হাথরসে ধর্ষিতা চার বছরের শিশুকন্যা, দেশজোড়া বিক্ষোভের মাঝেই ফের লজ্জা যোগীরাজ্যে

সার্কল অফিসার রুচি গুপ্ত বলেছেন, শিশুটির অবস্থা সঙ্কটজনক। ছোট শরীরে অসংখ্য ক্ষতের দাগ। ডাক্তারি পরীক্ষায় ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৯ বছরের দলিত তরুণীর মর্মান্তিক মৃত্যু নাড়া দিয়ে গেছে দেশকে। হাথরসের ঘটনায় ক্ষোভের আগুন নেভেনি। তার মধ্যেই ফের এমন জঘন্য অপরাধের ঘটনা সামনে এল। হাথরসেই ধর্ষিতা হল চার বছরের এক শিশুকন্যা। এখানেও অভিযোগ, বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতন চালানো হয়েছে বাচ্চাটির উপরে।

সার্কল অফিসার রুচি গুপ্ত বলেছেন, শিশুটির অবস্থা সঙ্কটজনক। ছোট শরীরে অসংখ্য ক্ষতের দাগ। ডাক্তারি পরীক্ষায় ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে।

ঘটনা গতকাল, মঙ্গলবারের। হাথরসের সাসনি এলাকার বাসিন্দা  শিশুটির পরিবার জানিয়েছে, বাড়ির সামনেই বিকেলে খেলা করছিল বাচ্চা মেয়েটা। অভিযোগ, তাঁদেরই এক প্রতিবেশী এসে তাকে সঙ্গে করে নিয়ে যায়। দীর্ঘসময় না ফেরায় চিন্তা হয় বাড়ির লোকজনের। সন্ধ্যার পরে বাচ্চাটি ফিরে এলে দেখা যায় তার সারা শরীরে কালশিটে পড়ে গিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গেই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। পরীক্ষা করে ডাক্তাররা জানান, যৌন নির্যাতন চালানো হয়েছে বাচ্চাটার উপরে।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিবেশী ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করেছে শিশুটির পরিবার। অভিযুক্ত ধরা পড়েছে কিনা সে ব্যাপারে এখনও কোনও খবর জানা যায়নি।

গত ১৪ সেপ্টেম্বরের বীভৎসতার কথা এখনও ভুলতে পারছে না দেশ। বছর উনিশের মেয়েটাকে অপহরণ করে গণধর্ষণ করা হয়। পুলিশ জানায়, অপরাধীরা ছিল সংখ্যায় চারজন। তরুণীকে উদ্ধার করার সময়েই তার শারীরিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত সঙ্কটজনক। এতটাই পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল তার উপর যে মেয়েটার সারা শরীর পক্ষাঘাতগ্রস্থ হয়ে পড়েছিল। ঘাড় বেঁকে গিয়েছিল। হাত-পায়ে সাড় ছিল না। গলায় একাধিক ক্ষতের দাগ ছিল। সারা শরীরে কালশিটে পড়ে গিয়েছিল। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যাতে বয়ান দিতে না পারে সে জন্য তার জিভ কামড়ে ক্ষতবিক্ষত করে দেওয়া হয়েছিল। বেধড়ক মারের চোটে শরীরের একাধিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল। জওহরলাল নেহরু হাসপাতালে প্রথমে ভর্তি করা হয় তরুণীকে। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সফদরজঙ্গ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানেই ১৪ দিন বাঁচার লড়াই চালিয়েছিলেন নির্যাতিতা। কিন্তু জখম এতটাই বেশি ছিল এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হচ্ছিল যে শেষপর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এই ঘটনা নিয়ে যখন তোলপাড় চলছে তখন নির্যাতিতার দেহ তুলে নিয়ে গিয়ে গমক্ষেতে জ্বালিয়এ দেয় পুলিশ। রাতের আঁধারে পুলিশকর্মীদের অমানবিক আচরণে নতুন করে ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে দেশে। হাথরস কাণ্ডে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এখনও মামলা চলছে এলাহাবাদ হাইকোর্টে। ঘটনার তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More