এগারো মাসে খতম ২০০ জঙ্গি, নিকেশ দুই হিজবুল কম্যান্ডার, বড় সাফল্য ভারতীয় সেনার

সৈফুল্লাহের আগে ভারতীয় সেনার সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে পুলওয়ামার বেইগপোরায় রিয়াজ আহমেদ নাইকুকে নিকেশ করে। সুদর্শন, শিক্ষিত, টেক-স্যাভি এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয় বুরহান ওয়ানির পরে জঙ্গি দলে কাশ্মীরি তরুণদের টেনে আনার কাজই করত রিয়াজ নাইকু।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত জম্মু-কাশ্মীরেই অন্তত ২০০ জঙ্গিকে নিকেশ করেছে ভারতীয় বাহিনী। যাদের মধ্যে দু’জন প্রতাপশালী হিজবুল কম্যান্ডার। নিয়ন্ত্রণরেখায় লাগাতার পাক সেনার সংঘর্ষবিরতির মাঝেই একের পর এক জঙ্গি নিধন অভিযানে সাফল্য এসেছে ভারতীয় সেনার। এমনটাই জানিয়েছেন, জম্মু-কাশ্মীরের ডিজিপি দিলবাগ সিং।

গত রবিবারই পুলওয়ামায় সেনার গুলিতে খতম হয়েছে হিজবুলের অপারেশনাল কম্যান্ডার সইফ উল ইসলাম ওরফে ডক্টর সৈফুল্লাহ। কাশ্মীরে হিজবুল গোষ্ঠীর সক্রিয় কম্যান্ডার ছিল সৈফুল্লাহ। রিয়াজ নাইকুর হত্যার পরে হিজবুলের নেটওয়ার্ক ছিল তারই হাতে। এই কম্যান্ডারের মৃত্যু নিঃসন্দেহে জঙ্গি গোষ্ঠীতে একটা বড় ধাক্কা।

সৈফুল্লাহের আগে ভারতীয় সেনার সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে পুলওয়ামার বেইগপোরায় রিয়াজ আহমেদ নাইকুকে নিকেশ করে। সুদর্শন, শিক্ষিত, টেক-স্যাভি এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয় বুরহান ওয়ানির পরে জঙ্গি দলে কাশ্মীরি তরুণদের টেনে আনার কাজই করত রিয়াজ নাইকু। ২০১৬ সালে অনন্তনাগে সেনার গুলিতে বুরহানের মৃত্যুর পরে হিজবুলের সেই শূন্যস্থান দেওয়া হয় সবজারকে। পরে সেনার গুলিতে সবজারেরও প্রাণ গেলে উপত্যকায় জঙ্গি সংগঠনের কম্যান্ডার হিসেবে নিয়োগ করা হয় নাইকুকে। উপত্যকায় বড়সড় জঙ্গিদল গড়ার প্রশিক্ষণ দিত নাইকু। তার মৃত্যুর পরেই ছন্নছাড়া হয়ে পড়ে হিজবুল গোষ্ঠী। সেই সুযোগেই উপত্যকার বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপন করে থাকা জঙ্গি দলের অনেক সক্রিয় সদস্যকেই নিকেশ করে সেনাবাহিনী।

জম্মু-কাশ্মীরের ডিজিপি দিলবাগ বলেছেন, রিয়াজ নাইকু খতম হওয়ার পরে কাশ্মীরে হিজবুল গোষ্ঠী শুধু নয় অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের অন্তত ২০০ জনকে খতম করা সম্ভব হয়েছে।

এদিকে নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে ভারতে ঢোকার চেষ্টা চালাচ্ছে পাক মদতপুষ্ট প্রায় আড়াইশো জঙ্গি। সন্ত্রাসবাদীদের নিয়ন্ত্রণরেখা পার করিয়ে দিতে লাগাতার সংঘর্ষ বিরতি ভেঙে চলেছে পাক সেনারা। জানুয়ারি থেকে অগস্টের মধ্যে অন্তত ২৪২ বার গোলাগুলি চলেছে নিয়ন্ত্রণরেখায়। পয়লা জানুয়ারি থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ১৮৬ বার সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন করা হয়েছে সীমান্তে। শীতের আগে সীমান্ত পেরিয়ে উপত্যকায় ঢুকে পড়ার বড়সড় চেষ্টা চালাতে পারে জঙ্গিরা। সেনা সূত্র জানাচ্ছে, জঙ্গি অনুপ্রবেশ রোখার জন্য সীমান্তে বিশেষ স্ট্র্যাটেজি নেওয়া হচ্ছে। নিরাপত্তা আরও মজবুত করতে নতুন করে সেনা পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে। নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ৩৪৩.৯ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে সেনার সংখ্যা প্রায় তিনগুণ করা হয়েছে। ভারতীয় বাহিনীর তিনটি ব্যাটেলিয়ন দিবারাত্র সীমান্তে নজর রেখে বসে আছে। সেনাদের হাতেও রয়েছে আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র। কিছুদিন আগেই উত্তর কাশ্মীরের কুপওয়ারা সেক্টরে নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে সেনাবাহিনী। জওয়ানরা জানান, তিন-চারজন লোক দড়ি দিয়ে বেঁধে একটি টিউব কিষেনগঙ্গা নদীতে ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এই টিউবের ভেতর থেকে উদ্ধার হয় ৪টি একে-৪৭ রাইফেল, ৮টি ম্যাগাজিন ও ২৪০টি কার্তুজ।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More