কোভিড টিকার দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পরেই মৃত্যু মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্যকর্মীর, কারণ অজানা, বলছেন চিকিৎসকরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশজুড়ে জোর কদমে চলছে কোভিড টিকাকরণ। বেশ কিছু জায়গায় দেখা গিয়েছে কোভিডের টিকা নেওয়ার পরে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন কেউ কেউ। কিন্তু কেন্দ্রের তরফে বারবার বলা হয়েছে, এই টিকা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত। এবার মহারাষ্ট্রে কোভিড টিকার দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পরেই মৃত্যু হয়েছে এক স্বাস্থ্যকর্মীর। যদিও তাঁর মৃত্যুর কারণ এখনও অজানা, এমনটাই বলছেন চিকিৎসকরা।

জানা গিয়েছে, ৪৫ বছরের ওই স্বাস্থ্যকর্মীর নাম সুখদেব কিরদাত। তাঁর বাড়ি ভিওয়ান্ডিতে। একজন চক্ষু চিকিৎসকের গাড়ির ড্রাইভার ছিলেন তিনি। মঙ্গলবার কোভিড টিকার দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পরে পর্যবেক্ষণ রুমে ছিলেন তিনি। ১৫ মিনিট পরে সেখানেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান সুখদেব।

সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে কাছেই ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। দুই সন্তানের পিতা সুখদেবের মৃত্যুর কারণ কী, সেই বিষয়ে অবশ্য এখনও কিছু জানা যায়নি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সুখদেবের দেহের ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে। রিপোর্ট হাতে পেলে তবেই বোঝা যাবে কী কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

একজন স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে গত ২৮ জানুয়ারি কোভিড টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছিলেন সুখদেব। হাসপাতালের এক চিকিৎসক কে আর খারাট জানিয়েছেন, “এক মাস আগে উনি প্রথম ডোজ নিয়েছিলেন। তখন কোনও সমস্যা হয়নি। দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার আগে তাঁর শরীরের পরীক্ষা করা হয়েছিল। আমরা জানতে পেরেছি অনেক বছর ধরেই প্রেশার ছিল তাঁর। মাঝেমধ্যেই তাঁর পা ফুলে যেত। কিন্তু ডোজ দেওয়ার আগে তাঁর প্রেশার ও অক্সিজেনের মাত্রা স্বাভাবিক ছিল।”

খারাট আরও জানান, “কী কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে সেটা এখনই বলা মুশকিল। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পরেই এই বিষয়ে কিছু বলা যাবে।”

ভারতে গত ১৬ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে কোভিড টিকাকরণ। প্রথমে স্বাস্থ্যকর্মী ও ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কারদের দেওয়া হয়েছে টিকা। তারপরে দ্বিতীয় ধাপে গত ১ মার্চ থেকে ৬০ বছরের বেশি বয়সী ও ৪৫ বছরের বেশি বয়সী যাদের মধ্যে কো-মর্বিডিটি রয়েছে তাদের দেওয়া হচ্ছে টিকা। অগস্ট মাসের মধ্যে ৩০ কোটি ভারতীয়কে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে কেন্দ্র। এখনও পর্যন্ত মোট ১ কোটি ৫৬ লাখ ২০ হাজার ৭৪৯ জনকে কোভিড ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় টিকা পেয়েছেন ৭ লাখ ৬৮ হাজার ৭৩০ জন।

কোভিড টিকাকরণ শুরু হওয়ার পরেই বেশ কিছু রাজ্য প্রশ্ন তুলেছিল টিকার সুরক্ষা নিয়ে। কিছু জায়গায় টিকা নেওয়ার পরে অনেককে অসুস্থ হয়ে পড়তেও দেখা যায়। বেশি প্রশ্নের মুখে পড়ে ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিন। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই ভ্যাক্সিন নিতে অস্বীকার করেন দিল্লির চিকিৎসকদের একাংশ। যদিও ১ মার্চ নিজে কোভ্যাক্সিন টিকা নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একই টিকা নিতে দেখা গিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডক্টর হর্ষ বর্ধনকেই। তাঁরা জানিয়েছেন, এই টিকা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত।

কিন্তু দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পরেই মহারাষ্ট্রের এই স্বাস্থ্যকর্মীর মৃত্যুতে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More