১০ নভেম্বরের পর থেকে দিল্লিতে কোভিড সংক্রমণ কমছে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে কেজরিওয়াল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের আটটি রাজ্যের কোভিড পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। তাই এই আট রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই বৈঠকে রয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালও। আর বৈঠকে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, ১০ নভেম্বর দিল্লিতে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা শিখর ছুয়েছিল। তারপর থেকে তা ফের কমতে শুরু করেছে।

এদিনের বৈঠকের প্রধান লক্ষ্য এই আট রাজ্যে কেন সংক্রমণ বাড়ছে সে বিষয়ে আলোচনা করে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া। করোনা মোকাবিলায় রাজ্যগুলির কোনও সাহায্যের প্রয়োজন কিনা সে বিষয়েও আলোচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী।কেজরিওয়াল ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও রয়েছেন এই বৈঠকে। এছাড়া মহারাষ্ট্র, কেরল, রাজস্থান, ছত্তীসগড়, হরিয়ানা ও গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রীরাও রয়েছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডক্টর হর্ষ বর্ধনও রয়েছেন এই বৈঠকে। 

আর সেখানেই নিজের রাজ্যের কথা বলতে গিয়ে কেজরিওয়াল বলেন, “দিল্লিতে করোনা সংক্রমণের তৃতীয় ওয়েভ শুরু হওয়ার পরে গত ১০ নভেম্বর সবথেকে বেশি ৮৬০০ দৈনিক সংক্রমণ দেখা গিয়েছিল। তারপর থেকে আক্রান্তের সংখ্যা ও পজিটিভিটি রেটে একটা নিম্নমুখী গ্রাফ লক্ষ্য করা গেছে। আমরা আশা করছি এই ট্রেন্ড বজায় থাকবে।”

গত ২৪ ঘণ্টায় দিল্লিতে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ৪৪৫৪। নতুন করে ১২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। অবশ্য সেইসঙ্গে নমুনা টেস্টের সংখ্যাও কমেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে ৩৭ হাজার নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

অবশ্য এদিনের বৈঠকে কেজরিওয়াল আরও বলেন, আক্রান্তের সংখ্যা কমলেও তৃতীয় ওয়েভ শুরু হওয়ার পর থেকে দিল্লিতে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। সেইসঙ্গে নতুন আক্রান্তদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সংখ্যাও বাড়ছে। এই পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছেন তিনি।

কেজরি বলেন, “তৃতীয় ওয়েভে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার পিছনে অনেকগুলি কারণ রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হল দূষণ।” আর তার অন্যতম কারণ হল পার্শ্ববর্তী হরিয়ানা ও পাঞ্জাবে খড়কুটো পোড়ানো। প্রতি বছর এই সমস্যা থেকে দিল্লিবাসীকে রেহাই দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে হস্তক্ষেপ করার আবেদন করেছেন তিনি।

এই সময়ে কেন্দ্রীয় সরকারের হাসপাতালগুলিতে কোভিড রোগীদের জন্য অন্তত ১০০০ আইসিইউ বেড প্রস্তুত করে রাখার আবেদনও করেছেন কেজরিওয়াল। তারমধ্যে ইতিমধ্যেই ডিআরডিও হাসপাতালে ৭৫০ কোভিড আইসিইউ বেড বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

দিল্লিতে কোভিডের তৃতীয় ওয়েভ শুরু হওয়ার পর থেকে গত ১ নভেম্বর থেকে এখনও পর্যন্ত ১ লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। যদিও পজিটিভিটি রেট মাসের শুরুতে ১৪ শতাংশ থেকে কমে ১১ শতাংশ হয়েছে। কিন্তু তারপরেও তা জাতীয় পজিটিভিটি রেটের (৩.৫ শতাংশ) থেকে প্রায় তিনগুণ বেশি।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More