মুম্বই, কেরলে কোভিডের নতুন স্ট্রেনের আশঙ্কা, শুরু ‘মাইক্রো লেবেল মনিটরিং’

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত এক সপ্তাহ ধরে দেশে কোভিড সংক্রমণ বাড়ছে। আর এই বৃদ্ধির অন্যতম কারণ মহারাষ্ট্র ও কেরলে সংক্রমণ বৃদ্ধি। এই দুই রাজ্য সহ পাঁচ রাজ্যকে কড়া সুরক্ষাবিধি পালন করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। এর মধ্যেই মহারাষ্ট্র ও কেরল থেকে ৮০০ থেকে ৯০০ নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। কোভিডের নতুন স্ট্রেনের আশঙ্কায় জেনম সিকুয়েন্সিং করে দেখা হচ্ছে এই নমুনাগুলিকে।

জানা গিয়েছে, পাঞ্জাব ও বেঙ্গালুরু থেকেও নমুনা চেয়ে পাঠানো হয়েছে। জেনম সিকুয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে এই নমুনাগুলির গঠন পর্যালোচনা করবেন বিজ্ঞানীরা। আগামী তিন থেকে চারদিনের মধ্যে পরিষ্কার হয়ে যাবে এই রাজ্যগুলিতে কোভিডের কোনও নতুন স্ট্রেন ছড়িয়েছে কিনা। এখনও অবধি দেশে প্রায় ৬ হাজার নমুনার জেনম সিকুয়েন্সিং করা হয়েছে বলে খবর।

প্রশাসন এখনও নিশ্চিত নয় যে কেরল ও মহারাষ্ট্রে কোভিডের কোনও নতুন স্ট্রেনের দেখা মিলেছে কিনা। তাই কেরল ও মুম্বইয়ে মাইক্রো লেবেল মনিটরিং শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক। নতুন কোনও এলাকায় কোভিড ক্লাস্টার তৈরি হয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।

কেন্দ্র অবশ্য স্বীকার করে নিয়েছে ভারতে জেনম সিকুয়েন্সিংয়ের পরিমাণ অনেক কম হচ্ছে। আগামী দিনে তা আরও বাড়াতে হবে। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ বা আইসিএমআর-এর কোভিড টাস্কফোর্সের প্রধান ডক্টর এন কে অরোরা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “ভারতে এই মুহূর্তে ১০টি ল্যাবরেটরিতে জেনম সিকুয়েন্সিং করে দেখা হয়। কিন্তু সেটা পর্যাপ্ত নয়। আমরা প্রতিদিন আক্রান্তের অন্তত ৫ শতাংশের জেনম সিকুয়েন্সিং করে দেখতে চাই। দুটো দিক আমাদের দেখতে হবে। একটা হল বিদেশ থেকে করোনার কোনও নতুন স্ট্রেন ভারতে এসেছে কিনা। দ্বিতীয় দেশের মধ্যেই কোনও নতুন স্ট্রেন তৈরি হচ্ছে কিনা।”

তবে ইউরোপের দেশগুলির মতো ভারতে ব্রিটেনের নতুন স্ট্রেন খুব একটা বেশি ছড়ায়নি। ভারতে ১৮৭ জনের মধ্যে এই ব্রিটেনের স্ট্রেন দেখা দিয়েছে। এছাড়া ভারতে ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকার স্ট্রেনও দেখা দিয়েছে। চারজনের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার ও একজনের মধ্যে ব্রাজিলের স্ট্রেন দেখা গিয়েছে।

ইতিমধ্যেই মহারাষ্ট্র, কেরল, গোয়া, অন্ধ্রপ্রদেশ ও চণ্ডীগড়কে নতুন অ্যাকশন প্ল্যান দিয়েছে কেন্দ্র। তার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হল, প্রতিটি রাজ্যকে বলা হয়েছে প্রতিদিন আক্রান্তদের জেনম সিকুয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে ভাইরাসের ধরন খেয়াল রাখতে হবে। সেইসঙ্গে কোথাও ক্লাস্টার তৈরি হচ্ছে কিনা সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে প্রশাসনকে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More