স্নায়ুর রোগের মিথ্যা অভিযোগ করেছেন স্বেচ্ছাসেবক, ১০০ কোটির মানহানির মামলা সেরামের

সেরামের টিকার ডোজে অ্যাকিউট নিউরো এনসেফ্যালোপ্যাথি নামে জটিল স্নায়ুর রোগ দেখা দিয়েছে স্বেচ্ছাসেবকের। তাঁর আইনজীবীর দাবি এমনটাই। এই রোগ আসলে কী?

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিড টিকার ট্রায়ালে কোনও জটিল রোগ হয়নি। এমনটাই দাবি করল সেরাম ইনস্টিটিউট। সংস্থার তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, টিকার ডোজে অ্যাডভার্স সাইড এফেক্ট দেখা যায়নি। স্নায়ুর রোগ হওয়ার যে দাবি করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। ভুয়ো খবর ছড়ানো হয়েছে। এমন অপপ্রচারের অভিযোগে ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা ঠুকে দিয়েছে সেরাম।

অক্সফোর্ড টিকার ফর্মুলায় ভারতে কোভিশিল্ড টিকা বানিয়েছে সেরাম। এই টিকার তৃতীয় পর্বের বৃহত্তর ট্রায়াল চলছে দেশের ১৫টি জায়গায়। এই ট্রায়াল চলার সময়েই এক স্বেচ্ছাসেবক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে খবর। অভিযোগ উঠেছে, টিকার ডোজে জটিল স্নায়ুর রোগ দেখা দিয়েছে বছর চল্লিশের ওই ব্যক্তির। তাঁর অবস্থা খারাপ। আইসিইউতে ভর্তি। ওই ব্যক্তির তরফে সেরামের কাছে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে একটি ল ফার্ম। অসুস্থ স্বেচ্ছাসেবকের আইনজীবীর দাবি, গত ১ অক্টোবর টিকার ডোজ দেওয়া হয় ওই ব্যক্তিকে। তারপরেই তার মানসিক রোগ দেখা দিয়েছে।

 

সেরামের টিকায় ঠিক কী রোগ দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ?

সেরামের টিকার ডোজে অ্যাকিউট নিউরো এনসেফ্যালোপ্যাথি নামে জটিল স্নায়ুর রোগ দেখা দিয়েছে স্বেচ্ছাসেবকের। তাঁর আইনজীবীর দাবি এমনটাই। এই রোগ আসলে কী? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যাকিউট এনসেফ্যালোপ্যাথিকে টক্সিক এনসেফ্যালোপ্যাথি (Toxic encephalopathy) বলা হয়। যদি কোনওভাবে টক্সিক পদার্থ রক্তে মিশে যায় তাহলেই এই রোগ দেখা দেয়। টক্সিক এনসেফ্যালোপ্যাথি হল স্নায়ুর রোগ। সাধারণত, সায়ানোটক্সিন বা ওই জাতীয় টক্সিক পদার্থ শরীরে ঢুকলে ক্রনিক স্নায়ুর রোগ হতে পারে। তার নানারকম উপসর্গ। যেমন, স্মৃতিশক্তি চলে যাওয়া, কথা বলায় সমস্যা, ভুলে যাওয়া, ভুল বকা, ঝাপসা দৃষ্টি ইত্যাদি।

বিভিন্ন রাসায়নিকের বিক্রিয়া থেকেও এই রোগ হতে পারে। সিন্থেটিক নিউরোটক্সিক্যান্ট শরীরে ঢুকলেও ক্রনিক স্নায়ুর রোগ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তখন শরীরে প্রদাহ হয়, পেশির ব্যথা শুরু হয়, হাত নাড়াতে সমস্যা হয়। তাছাড়া মাথা যন্ত্রণা, বমিভাব, ঝিমুনি, অবসাদে আক্রান্ত হতেও দেখা যায় রোগীকে।

 

সেরামের বক্তব্য কী?

সেরামের বক্তব্য, এই ধরনের জটিল স্নায়ুর রোগ কোভিশিল্ড টিকার ডোজে হয়নি। কারণ টিকার ডোজে এমন কোনও রাসায়নিক বা টক্সিক পদার্থ নেই যাতে এই রোগ হতে পারে। তাহলে আরও অনেকের মধ্যেই এমন জটিল স্নায়ুর রোগ দেখা যেত। এতএব সংস্থার দাবি, ওই ব্যক্তির আইনজীবী মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। হয়তো স্বেচ্ছাসেবকের কোনও মানসিক সমস্যা ছিল, তবে টিকার ডোজে এমন রোগ হয়নি বলেই দাবি।

সংস্থার তরফে বলা হয়েছে, ভুয়ো খবর ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। এমন মিথ্যা অভিযোগ আনলে তার প্রভাব পড়বে টিকার ট্রায়ালে। ভ্যাকসিন বন্টনেও দেরি হবে।

প্রাথমিকভাবে ৪ কোটি টিকার ডোজ তৈরিই রেখেছে সেরাম। টিকায় সবুজ সঙ্কেত মিললে প্রাথমিকভাবে ১০ কোটি ডোজের প্রস্তুতি হয়ে যাবে ডিসেম্বরেই। জরুরি ভিত্তিতে টিকা নিয়ে আসার প্রস্তাবও দিয়েছে সেরাম। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গতকালই সেরামে টিকার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে গিয়েছিলেন। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, আগামী বছরের মধ্যে ৩০-৪০ কোটি টিকার ডোজ তৈরি হয়ে যাবে। মোট ১০০ কোটি ডোজের জন্য চুক্তি হয়েছে অ্যাস্ট্রজেনেকার সঙ্গে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More