করোনা ঠেকাতে ১৫ দিনের কার্ফু মহারাষ্ট্রে, ১৭ পাতার নির্দেশিকায় কড়া কোভিড বিধি জারি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা ঠেকাতে একাধিক পদক্ষেপ নিতে চলেছে মহারাষ্ট্র সরকার। আজই সর্বদলীয় বৈঠক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে। সম্পূর্ণ লকডাউনের পথে না গিয়ে কীভাবে কড়া কোভিড বিধি চালু করা যায় সে নিয়ে আলোচনার পরে ১৭ পাতার নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য সরকার। আগামীকাল বুধবার থেকে ১৫ দিনের কার্ফু চালু হচ্ছে মহারাষ্ট্রে। জরুরি পরিষেবা ছাড়া রাজ্যের জায়গায় জায়গায় জারি থাকবে ১৪৪ ধারা।

১৮৯৭ সালের মহামারী আইন ও ২০০৫ সালের বিপর্যয় মোকাবিলা আইনের উল্লেখ করে রাজ্যজুড়ে যে কার্ফু জারি করা হয়েছে তার নাম ‘ব্রেক দ্য চেন’। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, ১৪ এপ্রিল রাত ৮টা থেকে ১ মে সকাল ৭টা অবধি রাজ্যজুড়ে কার্ফু বহাল থাকবে।

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর নির্দেশিকায় বলেছেন, সম্পূর্ণ লকডাউনের পথে না গিয়ে কড়া কোভিড বিধি চালু করে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হবে। রাজ্যে নাইট কার্ফু চালু থাকলেও আক্রান্তের সংখ্যায় রাশ টানা যাচ্ছে না। তাই টানা ১৫ দিন কার্ফু জারি করে সংক্রমণের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। কার্ফু চলাকালীন রাজ্যের সমস্ত স্কুল, কলেজ, সিনেমা হল-থিয়েটার, হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকবে। সমস্ত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এই কয়েকদিনের বন্ধ রাখা হবে। জরুরি ভিত্তিতে গণপরিবহনে ছাড় থাকবে।

হাসপাতাল-নার্সিংহোম, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ওষুধ ও খাবারের দোকান, ডেয়ারি, বেকারি, মুদির দোকান ইত্যাদি জরুরি পণ্যের পরিষেবা চালু থাকবে। কোল্ড স্টোরেজ, এটিএম, পেট্রোল পাম্প, ই-কমার্স, পোস্টাল সার্ভিস ইত্যাদি চালু থাকবে।

মুম্বইতে এখন প্রায় প্রতিদিনই করোনা সংক্রমণ আট হাজার ছাড়িয়ে যাচ্ছে। বাণিজ্য নগরীর বস্তি এলাকাগুলোতেও সংক্রমণ ফের ছড়াতে শুরু করেছে। এশিয়ার বৃহত্তম ধারাভি বস্তি প্রায় করোনা-শূন্য হয়ে গিয়েছিল। এখন ধারাভিতেও কোভিড রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, লোকজন গুরুত্ব দিয়ে কোভিড বিধি মানছে না বলেই সংক্রমণ এত লাগামছাড়া। ট্রেনে-বাসে ভিড়, রাস্তাঘাটে জমায়েত, মুখে মাস্ক নেই বেশিরভাগেরই, পারস্পরিক দূরত্ব মানার বালাই নেই। মুম্বইয়ের লোকাল ট্রেনগুলি থেকে সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়ছে বলে আগেই সতর্ক করেছিল বৃহন্মুম্বই প্রশাসন। রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্রের কোভিড টাস্ক ফোর্স পাঠানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞের দল জানিয়েছে, রিয়েল টাইম আরটি-পিসিআর টেস্টের সংখ্যা বাড়ানো হবে রাজ্যে। বাসস্ট্যান্ড, দোকান-বাজার ইত্যাদি জনসমাগমের জায়গাগুলিতে র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট চালু করা হবে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আইসোলেশন বেডের সংখ্যাও বাড়ানো হচ্ছে বলে খবর।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More