ভারতে আবার কি ঢুকল করোনার নতুন প্রজাতি? ডেল্টার মতোই ছোঁয়াচে, দাবি পুণে এনআইভির

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার ডবল ভ্যারিয়ান্ট নিয়ে নাজেহাল দেশ। এই প্রজাতিরও আবার তিন উপ প্রজাতি হানা দিয়েছে। যার মধ্যে ছোঁয়াচে ডেল্টা প্রজাতিকে নিয়ে রীতিমতো চিন্তায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও। এর মধ্যেই কি আবার কোভিডের নতুন প্রজাতি ঢুকে পড়ল দেশে? পুণের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি (এনআইভি)-এর গবেষকরা এমনটাই দাবি করেছেন। ব্রাজিল ও ব্রিটেন ফেরত যাত্রীদের নমুনায় নাকি আরও একরকম সংক্রামক স্ট্রেনের খোঁজ মিলেছে।

পুণের এনআইভি-তে ভাইরাল স্ট্রেনের জিনের গঠন বিন্যাস বা জিনোমিক সিকুয়েন্স করা হয়। জিনোম সিকুয়েন্স করলে বোঝা যায় কোভিডের কী ধরনের প্রজাতি ছড়িয়ে পড়ছে। পুরনো কোনও প্রজাতি যা আগে দেখা গিয়েছিল তাই ফিরে এসেছে নাকি মিউটেশন বা জিনের বদলের ফলে নতুন কোনও সংক্রামক প্রজাতির জন্ম হয়েছে। কোভিডের ডবল ভ্যারিয়ান্ট ধরা পড়েছে এভাবেই। কী ধরনের বদল হচ্ছে ভাইরাসের মধ্যে যা জিনের বিন্যাস বের না করলে বোঝা সম্ভব নয়। ব্রাজিল ও ব্রিটেন থেকে গত কয়েকমাসে যেসব যাত্রীরা দেশে ঢুকেছিলেন তাঁদের কয়েকজনের নমুনায় নতুন রকম স্ট্রেন পাওয়া গেছে বলে দাবি বিশেষজ্ঞদের।

Figure 1:

এই প্রজাতির নাম বি.১.১.২৮.২। ব্রিটেন স্ট্রেন ও কোভিডের বি.১ প্রজাতির সংমিশ্রণে নতুন এই স্ট্রেনের উৎপত্তি হয়েছে কিনা তা এখনও ধরা যায়নি। ভাইরাসের প্রোটিনে কী কী বদল হয়েছে সেটাও জানা যায়নি। গবেষকরা পরীক্ষা নিরীক্ষা করছেন। মনে করা হচ্ছে, ডি৬১৪জি ভ্যারিয়ান্টেরই কোনও পরিবর্তিত রূপ হতে পারে।


কতটা সংক্রামক এই নতুন প্রজাতি
?

গবেষকরা বলছেন, কোভিডের ডেল্টা ভ্যারিয়ান্টের (বি.১.৬১৭.২) মতোই ছোঁয়াচে ও বিপজ্জনক হতে পারে এই নতুন প্রজাতি। আলফা স্ট্রেনের (বি.১.৬১৭.১) থেকে বেশি সংক্রামক। এটিও সুপার-স্প্রেডার। এই স্ট্রেন কতটা সংক্রামক হতে পারে তার জন্য ৯টি রডেন্ট জাতীয় প্রাণি ‘সিরিয়ান হ্যামস্টার’এর শরীরে এই স্ট্রেন ইনজেক্ট করে দেখছেন গবেষকরা। দেখা গেছে, আক্রান্ত রডেন্ট জাতীয় প্রাণীদের ওজন খুব দ্রুত কমেছে। শ্বাসনালীতে ঝড়ের বেগে প্রতিলিপি তৈরি করছে নয়া প্রজাতি। ফুসফুসে ভাইরাল লোড দ্রুত বাড়ছে। এমনকি এও দেখা গেছে কোভিডের বি.১ বা ডি৬১৪জি ভ্যারিয়ান্টের প্রভাবও কমিয়ে দিতে পারছে এই নতুন প্রজাতি। ৬ গুণ বেশি ছোঁয়াচে বলেই দাবি পুণের ভাইরোলজিস্টদের।

