‘আইসিস আমার অনুপ্রেরণা, শ্রীলঙ্কা হামলা দেখে অভিভূত,’ কেরলে নাশকতার ছক কষতে গিয়ে পাকড়াও যুবক

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইস্টারের সকালে শ্রীলঙ্কায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণ দেখে সে নাকি অভিভূত হয়ে গিয়েছিল। হামলার অন্যতম মূল চক্রী হাশিম মহম্মদ জাহরানের একাধিক ভিডিও ও অডিও বার্তা মনোযোগ সহকারে শুনত সে। আইএস-এর একাধিক স্লিপার সেলের সঙ্গেও ছিল নিত্য ওঠাবসা। সেখান থেকেই মনে মনে কেরলে আত্মঘাতী হামলার ছক কষেছিল সে। জেরায় বছর উনত্রিশের যুবকের মুখ থেকে এমন কথা শুনে তাজ্জব জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-এর গোয়েন্দারা।

শ্রীলঙ্কায় হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট (আইএস)। হামলার নেপথ্যে নাম উঠে এসেছে সে দেশের জঙ্গি সংগঠন ন্যাশনাল তৌহিদ জামাতেরও (এনটিজে)। দ্বীপরাষ্ট্রের পরে আইএসের পরবর্তী নিশানায় থাকতে পারে ভারতের একাধিক মেট্রো শহর, সে আশঙ্কার কথা আগেই জানিয়েছিল এনআইএ। গোটা দেশ জুড়েই তাই শুরু হয়েছিল তল্লাশি অভিযান। গোয়েন্দাদের কাছে খবর ছিল, কেরলের কাসারাগড় ও পালাক্কাড় জেলায় বেশ কিছু জঙ্গি ঘাঁটি গেড়ে রয়েছে যাদের সঙ্গে সরাসরি যোগ রয়েছে আইএস-এর। সেই খোঁজে গিয়েই তদন্তকারী অফিসারদের হাতে ধরা পড়ে এই যুবক।

নাম রিয়াস এ ওরফে রিয়াস আবুবাকার। গোয়েন্দাদের দাবি এটা ছদ্মনামও হতে পারে। একটা সময় লস্কর মাথা আবু দুজানার সঙ্গে নাকি যোগাযোগ ছিল রিয়াসের। কট্টরপন্থী ইসলাম জঙ্গি সংগঠনের নেতা এবং শ্রীলঙ্কা হামলার অন্যতম চক্রী হাশিম জাহরানের মতাদর্শে অনুপ্রাণিত ছিল সে। গত এক বছর ধরে হাশিম ও জাকির নায়েকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত রিয়াস।

গত ২১ এপ্রিল, ইস্টারের সকালে শ্রীলঙ্কায় এই হাশিমের নেতৃত্বেই আটটি ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ঘটায় জঙ্গিরা। তাতে নারী, পুরুষ এবং শিশু মিলিয়ে ২৫০ জন প্রাণ হারান। জখম সাড়ে চারশোরও বেশি। হামলাকারীদের মধ্যে বেশিরভাগই বিদেশে ফেরত, উচ্চ শিক্ষিত, অভিজাত পরিবারের সন্তান বলে তদন্তে  উঠে এলেও ব্যতিক্রম ছিল হাশিম। মুসলিম ছেলেমেয়েদর মগজধোলাই করতে প্রায়ই অনলাইনে নানারকম ভিডিয়ো পোস্ট করত সে। তাতে থাকত জিহাদের কথা, নাশকতার কথা। একটা ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘‘নাশকতার এমন ছক কষব, এমন ঘটনা ঘটাব যে দেহাংশ খোঁজারও সময়ও মিলবে না। আল্লাকে যারা অপমান করে তাদের নরকে পাঠানোর বন্দোবস্ত করে ছাড়ব।’’ রিয়াস জানিয়েছে এই সব একাধিক ভিডিও তার সংগ্রহে রয়েছে। প্রতিদিন সে গুলো শুনে শুনেই হামলার ছক সাজিয়েছিল সে।

এনআইএ সূত্রে খবর, ২০১৬ সালে কেরলের একাধিক যুবক জঙ্গি প্রশিক্ষণ নিতে আইএস-এ যোগ দেয়। তাদের মধ্যে ছিল আব্দুল রশিদ, আসফাক মাজিদ, আব্দুল খায়াউম। এই তিনজনেই বর্তমানে আফগানিস্তান, সিরিয়ার নানা জায়গায় আত্মগোপন করে আছে। রিয়াস স্বীকার করেছেন, আব্দুল রশিদের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে। ভারতে আত্মঘাতী হামলার ষড়যন্ত্রের পিছনে আব্দুল রশিদ ও খায়ায়ুমের মাথাও রয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই কেরলে বড়সড় হামলার ছক কষেছিল তারা।

আরও পড়ুন:

বানিহালে গাড়িবোমা বিস্ফোরণ থেকে পুলওয়ামা হামলার যোগ, পঞ্জাবের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ধরা পড়ল এই স্কলার

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More