শনিবার, ফেব্রুয়ারি ১৬

দেশ ও দশের মঙ্গল করে যে খবর, এই অ্যাপ তার ভান্ডার : দাবি করল ‘ঋতম’

দ্য ওয়াল ব্যুরো:  সকালে ঘুম থেকে উঠেই হোক, বা রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে, সারাদিনের খবর জানার জন্য এখন আর কাগজের দরকার পড়ে না। বোকাবাক্স দেখার দিনও প্রায় শেষ। সব খবর এখন হাতের মুঠোয়। আপনার মোবাইলের মধ্যেই রয়েছে বিভিন্ন অ্যাপ, যা আপনাকে দেশ-বিদেশের সব খবর এনে দেবে মুহূর্তে। তবে একটা কিন্তু রয়েছে। যে খবর আপনি পাচ্ছেন, সেগুলি কি সব সত্য, নিরপেক্ষ? পক্ষপাতদুষ্টতার অভিযোগ কি নেই তাদের উপর? আছে। আর সে কারণেই এই ধরণের কিছু কিছু খবর সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে আদতে সমাজের ক্ষতিই করছে। এই সব ক্ষতিকারক শক্তির বিরুদ্ধে লড়তেই আগমন এক নতুন, সম্পূর্ণ দেশীয় মোবাইল অ্যাপলিকেশন ‘ঋতম’-এর।

সম্প্রতিই ‘লঞ্চ’ হয়েছে এই মোবাইল অ্যাপ। নির্মাতাদের দাবি, এই অ্যাপের মাধ্যমে আপনি যে খবর পাবেন, তা আপনার মতামত ও চিন্তনকে অনুপ্রাণিত করবে। সেই রসদ আপনার দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবে ‘ঋতম’। বর্তমানে খবর প্রচারের নিরিখে যে তিনটি মোবাইল অ্যাপ সবথেকে বেশি ব্যবহার করা হয়, সেগুলি হলো ডেলি হান্ট, নিউজ ডগ ও ইউসি নিউজ। এর মধ্যে ডেলি হান্ট শুরু হয়েছে ২০১২ সালে। ইতিমধ্যেই ৫ কোটির বেশি মোবাইলে ডাউনলোড করা হয়েছে এই অ্যাপ। চিনা কোম্পানি বাইট ড্যান্স এই অ্যাপের পিছনে ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। এছাড়াও আরও ৫টি বিদেশি বিনিয়োগকারী রয়েছে এই অ্যাপের পিছনে।

নিউজ ডগের পথ চলা শুরু ২০১৬ সালে। অতিমধ্যেই ৫ কোটির বেশি ডাউনলোড হয়েছে এই অ্যাপ। হংকংয়ের এক কোম্পানি এই অ্যাপের পিছনে বিনিয়োগ করেছে ৪০০ কোটি টাকা। ইউসি নিউজও শুরু হয়েছে ২০১৬ সালে। ইতিমধ্যেই ১০ কোটির বেশি ডাউনলোড হয়েছে এই অ্যাপ। অনেক মোবাইলে তো আগে থেকেই ইনস্টল করা থাকে এই অ্যাপ। চিনা কোম্পানি আলিবাবা এই অ্যাপের প্রধান বিনিয়োগকারী।

 

বিদেশি বিনিয়োগের সঙ্গে মোকাবিলা করার একমাত্র উপায় ছোট প্রচার মাধ্যমগুলির একত্রীকরণ। এটি কেবলমাত্র ঋতম-এর মত সংবাদ ও মতামত সংগ্রাহক ও সংযোগকারীর মাধ্যমেই সম্ভব বলে দাবি এই অ্যাপের নির্মাতাদের। কী কারণে এই একত্রীকরণের প্রয়োজন তাও বিস্তারিতভাবে জানিয়েছেন নির্মাতারা।

এগ্রিগেটর বা একত্রীকরণের প্রয়োজন কেন?

