ভয়ঙ্কর করোনা ছড়াচ্ছে মুম্বইতে, সংক্রমণ বেড়ে গেছে ৫০%, সতর্কতা লোকাল ট্রেনগুলিতে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সংক্রমণ ফের লাগামছাড়া হয়ে গেছে বাণিজ্যনগরীতে। সংক্রমণের কার্ভ বেড়েই চলেছে। মুম্বইয়ের ৬টি ওয়ার্ডে ভাইরাসের সংক্রমণ অন্তত ৫০ শতাংশ বেড়েছে বলে দাবি বৃহন্মুম্বই পুরসভার। লোকাল ট্রেন চালুর পর থেকেই সংক্রমণের নতুন ধাক্কা এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিএমসি জানাচ্ছে, শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে সংক্রমণ। লোকাল ট্রেনের যাত্রীদের থেকেই সংক্রমণ ছড়াচ্ছে বলে সন্দেহ। অন্তত ১০ হাজার বাড়ি সিল করে দেওয়া হয়েছে।

বিএমসি-র অ্যাডিশনাল কমিশনার সুরেশ কাকানি বলেছেন, করোনা বিধি মানছেন না কেউই। বিশেষত লোকাল ট্রেনগুলিতে মাস্ক ছাড়াই সফর করছেন যাত্রীরা। যথেষ্ট ভিড় ও ধাক্কাধাক্কিও হচ্ছে ট্রেনে। করোনার গাইডলাইন মানা হচ্ছে না কোথাও। রাস্তাঘাটেও মাস্ক ছাড়া দেখা যাচ্ছে অনেককেই। সোশ্যাল ডিস্টেন্সিংয়ের বালাই নেই। গত কয়েকদিনে সংক্রমণ মারাত্মক বেড়ে গেছে মুম্বইতে। এমন চলতে থাকলে আগামী দশ দিনের মধ্যে ফের কড়া লকডাউন চালু হওয়ার সম্ভাবনাও আছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সারা দেশে যখন করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসছে তখন মহারাষ্ট্রে সংক্রমণ লাগামছাড়া। গত ৪২ দিনে করোনা সংক্রমণ ১০-১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ধারাভি বস্তি যেখানে কোভিডের চিহ্নই প্রায় মুছে গিয়েছিল, নতুন করে সেখানে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। পরিস্থিতি বিপজ্জনক।

রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের হিসেব বলছে, রবিবার চারা হাজারের বেশি নতুন সংক্রমণ ধরা পড়ে। সোমবারও নতুন সংক্রমণ ছিল চার হাজারের বেশি, যা রীতিমতো অ্যালার্মিং। রাজ্যে এই মুহূর্তে করোনা রোগীর সংখ্যা ২০ লাখ ৫৮ হাজারের বেশি। কোভিড অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। সূত্রের খবর, কোভিড টেস্টও তলানিতে এসে ঠেকেছে। রিয়েল টাইম আরটি-পিসিআর টেস্টের সংখ্যা কমেছে। কনট্যাক্ট ট্রেসিংও কম। তাই বেশিরভাগ রোগীকেই শনাক্ত করা যাচ্ছে না।

মুম্বইয়ের মেয়র কিশোরী পেডনেকার বলেছেন, সংক্রমণ এতটাই ছড়িয়েছে যে করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। মুম্বইতে এখন করোনায় মৃত্যুহার ২.৪১ শতাংশ, যেখানে সারা দেশে করোনায় মৃত্যু হার দেড় শতাংশের নীচে নেমে গেছে। কোভিড ডাবলিং টাইম (যতদিনে সংক্রমণের হার প্রায় দ্বিগুণ হয়) কমছে। আগে মুম্বইতে সংক্রমণ দ্বিগুণ হওয়ার সময় ছিল ৬০০ দিন, এখন যা ৪০০ দিনে এসে ঠেকেছে। জি নর্থ ওয়ার্ডের এলাকাগুলিতে সংক্রমণের হার কমে গিয়েছিল। গত কয়েকদিনে ফের তা বেড়েছে। এই জি নর্থ ওয়ার্ডের মধ্যে পড়ে ধারাভি, দাদার ও মহিম। মেয়র বলছেন, আগামী দশ দিনের মধ্যে সংক্রমণের কার্ভ না কমলে কড়া ব্যবস্থা নিতে পারে প্রশাসন।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More