Figure 6:

করোনাভাইরাস একদম গোড়াতে কেমন ছিল তা হয়তো এখন আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। গত বছর মার্চ থেকে করোনার যে প্রজাতি ভারতে ছড়াতে শুরু করেছিল তা এখন অনেক বদলে গিয়েছে। সুপার-স্প্রেডার হয়ে উঠেছে, মানে অনেক দ্রুত মানুষের শরীরে ঢুকে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। গবেষকরা বলছেন, সার্স-কভ-২ হল আরএনএ (রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড) ভাইরাস। এর শরীর যে প্রোটিন দিয়ে তৈরি তার মধ্যেই নিরন্তর বদল হচ্ছে। এই প্রোটিন আবার অ্যামাইনো অ্যাসিড দিয়ে সাজানো। ভাইরাস এই অ্যামাইনো অ্যাসিডগুলোকে নিয়ে ইচ্ছামতো খেলছে। কখনও অ্যামাইনো অ্যাসিডের কোড বদলে দিচ্ছে, আবার কখনও একেবারে ডিলিট করে দিচ্ছে। নিজের সুবিধা মতো জিনের বিন্যাস সাজিয়ে নিচ্ছে। নতুন বিন্যাসে মানুষের শরীরে চটপট ঢুকে পড়ার কৌশল শিখে নিচ্ছে। আর মানুষের শরীরে যত তাড়াতাড়ি বিভাজিত হয়ে প্রতিলিপি তৈরি করছে, ততটাই দ্রুত আবার নিজেকে বলে ফেলতে সক্ষম হচ্ছে। ধারাবাহিকভাবে মিউটেশন বা জিনের বিন্যাস বদলে চলেছে ভাইরাস। এই রূপ বদলের কারণেই নতুন নতুন প্রজাতির দেখা মিলতে শুরু করেছে।

New COVID variant with 5 mutations identified in California | CIDRAP

গত বছর জুন মাসে বি.১ নামক করোনার এক প্রজাতি নিয়ে খুব হইচই শুরু হয়েছিল। বিজ্ঞানীরা বলছিলেন, এই প্রজাতিতে একটা সাঙ্ঘাতিক বদল হচ্ছে। পর পর চার থেকে পাঁচবার জিনের গঠন বদলে যাচ্ছে। আর এই বদলটা হচ্ছে র‍্যানডম। জিনের গঠন বিন্যাসের এই বদলকে বলা হচ্ছে  D614G। গবেষকরা বলেছিলেন, এই বদল জিনের সামান্য অংশেই হচ্ছে। কিন্তু এর প্রভাব মারাত্মক।

দেখা গিয়েছিল, স্পাইক প্রোটিনের ৬১৪ পজিশনে (অ্যাসপারেট থেকে গ্লাইসিন)এই বদলটা হচ্ছে। S-D614S-G614 প্রোটিনের মধ্যে এই বদলটা দ্রুত হচ্ছে। এই দুই প্রোটিনই মানুষের দেহকোষের রিসেপটর প্রোটিন অ্যাঞ্জিওটেনসিন-কনভার্টিং এনজাইম ২ (ACE-2) এর মাধ্যমেই কোষে ঢুকে প্রতিলিপি তৈরি করে। এই বদলের ফলে তারা আরও দ্রুত রিসেপটর প্রোটিনের সঙ্গে জোট বেঁধে কোষে ঢুকতে পারছে। এই মিউটেশনের কারণে মানুষের শরীরে নতুন রিসেপটর প্রোটিনও খুঁজে নিতে পারছে ভাইরাল স্ট্রেন। এই D614G মিউটেশন আবার ফিরে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করেছিলেন গবেষকরা। নতুন প্রজাতিতে তেমন কিছু হচ্ছে কিনা সেটাই এখন চিন্তার ব্যাপার।

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More