‘হয়তো এটাই শেষ গুড মর্নিং’, ফেসবুক পোস্ট করার ৩৬ ঘণ্টা পরেই মৃত্যু করোনা আক্রান্ত ডাক্তারের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শেষরক্ষা হল না। মৃত্যুকে জয় করতে পারলেন না ডাক্তার। বহু মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছেন, সুস্থ করেছেন যিনি, নির্মম মৃত্যুর হাতে অসহায় বন্দি হতে হল তাঁকেই। মৃত্যু দরজায় কড়া নাড়ছে তার শব্দ শুনেছিলেন, কিন্তু ঠেকাতে পারলেন কই? কোভিড কেড়ে নিল প্রাণ।

মহারাষ্ট্রের সেওরি টিবি হাসপাতালের টিউবারকিউলোসিস বিশেষজ্ঞ ডক্টর মনীষা যাদবের মৃত্যু হয়েছে কোভিড সংক্রমণে। তাঁর সহকর্মীরাই জানিয়েছেন, করোনার সব উপসর্গগুলোই ধরা পড়ছিল একে একে। শারীরিক অস্বস্তিটাও বেড়ে চলেছিল। নিজে ডাক্তার, তাই কী হতে চলেছে তার আভাস পেয়েছিলেন। বুঝেছিলেন, নিজেকে বাঁচানো হয়তো আর সম্ভব নয়। শ্বাস যখন ক্রমেই ফুরিয়ে আসছে ফেসবুক পোস্ট করে ডাক্তার লিখেছিলেন, ‘হয়তো এটাই আমার শেষ গুড মর্নিং’। সেই আশঙ্কাই সত্যি হল। পোস্ট করার পরে ৩৬ ঘণ্টাও কাটল না। সংক্রমণজনিত রোগে ভুগে মৃত্যু হল ডক্টর মণীষার।

“হয়তো আর আপনাদের সঙ্গে দেখা হবে না। এই প্ল্যাটফর্মে আর আসা হবে না। দেহের মৃত্যু হয়, কিন্তু আত্মা অমর। সকলে ভাল থাকবেন”, ডাক্তারের শেষ কয়েকটা কথা বুকে গিয়ে বিঁধেছে নেটিজেনদের। এই পোস্ট এখন ভাইরাল। সোশ্যাল মিডিয়ারও দেওয়ালও শোকে ভারী হয়েছে। বহু মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে মনে করছেন তাঁকে।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের ভয়ঙ্কর ছবিটা ধরা পড়েছে মহারাষ্ট্রে। গত বছর যেমন হয়েছিল, এ বছর সংক্রমণের গতিটা আরও বেশি। হাসপাতাল-নার্সিংহোমে তিল ধারণের জায়গা নেই। শ্বাসকষ্ট হলে অক্সিজেন সাপোর্ট নেই, ভেন্টিলেটরের যোগানও কম। রোগীদের চিকিৎসা করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন ডাক্তার-নার্সরা। মুম্বইয়ের আর একজন ডাক্তার ত্রুপ্তি গিলাডাকে ফেসবুক লাইভে এসে হাউহাউ করে কাঁদতে দেখা গিয়েছে। সংক্রামক বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ত্রুপ্তি কোভিড রোগীদের চিকিৎসা করছেন। দিনরাতে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রোগীদের সঙ্গে থাকছেন, মৃত্যু দেখছেন নিজের চোখে। ডাক্তার সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ করে বলেছেন, “কী ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মধ্যে আছি আপনাদের বলে বোঝাতে পারব না। বাকি সব ডাক্তারদের মতো আমিও সঙ্কটে। কী করব, কী করা উচিত বুঝতে পারছি না। অসহায় হয়ে পড়েছি। যদি সকলকে পরিস্থিতিটা বোঝাতে পারতাম, তাহলে মানসিক শান্তি পেতাম।”

ডাক্তার ত্রুপ্তি মহারাষ্ট্রের করোনা পরিস্থিতির যে ছবিটা তুলে ধরতে চেয়েছেন তা দিনকয়েক আগেই দেখা গিয়েছিল মুম্বইবাসী আরও একজনের ফেসবুক পোস্টে। করোনা আক্রান্ত অসুস্থ বাবাকে নিয়ে হাসপাতালের দোরে দোরে ঘুরেও বেড পাননি অসহায় ছেলে। মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন হাসপাতাল শুধু নয়, বৃদ্ধ বাবাকে নিয়ে ছুটেছিলেন তেলঙ্গানাতেও। সেখান থেকেও খালি হাতে ফিরতে হয়েছিল তাঁকে। বলেছিলেন, হাসপাতালের মেঝেতেও জায়গা নেই। উপচে পড়ছে রোগীর ভিড়। হাসপাতালে বাইরে অ্যাম্বুল্যান্সে, ভ্যানে বহু রোগী ভর্তির জন্য অপেক্ষা করছে। কীভাবে মানুষের প্রাণ বাঁচবে সেটাই এখন বুঝতে পারছেন না কেউই।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More