মূলধারার মিডিয়ার একাংশের বস্তুনিষ্ঠতার অভাবে সোশ্যাল মিডিয়ার মঞ্চগুলিই এখন সংবাদের প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল, এনজিও এবং অনুরূপ সব প্রতিষ্ঠান এই মঞ্চগুলিকেই ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে। অন্য দিকে বিভিন্ন সার্বজনীন সোশ্যাল মঞ্চগুলির একাংশের গোপন ও সরাসরি পক্ষপাতদুষ্টতার কারণে তথ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে একটা নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার চলছে। এই সব সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করতে একের পর এক আরও সংবাদ-পোর্টাল ও অ্যাপ প্রকাশ পাচ্ছে। প্রযুক্তির মাধ্যমে এই যে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছনো তা সংবাদ সম্প্রচারের উদ্দেশ্যকেই বিপন্ন করে তুলছে, কেননা এর ফলে হয়তো অনেক আগ্রহী পাঠকই এর থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

ঠিক এইখানেই ঋতমের আবির্ভাব। ঋতম অ্যাপটি একত্রিত করতে চায় সদর্থক ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং প্রচারমাধ্যমের আলাদা আলাদা প্রচেষ্টাগুলিকে। এখানে খবর, মতামত এবং ধারণাগুলিকে একত্রিত করে সমাজের বিস্তৃত অংশে পৌঁছে দেওয়া হবে তার সুষ্ঠু সম্প্রচার পদ্ধতির মাধ্যমে। এটি তার ব্যবহারকারীকে নিজের আগ্রহের বিষয়ের ওপর নজর রাখতে ও পড়তে সাহায্য করবে। তাই ঋতম হল এমন একটি অ্যাপ যা বিভিন্ন প্রচেষ্টাকে সংহত, চিন্তাকে সমষ্টিবদ্ধ, ভাবনাকে একত্রিত এবং জাতিগঠনের উপযোগী আখ্যানগুলির উপর গুরুত্ব আরোপ করে।

ঠিক কী ধরণের খবর এই অ্যাপের মাধ্যমে পাবেন ব্যবহারকারীরা? 

ঋতম বিভিন্ন আঞ্চলিক ও জাতীয় খবর এবং মতামতের সংগ্রাহক ও সংযোগকারী। প্রচুর তথ্য বা বাছবিচারহীন খবরের বাহুল্যে জর্জরিত করা নয়, পাঠকের কাছে সুনির্বাচিত সংবাদ পরিবেশন করবে ঋতম। কিছু স্বার্থাণ্বেষী শক্তির প্ররোচনায় তথাকথিত উদারমনস্কতার নামে সমাজের ক্ষতি করে যে ধরণের খবরাখবর, তা পরিহার করবে ঋতম। ভারতের শাশ্বত ভাবনায় বিশ্বাসী একক ও সমবেত প্রকাশকদের খবর, মতামত এবং চিন্তাকে এক জায়গায় নিয়ে আসা ও তার প্রচারের প্রয়াসই ঋতম।

ঋতম-এর প্রধান মন্ত্রই হলো, সতর্কভাবে, সংহত, সহযোগী বিষয়বস্তুর সচেতন সম্প্রচার। তবে সাধারণের মধ্যে এই অ্যাপকে জনপ্রিয় করে তোলার জন্য বেশ কয়েকটি পরিকল্পনা নিয়েছেন নির্মাতারা। আগামী তিন মাসের জন্য একটি পথনির্দেশও দেওয়া হয়েছে। ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ এর আগে ভারতব্যাপী সমস্ত ডিস্ট্রিবিউটারদের সক্রিয় করা হয়েছে। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দেশ জুড়ে সচেতনতার প্রচার চলবে। ফেব্রুয়ারির পর দেশজুড়ে এই অ্যাপ ৫০ লক্ষ ডাউনলোডের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

Shares

Comments are closed.