কেরলের নিমিশা এখন প্রশিক্ষিত আইএস জঙ্গি ফতিমা, ছেলের হাতেও ধরিয়েছে বন্দুক

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাড়ি ছাড়া হয়েছিল বহু বছর। এরপর মেয়ের আর কোনও খোঁজ পাননি মা বিন্দু সম্পথ। দিনকয়েক আগে গোয়েন্দা অফিসারদের হাতে মেয়ের ছবি দেখে চমকে ওঠেন বিন্দু। সেই মুখ, সেই চেহারা তবে পরনে হিজাব, নামও বদলেছে। পাশে স্বামীর ছবি। মেয়ে আইএস জঙ্গি। আফগানিস্তানের আইএস ডেরায় সংসার পেতেছে। একমাত্র ছেলের হাতেও বন্দুক ধরিয়ে দিয়েছে শৈশবেই।

কেরলের নিমিশা আফগানিস্তানে গিয়ে হয়েছে ফতিমা। সহজ সুরল মুখে এখন কাঠিন্য। কত মানুষকে হত্যা করেছে কে জানে! মেয়ের ছবি হাতে এনআইএ-কে বিন্দু বলেছেন পড়াশোনায় মেধাবী ছিল নিমিশা। শ্রীলঙ্কার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে গিয়েছিল। তাঁকে জানিয়েছিল সেখানে ধর্মীয় বিষয়ের উপর পড়াশোনা করছে। বাড়িতেও এসেছিল বারকয়েক। একদিন আচমকাই নিখোঁজ হয়ে যায় নিমিশা। অভিযোগ ওঠে, তাকে জোর করে বিয়ে করেছে এক মুসলিম যুবক।

জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, নিমিশা নিখোঁজ হয়েছিল ২০১৬ সালে। তার পরিবার তখন অভিযোগ করেছিল, মেয়েকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে গেছে কোনও মুসলিম যুবক। ধর্মান্তরিত করার চেষ্টাও হয়েছে তাকে। অনেক তল্লাশির পরেও নিমিশার কোনও খোঁজ পায়নি পুলিশ।

গোয়েন্দাদের অনুমান, শ্রীলঙ্কায় ধর্মান্তরিত করে নিমিশার নাম বদলে রাখা হয় ফতিমা। আইএস জঙ্গি বেক্সিনের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দু’জনকেই নিয়ে যাওয়া হয় আফগানিস্তানের আইএস ডেরায়। সেখানেই চলে জঙ্গি প্রশিক্ষণ। এমনকি খবর এও মিলেছে যে বর্তমানে ফতিমার একমাত্র ছেলেকেও জঙ্গি তালিম দেওয়া হচ্ছে।

দিনকয়েক আগেই আফগানিস্তানের নানগারহারে আত্মসমর্পণ করে ইসলামিক স্টেটের প্রায় ৯০০ জঙ্গি। আফগান ন্যাশনাল সিকিউরিটি ফোর্স জানায়, নানগারহারে কয়েক বছর ধরেই আইএসের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছিল বাহিনী। গত বছর নভেম্বরে ৯৩ জন আইএস জঙ্গি আত্মসমর্পণ করে যাদের মধ্যে ১৩ জন ছিল পাকিস্তানি। এ বছর সেই সংখ্যা ৯০০। এই জঙ্গিদের বেশিরভাগই পাকিস্তানের বাসিন্দা। কিছু ভারতীয়, মূলত কেরলের বাসিন্দা। এই জঙ্গিদের নাম, পরিচয় বার করতে গিয়েই ফতিমা ও তার পরিবারের ছবি পান গোয়েন্দারা। তবে ফতিমা আত্মসমর্পণ করেছে কি না সেটা এখনও জানা যায়নি।

গোয়েন্দা সূত্র জানাচ্ছে, আইএসে যোগ দিতে গত কয়েক বছরে কেরল থেকে বেশ কিছু যুবক-যুবতী সিরিয়া এবং ইরাক রওনা দিয়েছে। ২০১৬ সালের মে মাসে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে মোট ২১ জন সিরিয়া গিয়ে আইএসে যোগ দেয় বলে দাবি গোয়েন্দাদের।  ২০১৬-র ডিসেম্বর থেকে ২০১৭-র জানুয়ারির মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আরও একদল কেরলের নাগরিক রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হয়ে যায়। সিরিয়ায় বোমা বর্ষণ করে মার্কিন যৌথ বাহিনী আইএসের ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিলে তাদের বেশিরভাগেরই মৃত্যু হয় বলে ধারণা। কিন্তু মার্কিন যৌথ বাহিনীর তাড়া খেয়ে ক্রমশ দক্ষিণ এশিয়ায় আইএসের শিকড় ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দারা, শ্রীলঙ্কায় হামলার পর যা  নিয়ে আর কোনও সন্দেহ নেই।

আরও পড়ুন:

আফগানিস্তানে আত্মসমর্পণ ৯০০ আইএস জঙ্গির, উদ্ধার ১০ জন ভারতীয় মহিলা ও শিশু

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More