করোনার একাধিক বিদেশি ভ্যাকসিন ছাড়পত্র পেতে পারে দেশে, সংক্রমণ রুখতে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার সংক্রমণ বিপজ্জনক হয়ে উঠছে দেশে। সেই সঙ্গেই ভ্যাকসিনের ভাঁড়ারও ফুরিয়ে আসছে। তাই তড়ঘড়ি রাশিয়ার স্পুটনিক ভি ভ্যাকসিনে ছাড়পত্র দিয়েছে কেন্দ্রীয় ড্রাগ নিয়ামক সংস্থার বিশেষজ্ঞ কমিটি। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, সংক্রমণ যেভাবে বাড়ছে তাতে টিকাকরণে গতি আনাই লক্ষ্য। আর টিকাকরণে গতি আনতে হলে একটি বা দুটি ভ্যাকসিনে চলবে না, একাধিক ভ্যাকসিনের প্রয়োগ শুরু করতে হবে। দেশীয় সংস্থার তৈরি ভ্যাকসিনের পাশাপাশি বিদেশি ভ্যাকসিনেও ছাড় দেওয়ার বড় পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে।

দেশে এখন পুণের সেরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি কোভিশিল্ড ও ভারত বায়োটেকের তৈরি কোভ্যাক্সিনই চালু রয়েছে। বিদেশি ভ্যাকসিনের মধ্যে রাশিয়ার টিকাতে সম্মতি দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া দেশের অনেক সংস্থাই এখন বিদেশি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলির সঙ্গে হাত মিলিয়ে করোনার প্রতিষেধক তৈরি করছে, সেইসবও ট্রায়ালের পর্যায়ে রয়েছে। জনসন অ্যান্ড জনসনের তৈরি ভ্যাকসিনও অনুমতি পেলে দেশীয় কোনও সংস্থার সাহায্যে ভারতে তাদের উৎপাদন ও বিতরণ শুরু করতে পারে। দেশের আরও ছয় সংস্থার তৈরি ভ্যাকসিন তাদের ল্যাবরেটরি ট্রায়াল শেষ করেছে। তাই এখন কেন্দ্রীয় সরকারের লক্ষ্য, এইসমস্ত ভ্যাকসিন থেকে কার্যকরী টিকা বেছে নেওয়া নেওয়া।

শোনা যাচ্ছে, আরও চার ভ্যাকসিন এই বছরই ছাড়পত্র পেতে পারে দেশে। কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ কমিটির বৈঠকে তেমনটাই আলোচনা হয়েছে। এই ভ্যাকসিনগুলোর মধ্যে রয়েছে জনসন অ্যান্ড জনসনের (বায়ো ই)ভ্যাকসিন, জাইদাস ক্যাডিলার টিকা, সেরামের নোভাভ্যাক্স ও ভারত বায়োটেকের ন্যাজাল ভ্যাকসিন।

আমেরিকায় ৬০ হাজার জন স্বেচ্ছাসেবকের ওপর ভ্যাকসিনের বৃহত্তর ট্রায়াল করেছিল জনসন অ্যান্ড জনসন। তাছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) তালিকায় জরুরি ভিত্তিতে যেসব ভ্যাকসিনের প্রয়োগের কথা উল্লেখ আছে তার মধ্যে জনসন অ্যান্ড জনসনও একটি। আহমেদাবাদের ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি জাইদাস ক্যাডিলার তৈরি জ়াইকভ-ডি ভ্যাকসিনকে ছাড়পত্র দেওয়া হতে পারে এমন কথাবার্তা আগেও হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজে জাইদাস ক্যাডিলার ল্যাবরেটরিতে ঘুরে ভ্যাকসিনের প্রস্তুতি দেখে এসেছিলেন। জ়াইকভ-ডি হল প্লাসমিড ডিএনএ ভ্যাকসিন যার তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল চলছিল দেশে। আমেরিকার নোভাভ্যাক্স কোম্পানির তৈরি  NVX-CoV2373 ভ্যাকসিনের উৎপাদন ও বিপণনের জন্য আগেই লাইসেন্স পেয়েছিল সেরাম ইনস্টিটিউট। এই টিকার ট্রায়ালও হয়েছে এবং তার ফলও ভাল বলে জানিয়েছে সেরাম। কাজেই এই ভ্যাকসিনও রয়েছে কেন্দ্রের তালিকায়।

আরও একটা ভ্যাকসিন নিয়ে কথা হচ্ছে তা হল ভারত বায়োটেকের ন্যাজাল ভ্যাকসিন। ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে ন্যাজাল ক্লোরো-ফ্লু ভ্যাকসিন নিয়ে বহুদিন থেকেই কাজ করছে ভারত বায়োটেক। জানা গেছে, এই টিকার প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বের ট্রায়ালের রিপোর্ট ইতিবাচক। মার্কিন ফার্মা কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে ভ্যাকসিনের ১০০ কোটি ডোজ তৈরির পরিকল্পনা আছে দেশের প্রথম সারির এই ভ্যাকসিন নির্মাতা সংস্থার।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More