হোয়াটস্যাপের মধ্যেই ঢুকে পড়তে চাইছে জিওমার্ট, ৬ মাসের মধ্যেই বদল দেখা যাবে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: হোয়াটসঅ্যাপের প্রাইভেসি পলিসি নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। কিন্তু তার মধ্যেই বড় ঘোষণা করল মুকেশ আম্বানির রিল্যায়ান্স। আগামী ৬ মাসের মধ্যে রিলায়্যান্স জিও-র জনপ্রিয় অনলাইন শপিং প্ল্যাটফর্ম জিওমার্ট সংযুক্ত হতে চলেছে হোয়াটসঅ্যাপের সঙ্গে। এখনও অবধি বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ। প্রায় ৪০ কোটি গ্রাহকের কাছে পৌঁছে যাবে রিল্যায়ান্সের জিওমার্ট পরিষেবাও। রিল্যায়ান্স ইন্ডাস্ট্রিজের জিও প্ল্যাটফর্ম এবং ফেসবুক ও তার অধীনস্থ মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ—এই বাঁধনেই এক উন্নত ডিজিটাল ভারত গড়ার লক্ষ্যে এগোতে চলেছে মুকেশ আম্বানির সংস্থা।

রিল্যায়ান্স জিও-র অনেকগুলো প্ল্যাটফর্ম আছে। নেট পরিষেবা তো বটেই, জিও-র অন্যতম বড় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম হল জিওমার্ট। মে মাস থেকে চালু হয়েছে জিওমার্ট পরিষেবা। জিওমার্ট–যাকে রিল্যায়ান্স বলছে ‘দেশ কি ন্যায়ি দুকান’। দেশের ছোট ও ক্ষুদ্র মুদিখানা ও স্টেশনারি দোকানগুলিকে এক ছাতার তলায় এনে নতুন ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে। মুকেশ আম্বানি বলেছিলেন, সারা দেশের প্রায় তিন কোটি মুদিখানা ও স্টেশনারি দোকানকে জুড়ে জিওমার্ট তৈরি করা হয়েছে। এর সাহায্যে অনলাইনেই স্থানীয় দোকানবাজার থেকে জিনিসপত্র অর্ডার দিতে পারবেন গ্রাহকরা। সেই অর্ডার নিয়ে বাড়ির দরজায় পৌঁছে দেবে জিওমার্ট।

আর হোয়াটসঅ্যাপের সঙ্গে জিওমার্ট সংযুক্ত হয়ে গেলে সুবিধা অনেক। কারণ ভারতে এখনও অবধি হোয়াটসঅ্যাপ বিপুল জনপ্রিয়। স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের প্রায় সবাই এই মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করেন।  আর সস্তায় ঘরে ঘরে ইন্টারনেট পরিষেবা পৌঁছে দিচ্ছে জিও। তাই দুই সংস্থার যুগলবন্দিতে এক নতুন সম্ভাবনার পথ খুলে যাবে।

রিল্যায়ান্স জিও জানাচ্ছে, মুদির দোকান, ছোট ডিপার্টমেন্টাল স্টোর বা হকারদের অনলাইনে কেনাবেচা করার কোনও রাস্তা এতদিন ছিল না। লকডাউনে তাই এইসব ব্যবসায়ীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ। জিওমার্ট ও হোয়াটসঅ্যাপ এক হয়ে এই ছোট ব্যবসায়ীদের রোজগারের নতুন রাস্তা খুলে দেবে। দেশের একটা বড় অংশই মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে। এখন জিওমার্ট এইসব ছোট স্টোরগুলিকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে জুড়ে দেবে। জিনিসপত্র অর্ডার করতে হলে হোয়াটসঅ্যাপেই করা যাবে। পেমেন্টও করা যাবে হোয়াটসঅ্যাপেই। পেটিএমের মতো পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম যাঁদের সড়গড় নয়, তাঁরা সহজে হোয়াটসঅ্যাপেই টাকা মেটাতে পারবেন।

জিওমার্ট আর হোয়াটসঅ্যাপের জুটিতে সুবিধা আরও আছে। প্রথমত, ছোট ব্যবসায়ীরাও ডিজিটাল কেনাবেচায় অভ্যস্ত হবেন। লকডাউন বা ভবিষ্যতে এমন সঙ্কটের পরিস্থিতি এলে অনলাইনেই গ্রাহকরা জিনিসপত্রের অর্ডার দিতে পারবেন। ডিজিটাল ব্যবসার এক নতুন দিগন্ত খুলে যাবে দেশে। ছোট ব্যবসায়ীদের রুজি রোজগারে টান পড়বে না। দ্বিতীয়ত, সুবিধা রয়েছে গ্রাহকদেরও। বাড়ি বসেই সহজে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস চলে আসবে হাতে। জিওমার্ট যেহেতু রিল্যায়ান্স জিও-র প্ল্যাটফর্ম, কাজেই অফারও চলতে থাকবে বিভিন্ন সময়ে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More