পাঁচ বছরের নীচে শিশুদের মাস্ক পরানো ঠিক নয়, কী কী নিয়ম মানতে হবে গাইডলাইন দিল কেন্দ্রীয় সংস্থা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাঁচ বছরের নীচে শিশুদের মাস্ক পরিয়ে রাখা ঠিক নয়। নিষেধ করল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের অধীনস্থ সংস্থা ডিরেক্টরেট জেনারেল অব হেলথ সার্ভিস (ডিজিএইচএস)। কেন্দ্রীয় সংস্থার সংশোধিত নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ৬ থেকে ১১ বছর বয়সীদের ফেস-মাস্ক পরানো যেতে পারে। কিন্তু পাঁচ বছরের শিশুদের মাস্ক পরাতে হলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বাবা-মায়েদেরও খেয়াল রাখতে হবে।

ছোট বাচ্চারা দীর্ঘক্ষণ মাস্ক পরে থাকলে তাদের শ্বাসের সমস্যা হতে পারে। মুখ ও নাকের চারপাশের ঘাম জমে র‍্যাশ হতে পারে। অপরিষ্কার হাতে বার বার মাস্ক টানাটানি করলে বিপদ আরও বাড়বে। সেক্ষেত্রে অভিভাবকদের বিশেষ খেয়াল রাখতে বলেছেন কেন্দ্রীয় সংস্থার বিশেষজ্ঞরা। একান্তই যদি মাস্ক পরানোর দরকার হয়, তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ মেনে কী ধরনের মাস্ক, কতক্ষণ পরাতে হবে, এইসব জেনে নেওয়াই ভাল।

কোভিডের তৃতয় ঢেউ এলে শিশুরাই যে সংক্রমিত হবে এমন তথ্য মেলেনি, এ কথা স্পষ্ট করেই বলেছেন দিল্লি এইমসের প্রধান ডক্টর রণদীপ গুলেরিয়া। তাঁর বক্তব্য ছিল, বাচ্চারা কোভিড আক্রান্ত হলেও সংক্রমণ মৃদু থাকবে। কোনও জটিল রোগের আশঙ্কা তেমন নেই। গুলেরিয়া দাবি করেছেন, করোনাজনিত জটিল অসুখ নিয়ে যে শিশু ও কমবয়সীরা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, তাদের অন্যান্য রোগ আগে থেকেই ছিল। তাই অযথা আতঙ্ক ছড়ানোর কারণ নেই বলেই জানিয়েছেন তিনি।

শিশুদের সুরক্ষার জন্য কী কী করণীয় সে নিয়ে নতুন গাইডলাইন দিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা ডিজিএইচএস। সেই গাইডলাইনে বলা হয়েছে—

পাঁচ বছরের নীচে বাচ্চাদের মাস্ক পরাতে হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

১৮ বছরের নীচে শিশু ও কমবয়সীদের কোনওভাবেই করোনার ওষুধ রেমডেসিভির দেওয়া যাবে না। অন্য কোনও অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধ খাওয়াতে হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

কোভিড সংক্রমণে কোনও জটিল রোগ দেখা দিলে বা প্রদাহজনিত রোগের কারমে হাসপাতালে ভর্তি করতে হলে তবেই নির্দিষ্ট ডোজে স্টেরয়েড দেওয়া যাবে। তাছাড়া শিশু ও কমবয়সীদের কোনওভাবেই স্টেরয়েড বা কর্টিকোস্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ দেওয়া চলবে না।

উপসর্গহীন বা মৃদু সংক্রমণের ক্ষেত্রে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধ বা প্রোফ্যাইল্যাক্টিক ওষুধ দেওয়া যাবে না। ভাইরাল লোড খুব বেশি হলে তবেই চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধ দেওয়া যেতে পারে, তবে ন নির্দিষ্ট ডোজে।

মৃদু সংক্রমণের ক্ষেত্রে শিশুদের জ্বর হলে প্যারাসিটামলের ডোজ দেওয়া যেতে পারে। জ্বর, শুকনো কাশি ইত্যাদি লক্ষণ দেখা গেলে ১০-১৫ মিলিগ্রাম প্রতি কেজি ডোজে প্যারাসিটামল দেওয়া যেতে পারে বাচ্চাদের। তাছাড়া নুন জলে গার্গল করালে ভাল।

হাত ধোওয়া, পারস্পরিক দূরত্ব মেনে চলার দিকে নজর রাখতে হবে। পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে হবে শিশুদের।

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More