ভ্যাকসিনের দুটো ডোজ নেওয়ার পরেও কেন মাস্ক পরতে হবে, বোঝালেন এইমসের ডিরেক্টর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ নেওয়া হয়ে গেছে। তারপরেই আপনি মনে করলেন কোনও ভয় নেই, আপনি একদম সুরক্ষিত। মাস্ক খুলে বেপরোয়া হয়ে গেলেন, তাহলেই কিন্তু বিপদ। দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্স (এইমস)-এর ডিরেক্টর ডক্টর রণদীপ গুলেরিয়া বলছেন, টিকার দুটি ডোজ নেওয়া মানেই করোনা থেকে রেহাই পেলেন এমনটা কিন্তু নয়। বরং একইভাবে কোভিড বিধি মেনে চলতে হবে। মাস্ক পরতে হবে, পারস্পরিক দূরত্বও বজায় রাখতে হবে।

মারণ ভাইরাস থেকে বাঁচতে এতদিন ভ্যাকসিন ভ্যাকসিন করে লাফালাফি হচ্ছিল। টিকা এসে যাওয়ার পরে বলা হচ্ছে, ডোজ নেওয়ার পরেও পুরোপুরি বিপদ কাটবে না। কেন এমন বলছেন বিশেষজ্ঞরা, আমজনতার প্রশ্ন সেটাই।

ডক্টর গুলেরিয়া বলছেন, সাবধানে কেন থাকতে বলা হচ্ছে তার অনেক কারণ আছে। প্রথমত, এই ভাইরাস খুব চালাক। ঝটপট নিজের চেহারা বদলে ফেলতে পারে। সব ভাইরাসই তার জিনের গঠন বিন্যাস বদলায়, কিন্তু করোনাভাইরাস বেশি কৌশলী। কারণ মানুষের শরীরে সংক্রমিত হওয়ার উপায় জানে এই ভাইরাস। শরীরে ঢুকে কোন কোন কোষে বাসা বাঁধতে পারে তা পুরোপুরি রপ্ত করে ফেলেছে সার্স-কভ-২। শুধু তাই নয়, এক শরীর থেকে অন্য শরীরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার জন্য জিনের গঠন বদলেই যাচ্ছে করোনা। এক প্রজাতি থেকে অন্য প্রজাতিতে রূপান্তরিত হচ্ছে খুব কম দিনের মধ্যেই। প্রতিটি নতুন প্রজাতি সুপার-স্প্রেডার মানে আগেরটির থেকে বেশি ছোঁয়াচে। তাই ভয়ের কারণ রয়েছেই। হতেই পারে আপনি ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ নেওয়ার পরে ফের ভিড়ের মধ্যে গিয়েছেন। আর ভাইরাসও সেই সুযোগে শরীরে ঢুকে পড়েছে। ভ্যাকসিন যতদিনে তার কাজ শুরু করে অ্যান্টিবডি তৈর করবে, ততদিনে হয়ত নাক-গলা থেকে ভাইরাস ফুসফুসে ঢুকে যাবে। তখন বিপদ বাড়বে।

দ্বিতীয়ত, করোনাভাইরাসকে প্রথম যে রূপে দেখা গিয়েছিল, এখন তা বদলে গেছে। ভোলবদল হয়ে গেছে ভাইরাসের। এদিকে বিজ্ঞানীরা সার্স-কভ-২ ভাইরাসের আগের স্ট্রেন বিশ্লেষণ করেই ভ্যাকসিন বানিয়েছেন। যদিও গবেষকদের দাবি, ভ্যাকসিনের ফর্মুলা এমনভাবে তৈরি যে করোনার বেশ কিছু প্রজাতিকে আটকানো সম্ভব। কিন্তু ভারতী প্রজাতি বা ডবল ভ্যারিয়ান্ট নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। দেশের বেশিরভাগ রাজ্যেই করোনার এই ছোঁয়াচে প্রজাতি (বি.১.৬১৭) ছড়িয়ে পড়েছে। বিজ্ঞানীরা আবার বলেছেন, এই ডবল ভ্যারিয়ান্ট একা নয়, এর তিন উপ-প্রজাতিও ছড়িয়েছে দেশের নানা প্রান্তে। সেই তিন উপ-প্রজাতি আবার আরও বেশি সংক্রামক। দ্রুত মানুষের শরীরে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। আর চিন্তার ব্যাপার হল, এই স্ট্রেনগুলোকে ভ্যাকসিন নিয়ে নিষ্ক্রিয় করা যাবে কিনা তা সঠিকভাবে বলতে পারছেন না গবেষকরা। এর জন্য আরও লম্বা গবেষণার দরকার। তাই সেই সময়টুকু বাঁচতে হলে নিজেদেরই সতর্ক থাকতে হবে।

গুলেরিয়া বলছেন, মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক, প্রয়োজনে ডবল মাস্কিং করতে হবে। সোশ্যাল ডিস্টেন্সিং জরুরি। ভিড়-জমায়েত এড়িয়ে চলতে হবে। ভ্যাকসিন নেওয়ার পরেও কঠোর ভাবে কোভিড বিধি মেনে চলতে হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রক যে গাইডলাইন দিয়েছে সেটা অক্ষরে অক্ষরে মানতে হবে। নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে পারলেই চারপাশের বাকি লোকজনও সুরক্ষিত থাকবেন। ভাইরাস যত কম বংশবৃদ্ধি করতে পারবে ততটাই দ্রুত সে দুর্বল হতে শুরু করবে। আর হিউম্যান ট্রান্সমিশন বেশি হলেই মিউটেশন বা জিনগত বিন্যাসের বদল বেশি হবে। আরও বেশি প্রাণঘাতী হয়ে উঠবে ভাইরাস।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More