ভারতে করোনার সুপার-স্প্রেডার জিন ধরতে পারলেন বিজ্ঞানীরা, সংক্রমণ দ্বিতীয়বারও ফিরে আসতে পারে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে করোনার নতুন প্রজাতি নিয়ে শোরগোল শুরু হয়েছে। হুড়হুড়িয়ে বাড়ছে সংক্রমণ। মহারাষ্ট্র সহ সাত রাজ্যে এই নয়া প্রজাতি ছড়িয়ে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন করোনার সুপার-স্প্রেডার স্ট্রেন। কেমন এই নয়া প্রজাতি, চিহ্নিত করে ফেললেন হায়দরাবাদের বিজ্ঞানীরা।

করোনার নয়া ভ্যারিয়ান্টের নাম এন৪৪০কে (N440K) । এই ভ্যারিয়ান্টকেই সুপার-স্প্রেডার বলছেন গবেষকরা। উত্তর ভারত তো বটেই, দক্ষিণেও ছড়িয়েছে এই নতুন স্ট্রেন। মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশে বিশেষ করে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে করোনার এই নতুন ভ্যারিয়ান্টকে। গবেষকরা বলছেন, নতুন স্ট্রেনের এমনভাবে জিনের গঠন বিন্যাস বদলেছে যে সংক্রমণ বারে বারেই ফিরে আশার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। অর্থাৎ এই নতুন প্রজাতি রিইনফেকশন তথা পুনঃসংক্রমণ ঘটাতে পারে। একবার আক্রান্ত হওয়ার পরে দ্বিতীয় বা তৃতীয়বারও সংক্রামিত হতে পারে রোগী।

COVID-19: In a first, Indian scientists reveal first microscopic image of  SARS-CoV-2 coronavirus strain

হায়দরাবাদ ও অন্ধ্রপ্রদেশের কুর্নুলে এই নতুন স্ট্রেন কয়েকজনের শরীরে পুনঃসংক্রমণ ঘটিয়েছে। হায়দরাবাদের সিসিএমবি ও অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি কয়েকজন রোগীর নমুনায় পাওয়া ভাইরাল স্ট্রেনের জিনোম সিকুয়েন্স (জিনের গঠন বিন্যাস) করে দেখা গেছে, এই নির্দিষ্ট স্ট্রেনটাই বারে বারে রোগ ছড়াচ্ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ভ্যারিয়ান্ট অ্যান্টিবডির ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে, তাই রিফেকশনের ঝুঁকি থেকে যায়।

Electron microscopy of SARS-CoV-2: a challenging task - The Lancet

বদলটা হচ্ছে কোথায়? বিজ্ঞানীরা বলছেন, এন৪৪০কে স্ট্রেনে মিউটেশন বা জিনগত বদল হচ্ছে স্পাইক প্রোটিনে। যে প্রোটিন মানুষের দেহকোষে ঢুকে সংখ্যায় বাড়তে পারে। এই প্রোটিনেই অ্যামাইনো অ্যাসিডের কিছু কোড বদলে যাচ্ছে। তাই ভাইরাল স্ট্রেন অনেক বেশি সংক্রামক হয়ে উঠছে। যেহেতু স্পাইক প্রোটিনে বদল হচ্ছে তাই দ্রুত এই ভ্যারিয়ান্ট দেহকোষের রিসেপটর প্রোটিন (এসিই-২)-এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারছে। সংক্রমণও তাই তাড়াতাড়ি ছড়াচ্ছে। বিশেষ করে হিউম্যান ট্রান্সমিশন দ্রুত হচ্ছে মানে এক শরীর থেকে অন্য শরীরে সংক্রমণ ঝড়ের গতিতে ছড়াচ্ছে।

গবেষকরা বলছেন, সিঙ্গল মিউটেশন হচ্ছে জিনের গঠনে। অর্থাৎ জিন বা ডিএনএ (ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড)-এর যে সম্পূর্ণ বিন্যাস সেখানে একটা নির্দিষ্ট অ্যামাইনো অ্যাসিডের কোডে বদল হচ্ছে। জিনের একটা রিডিং ফ্রেম থাকে, তাতে তিনটে বেস থাকে। প্রতি বেসে একটি করে অ্যামাইনো অ্যাসিডের কোড থাকে। এই অ্যামাইনো অ্যাসিডের কোড গুলো বদলে দিচ্ছে ভাইরাস। এতে তার লাভ হল, কোড বদলে গেলে সে আবার নতুন করে জিনের গঠন সাজিয়ে নিতে পারব। তার চেহারাও বদলে যাবে। হিউম্যান ট্রান্সমিশন বা এক মানুষের শরীর থেকে অন্য মানুষের শরীরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে হলে এই বদলটা দরকার।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More