আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করানোর প্রয়োজন নেই কাদের, নতুন গাইডলাইন আনল আইসিএমআর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে দেশে। সরকারি ও বেসরকারি ল্যাবরেটরিগুলোতে করোনা পরীক্ষা করানোর ভিড়ও বাড়ছে। নমুনার পাহাড় জমা হচ্ছে। র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের তুলনায় রিয়েল টাইম আরটি-পিসিআর টেস্টকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়ার কথা বলেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। কাজেই আরটি-পিসিআর টেস্টের লাইনেই ভিড় বেশি। আর এই পরীক্ষা যেহেতু সময়সাপেক্ষ তাই রোগীদের লম্বা লাইন সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে ল্যাবগুলিকে। এমন পরিস্থিতিতে আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করানোর ব্যাপারে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করল ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)।

আরটি-পিসিআর টেস্ট কাদের জন্য বেশি জরুরি ও কাদের একেবারেই দরকার নেই, সে ব্যাপারে বিস্তারিত গাইডলাইন দিয়ে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে আইসিএমআর। সেই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কোভিডের সামান্য লক্ষণ থাকলে বা একবার আরটি-পিসিআর টেস্ট করানো হয়ে গেলে, ফের নতুন করে পরীক্ষা করানোর দরকার নেই। সেক্ষেত্রে র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট ফের চালু করার কথা বলা হয়েছে। র‍্যাপিড টেস্টে যদি কোনও কারণে ফলস নেগেটিভ রিপোর্ট আসে, তাহলে দ্বিতীয়বার নিশ্চিত হওয়ার জন্য আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করানো যেতে পারে।

আইসিএমআরের গাইডলাইনে কী কী বলা হয়েছে—

১) র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় কোভিড পজিটিভ রিপোর্ট এলে ফের আরটি-পিসিআর টেস্ট করানোর দরকার নেই।

২)আরটি-পিসিআর পরীক্ষা একবার করালে বার বার করানোর দরকার নেই।

৩)দশ দিন হোম আইসোলেশন সম্পূর্ণ করেছেন, শেষ তিনদিনের মধ্যে জ্বর আসেনি বা করোনার কোনও উপসর্গ দেখা যায়নি, তাহলে নতুন করে আরটি-পিসিআর টেস্ট করানোর দরকার নেই। কোভিড রিপোর্ট নেগেটিভ কিনা জানতে র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টই যথেষ্ট।

৪)হাসপাতাল থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ছাড়া পেলে আরটি-পিসিআর টেস্ট করানোর দরকার পড়বে না।

৫)আন্তঃরাজ্যে ভ্রমণ করছেন এমন সুস্থ ব্যক্তিদের আরটি-পিসিআর টেস্ট করানোর দরকার নেই।

৬) কোভিড সংক্রমণের সমস্ত উপসর্গ রয়েছে অথচ র‍্যাপিড টেস্টে ফলস নেগেটিভ রিপোর্ট এসেছে, তাহলে জরুরি ক্ষেত্রে আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করানো যেতে পারে।

গোড়াতে কোভিড হটস্পট চিহ্নিত এলাকাগুলিতে চটজলদি বহু মানুষের সংক্রমণ ধরার জন্য র‍্যাপিড অ্যান্ডিবডি টেস্টের কথা বলেছিল আইসিএমআর। এই অ্যান্টিবডি স্ক্রিনিং টেস্টে খরচ অনেক কম এবং খুব কম সময় রোগীর থেকে নেওয়া নমুনা পরীক্ষা করা যায়। তবে র‍্যাপিড টেস্ট কিটে নানারকম ত্রুটির অভিযোগ আসায়, এই টেস্ট কিটের ব্যবহার পরে বন্ধ রাখারই সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইসিএমআর। সেক্ষেত্রে করোনা পরীক্ষার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি হিসেবে রিয়েল টাইম আরটি-পিসিআর পরীক্ষাকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়।

আরটি-পিসিআর টেস্ট সময়সাপেক্ষ হলেও এই পদ্ধতি ভাইরাস জিনোমকে চিহ্নিত করতে পারে। অর্থাৎ নমুনায় আরএনএ ভাইরাল স্ট্রেন রয়েছে কিনা সেটা সঠিকভাবে ধরতে পারে। এই টেস্ট কিটে এমন প্রাইমার থাকে যা ভাইরাস জিনোমের নির্দিষ্ট অংশকে শনাক্ত করতে পারে। রক্তের নমুনা নিয়ে অ্যান্টিবডি স্ক্রিনিং টেস্টে চটজলদি সংক্রমণ ধরা গেলেও তা অনেক সময়েই নিশ্চিত তথ্য দেয় না। অ্যান্টিবডি টেস্টের পরেও তাই কোভিড-১৯ পজিটিভ কিনা জানতে হলে আরটি-পিসিআর টেস্টই করতে হয়।

আইসিএমআর বলছে, দেশের আড়াই হাজারের বেশি মলিকিউলার ল্যাবরেটরিতে দিনে ১৫ লাখের বেশি করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। আরটি-পিসিআর, ট্রুন্যাট টেস্ট সহ অন্যান্য পরীক্ষা পদ্ধতিও রয়েছে। তবে আরটি-পিসিআর পরীক্ষাতেই মানুষজনের ভরসা বেশি। তাই রোগের সামান্য লক্ষণ থাকলেও আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করাতে চলে আসছেন অনেকে। ফলে সকলের নমুনা পরীক্ষা শেষ করতে প্রচুর সময় লেগে যাচ্ছে। এই বিপুল চাপ কমাতেই এই নতুন গাইডলাইন সামনে আনা হয়েছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More