শনিবার, ফেব্রুয়ারি ১৬

চিটফান্ড বন্ধ করতে কড়া আইন আনছে মোদী সরকার, সংশোধিত বিলে অনুমোদন মন্ত্রিসভার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: উনিশের ভোটের আগে চিটফান্ড কেলেঙ্কারির তদন্ত নিয়ে বাংলার রাজনীতি যখন ফের গরম হয়ে উঠেছে, তখন বুধবার নয়া ঘোষণা করল নরেন্দ্র মোদী সরকার।

এ দিন সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক ছিল। তার পর ক্যাবিনেটের তরফে সাংবাদিক বৈঠক করে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ জানান, চিটফান্ড বন্ধ করতে কঠোর আইন প্রনয়ণের জন্য মন্ত্রিসভার অর্থ বিষয়ক কমিটি অনুমোদন দিয়েছে। ‘ব্যানিং অব আনরেগুলেটেড ডিপোজিট স্কিম বিল ২০১৮’ সংসদের চলতি অধিবেশনেই পেশ ও পাশ করানো হবে।

কী রয়েছে ওই বিলে?

কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী জানান, সরকার ক্ষুদ্র অর্থলগ্নি সংস্থাগুলির একটি অনলাইন ডেটাবেস তৈরি করবে। ওই ডেটাবেসের বাইরে যদি কোনও প্রতিষ্ঠান বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ মানুষের থেকে টাকা জমা নেওয়ার চেষ্টা করে, তা হলে তাদের বিরুদ্ধে প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাদের তৎক্ষণাৎ গ্রেফতার করা হতে পারে। যদি কোনও সেলিব্রিটি এমন কোনও প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাস্যাডর হন, তা হলে তাঁকেও গ্রেফতার করা হবে। তার পর ওই সংস্থার সমস্ত সম্পত্তি বিক্রি করে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, বাংলায় যখন চিটফান্ডের রমরমা চলছিল তখন টলিউডের অনেক সেলিব্রিটি ব্র্যান্ড অ্যাম্বাস্যাডর হয়েছিলেন।

কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী জানান, দেশে বহু ক্ষুদ্র অর্থলগ্নি সংস্থা রয়েছে যাঁরা সরকারের নিয়ম মেনে নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করছেন। তাদের বন্ধ করা হবে না। তবে তাদেরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মধ্যে রাখা হবে। এই সব সংস্থার নাম অনলাইন ডেটাবেসে থাকবে।

প্রস্তাবিত ওই বিল গত বছর সংসদে পেশ করেছিল মোদী সরকার। তার পর তা স্থায়ী কমিটির বিবেচনার জন্য পাঠানো হয়। স্থায়ী কমিটির কিছু সুপারিশ সরকার মেনে নিয়েই বিল চূড়ান্ত করেছে।

এ দিন সাংবাদিক বৈঠকে রবিশঙ্কর প্রসাদ আরও জানান, ২০১৪ সালে সরকার চিটফান্ড কাণ্ডে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল। তার পরেও গত তিন বছরে বেআইনি ১৬৬ অর্থলগ্নি সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা করেছে সিবিআই। এর মধ্যে বেশির ভাগই পশ্চিমবঙ্গে কারবার শুরু করেছিল। তার পরেই রয়েছে ওড়িশা।

পর্যবেক্ষকদের মতে, উনিশের ভোটের আগে বাংলার মানুষকে বার্তা দেওয়ার জন্যই এই বিল প্রনয়ণ করতে তড়িঘড়ি করছে মোদী সরকার। লোকসভা ভোটে বাংলার উপর মোদী-অমিত শাহদের যে বিশেষ নজর রয়েছে তা নিয়ে সন্দেহ নেই। ইতিমধ্যে চিটফান্ড তদন্তে নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে সিবিআই ও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। পরশু তথা ৮ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী ফের বাংলায় প্রচারে আসছেন। তার আগে কৌশলে এই ঘোষণা করে দেওয়া হল। সন্দেহ নেই, শুক্রবার জলপাইগুড়ির জনসভা থেকে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানাবেন প্রধানমন্ত্রীও।

আরও পড়ুন

এ যেন হেরাফেরি! ‘মোদী’-কে ‘দিদি’ দিয়ে ভাগ করে দিলেন পরেশ রাওয়াল

Shares

Comments are closed.