তা ছিল সীমিত এলাকার মধ্যেই। জম্মুর বানিহাল থেকে উত্তর কাশ্মীরের বারামুলা পর্যন্ত। উপত্যকার মানুষের সুবিধার্তে কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই কাশ্মীরে ট্রেনের সফর শুরু করেছিল নর্দার্ন রেলওয়ে। তবে করোনা আবহে ফের তা বন্ধ হয়ে যায়। ব্যবসায় গতি আনতে এবং পর্যটক টানতে শীতের আগে তাই সরকারিভাবে উদ্যোগ নিল আইআরসিটিসি।

অনেকগুলো ট্যুর প্যাকেজ ঘোষণা করেছে আইআরসিটিসি। সুরক্ষা বিধি মেনে পর্যটকদের ভূস্বর্গ ভ্রমণের আশা পূরণ করতে চার রকমের প্যাকেজ চালু করা হচ্ছে। পাঁচ রাত ছ’দিনের জন্য ‘ডিসকভার আমেজিং কাশ্মীর’ । মাছা পিছু খরচ হবে ৯ হাজার ৮৮৫ টাকা। কাশ্মীরের সঙ্গে বৈষ্ণো দেবীর দুটি প্যাকেজ রয়েছে যার খরচ মাথাপিছু ১৩ হাজার ৭৫০ টাকা এবং ১৪ হাজার ৭৬০ টাকা। তাছাড়া গোটা উপত্যকা ভ্রমণের আট রাত ন’দিনের প্যাকেজ রয়েছে। যার খরচ মাথাপিছু ১৬ হাজার ৯০০ টাকা।

গত ৫ অগস্ট সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল ও জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা রদ করে  নরেন্দ্র মোদী সরকার। তার পর থেকেই উপত্যকায় নিয়ন্ত্রণের কড়াকড়ি শুরু করা হয়। জারি করা হয় কার্ফু। বন্ধ করে দেওয়া হয় টেলিফোন-মোবাইল পরিষেবা। তালা পড়ে যায় স্কুল-কলেজ ও সরকারি অফিসে। পর্যটকদের উপত্যকা খালি করে দিতে বলা হয়। বন্ধ হয়ে যায় ট্রেন পরিষেবাও। এরপর ধীরে ধীরে যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় কেন্দ্রীয় সরকার। উপত্.কাকে স্বাভাবিক ছন্দে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। করোনা আবহে ফের জনজীবন স্তব্ধ হলেও আনলক পর্বে বেশ কিছু স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়া হয়েছে। যদিও স্কুল কলেজের বাইরে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। সরকারি সূত্রে জানানো হয়, বিশেষ মর্যাদা লোপের আগে জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় তীর্থযাত্রী ও পর্যটকদের সে রাজ্য ছাড়ার যে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। পর্যটকের আনাগোনা নিষিদ্ধ হওয়ায় এতদিন বিপাকে পড়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। এবার তাদের মুখে হাসি ফুটবে বলেই আশা।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More