বিশ্বের উচ্চতম রেল সেতু ভূস্বর্গে, ধনুকের মতো বাঁকানো সেতুর উচ্চতা হার মানাবে আইফেল টাওয়ারকেও

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কুতুম মিনারের থেকেও উঁচু। আস্ত একটা আইফেল টাওয়ারও মাথা তুলে ছুঁতে পারবে না ভূস্বর্গের এই রেল সেতুকে। চেনাব নদীর ওপরে আকাশছোঁয়া এই সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল কয়েক বছর আগে। ঠিক ছিল পাঁচ বছরের মধ্যেই বিশ্বের সবথেকে উঁচু এই সেতু তৈরি হয়ে যাবে। সেই সময়সীমা পেরিয়েছে। রেলমন্ত্রী পীযুষ গয়াল জানিয়েছেন, গত বছর করোনার কারণে সেতুর কাজ পিছিয়েছিল। তবে এখন জোরকদমে কাজ চলছে। নির্মাণকাজ প্রায় শেষের দিকে। সব ঠিক থাকলে আগামী বছর জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে এই সেতু।

জম্মু-কাশ্মীরের রিয়াসি জেলায় চেনাব নদীর ওপরে ধনুকের মতো বাঁকানো সেতুটির দু’পাশে পাহাড়ের স্তম্ভ বানাতে হয়েছে। সেতুটি তৈরির দায়িত্ব কোঙ্কন রেলের হাতে থাকলেও সার্বিক ভাবে জম্মু-শ্রীনগর ৩৪৩ কিলোমিটার রেলপথ তৈরির প্রকল্পটি দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে উত্তর রেল। ৩৫৯ মিটার উঁচু এই রেল সেতু এখনও অবধি বিশ্বের উচ্চতম সেতু। রেলমন্ত্রী পীযুষ গয়াল টুইট করে বলেছেন, বিশ্বের উচ্চতম রেল সেতু তৈরির কাজ প্রায় শেষ। ইতিহাস তৈরি করতে চলেছে ভারতীয় রেল।

সেতু নির্মাণে খরচ পড়েছে প্রা ১২৫০ কোটি টাকা। চেনাব নদী থেকে সেতুটির উচ্চতা ৩৫৯ মিটার। প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের থেকেও উচ্চতা বেশি। সেতুটির দৈর্ঘ্য ১৩১৫ মিটার। চওড়ায় প্রায় ৪৬৭ মিটার। সেতুর মূল আর্চের নকশা শুরু হয় ২০১৭ সাল থেকে।

Marvel In Making": Piyush Goyal Updates On 'World's Highest' Rail Bridge

ভারতীয় রেলের এই প্রকল্পের সূচনা হয় গত শতকের শেষ দশক নাগাদ। ২০০৩ সালে একে জাতীয় প্রকল্প হিসেবে ঘোষণা করে তৎকালীন এনডিএ সরকার। জম্মু-কাশ্মীরকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করাই শুধু নয়, আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে ও প্রতিরক্ষায় এই রেল সেতুর গুরুত্ব আছে। উধমপুর কাটরা সেকশন, বানিহাল কাজিগন্দ সেকশন ও কাজিগন্দ রারাম্মুলা সেকশনে কাজ হয়ে গেছে। এখনও কিছু সুড়ঙ্গ ও টানেল তৈরির কাজ বাকি। যতদূর জানা গিয়েছে ১৭৪ কিলোমিটার টানেলের মধ্যে ১২৬-১৩০ কিলোমিটার টানেল তৈরির কাজ প্রায় শেষ।

India joins the superlative club, we now have the world's highest rail bridge - India News

খাড়া পাহাড়ের ওপরে এই রেল সেতু যে কোনও শক্তিশালী বিস্ফোরণ সহ্য করতে পারবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ভূমিকম্পের তীব্রতা যদি ৮ রিখটারও ছাড়িয়ে যায়, তাহলেও কোনও ক্ষতি হবে না এই সেতুর। আর্চের মতো এই সেতু তৈরির কাজও খুব সহজ ছিল না। পাহাড় ফাটিয়ে প্রথমে হেলিপ্যাড তৈরি করা হয়। সেনা কপ্টারে চাপিয়ে যন্ত্রপাতি বয়ে নিয়ে এসে নির্মাণকাজ শুরু হয়। পাহাড়ের দুই প্রান্তে প্রায় ১২৭ মিটার উঁচু লোহার পিলিয়ন বসানো হয়েছে। ২৫ হাজার টনেরও বেশি ইস্পাত লেগেছে সেতুটি তৈরি করতে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কম করেও ১২০ বছর দিব্যি শক্তপোক্ত থাকবে এই সেতু। কোঙ্কন রেল এই সেতু ও রেলপথ তৈরির জন্য প্রায় ১৬৬ কিলোমিটার রাস্তাও বানিয়েছে, ফলে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যোগাযোগ আরও বেড়েছে। উপত্যকার পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও বিপ্লব আনতে চলেছে এই রেল সেতু।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More