৬ মাসে সর্বোচ্চ সংক্রমণ দেশে, একদিনে আক্রান্ত ২৯ হাজার, বিপদে মহারাষ্ট্র, কেরল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কুড়ি সালের মার্চ-এপ্রিলের আতঙ্ক ফিরে আসছে। দেশজুড়ে করোনার সংক্রমণ অতিমহামারীর পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। আবারও সেই ছবি ফুটে উঠছে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই। লকডাউন পর্যায়ে সংক্রমণ যতটা নিয়ন্ত্রণে এসেছিল, আনলক পর্বে তার দ্বিগুণের বেশি বেড়ে গেছে। শুরুটা কম করে হলেও দিনে দিনে যেন সংক্রমণের ঢেউ প্রবল ঝাপটা দিচ্ছে দেশের উত্তর থেকে দক্ষিণে, পূর্ব থেকে পশ্চিমে। গত কয়েকদিনে ১২ হাজার থেকে এক লাফে দৈনিক সংক্রমণ ২৫ হাজারের গণ্ডি পেরিয়েছিল। আজ ৬ মাসের রেকর্ড ভেঙে নতুন সংক্রমণ ফের ৩০ হাজারের কোঠায় চলে গেছে। একদিনেই আক্রান্ত ২৯ হাজারের বেশি। একদিনে সংক্রমণে মৃত্যুও দুশোর কাছাকাছি।

দেশের করোনা পরিস্থিতি উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে মহারাষ্ট্র। অন্যদিকে সংক্রমণের দ্বিতীয় ধাক্কা শুরু হয়েছে মধ্যপ্রদেশে। গুজরাটেও সংক্রমণ লাগামছাড়া। দক্ষিণের কেরল, তামিলনাড়ু থেকে নতুন করে সংক্রমণের হার বৃদ্ধির খবর আসছে। দেশে করোনা নতুন করে ছড়িয়ে পড়ায় আজ ফের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মূলত, কোভিড টিকাকরণ প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করতে এবং সংক্রমণে লাগাম টানতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীদর সঙ্গে জরুরি আলোচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের বুলেটিন বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড সংক্রমণ ধরা পড়েছে দেশে। একদিনেই আক্রান্ত ২৮ হাজার ৯০৩ জন। একদিনে সংক্রমণে মৃতের সংখ্যা ১৮৮, যা গত দু’মাসে সর্বাধিক। কেন্দ্রের তথ্য বলছে, অন্তত ৬২ শতাংশ সংক্রমণ এসেছে মহারাষ্ট্র থেকে। দেশে করোনায় মোট মৃতের ৪৬% মারাঠা রাজ্যের।

দেশে যেভাবে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এসেছিল, এখন একেবারেই উল্টো ছবি দেখা যাচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, করোনার নতুন স্ট্রেনের শুধু নয়, যেভাবে মানুষজন কোভিড প্রোটোকল ভেঙে মেলামেশা করছেন, তাতেই সংক্রমণ আকাশছোঁয়া। ট্রেনে-বাসে আগের মতোই ভিড়, সঠিকভাবে মাস্ক পরার বালাই নেই, লোকাল ট্রিনগুলিতে তিল ধারণের জায়গা নেই, দোকান-বাজার-রেস্তোরাঁ কোথাও সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিং মেনে চলা হচ্ছে না, তাই সংক্রমণও বাগে আনা যাচ্ছে না। দেশে কোভিড অ্যাকটিভ কেসের হার ২ শতাংশ পেরিয়ে গেছে, যা রীতিমতো অ্যালার্মিং। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাইরাস সক্রিয় রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকলে সংক্রমণের হার আরও বাড়বে। একজনের থেকে অন্যজনের শরীরে দ্রুত ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়বে।

মহারাষ্ট্রের করোনার পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর জানাচ্ছে, একদিনে ১৬ হাজারের বেশি করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। মারাঠা রাজ্যে এখন কোভিড রোগীর সংখ্যা ২৩ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। মুম্বই শহরের বহুতলগুলোতে প্রায় ৮০ শতাংশ সংক্রমণের খবর এসেছে। তুলনায় বস্তি এলাকাগুলোতে সংক্রমণ কম। এশিয়ার বৃহত্তম বস্তি ধারাভিতে এখনও কোভিড সংক্রমণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে রাজ্যবাসীকে সতর্ক করে বলেছেন, যেভাবে সংক্রমণ বাড়ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টিকে যেন হালকাভাবে না নেওয়া হয়। গোটা মারাঠা রাজ্যে আগামী ৩১ মার্চ অবধি নতুন করোনা বিধি জারি করা হয়েছে। সিনেমা হল, হোটেল-রেস্তোরাঁতে ৫০ শতাংশের বেশি জমায়েত হলেই কড়া ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। পারস্পরিক দূরত্ব বিধি মানতে হবে রাস্তায়। এর ব্যতিক্রম দেখলেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যে সিনেমা হল বা রেস্তোরাঁ নিয়ম মানবে সেগুলি বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে নির্দেশিকায় বলা হয়েছে।

মহারাষ্ট্র ছাড়া কেরল, তামিলনাড়ু, কর্নাটক, গুজরাটের করোনা পরিস্থিতি চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৭৮.৪১ শতাংশ কোভিড সংক্রমণ এই রাজ্যগুলি থেকেই ধরা পড়েছে। কোভিড গ্রাফ নিয়ন্ত্রণে না এলে, প্রয়োজনে ফের কড়া ব্যবস্থা নিতে পারে সেসব রাজ্যের সরকার।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More