গৃহহীনদের জায়গা নেই ইন্দোরে, শহরের বাইরে ফেলে আসছে পুরকর্মীরা, ভিডিও ভাইরাল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরপর চার বছর ধরে কেন্দ্রের তরফে ভারতের সবথেকে পরিষ্কার শহরের তকমা পেয়েছে মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর। আর সেখানেই পুরকর্মীদের একটি কর্মকাণ্ডের ভিডিও ঘিরে ছড়াল উত্তাপ। শহরের মধ্যে থেকে গৃহহীন মানুষদের শহরের বাইরে রেখে আসছিল পুরসভার কর্মীরা। এই ঘটনা ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।

সম্প্রতি একটা ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানে দেখা যাচ্ছে ইন্দোরের বাইরে হাইওয়ের ধারে একটি ট্রাক থেকে গৃহহীন বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের নামিয়ে দিচ্ছে পুরকর্মীরা। এই প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যে এই ধরনের অমানবিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করে বিরোধীরা। ফলে চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত সবাইকে ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছেন প্রশাসন।

এই ঘটনার বেশ কয়েকটি ভিডিও সামনে এসেছে। কোনও ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে গৃহহীনদের নামিয়ে দিয়ে ট্রাকের মধ্যে থেকে তাদের জিনিসপত্র ছুড়ে ফেলে দিচ্ছে কর্মীরা। কোথাও আবার ঠিকমতো হাঁটতে চলতে না পারা বৃদ্ধাকে জোর করে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কোথাও আবার দেখা যাচ্ছে এই ঘটনার প্রতিবাদ করছেন স্থানীয়রা।

ইন্দোর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের অতিরিক্ত কমিশনার অভয় রাজনগাঁওকার অবশ্য দাবি করেছেন, গৃহহীনদের নাইট শেল্টারে নিয়ে যাচ্ছিল পুরকর্মীরা। তাদের শহরের বাইরে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।

তবে এই ঘটনায় বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে কংগ্রেস। দলের মুখপাত্র নরেন্দ্র সালুজা বলেন, “শহর পরিষ্কার রাখার নামে ইন্দোর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের আধিকারিকরা গৃহহীনদের ঠান্ডায় ছেড়ে দিচ্ছে। এবার এই আধিকারিকদের কী করা উচিত? তারা কি বিজেপির আদর্শ অনুযায়ী কাজ করছে? যেভাবে বিজেপি আডবাণীজি, জোশীজি, যশবন্ত সিনহার মতো বর্ষীয়ান নেতাদের ছেড়ে দিয়েছে সেই ভাবেই গৃহহীনদের বের করে দেওয়া হচ্ছে।”

বিতর্ক শুরু হতেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেমেছে রাজ্য বিজেপি। মধপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান এই ঘটনার ভিডিওতে দেখতে পাওয়া কর্মীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই নাইট শেল্টারের দায়িত্বে থাকা দুই কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া ডেপুটি কমিশনার প্রতাপ সোলাঙ্কিকেও সাসপেন্ড করা হয়েছে।

শিবরাজ এই ঘটনা নিয়ে চলেছেন, “ইন্দোরের পুরকর্মীরা গরিব মানুষদের সঙ্গে যে ব্যবহার করেছে তার খবর আজ আমি পেয়েছি। দুজন কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া ডেপুটি কমিশনারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। ওই বয়স্ক মানুষদের খেয়াল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলাশাসককে। বয়স্কদের বিরুদ্ধে অমানবিক ব্যবহার কখনও বরদাস্ত করা হবে না। প্রত্যেক বয়স্ক মানুষকে সম্মান ও ভালবাসা দিতে হবে। এটাই আমাদের সংস্কৃতির পরিচায়ক।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More