ভারতে চারদিনে করোনায় মৃত্যু ৯০০-র বেশি, হঠাৎ করেই বাড়ছে গ্রাফ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। কোভিড আক্রান্ত হয়ে ভারতে প্রথম মৃত্যু হওয়ার পরে ১০০০ মৃত্যু পর্যন্ত যেতে সময় লেগেছিল ৪৮ দিন। কিন্তু বর্তমানে মাত্র চারদিনেই তার কাছাকাছি মৃত্যু হয়েছে। এই পরিসংখ্যানই বুঝিয়ে দিচ্ছে করোনা গ্রাফ হঠাৎ করেই বেড়ে গিয়েছে।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১২ মার্চ ভারতে করোনায় প্রথম মৃত্যু হয়েছিল। ২৯ এপ্রিল সেই সংখ্যা ১০০০ পেরয়। কিন্তু তারপর থেকে সেই সংখ্যা বৃদ্ধির হার দ্রুত বেড়েছে। ১০০০ থেকে ২০০০ মৃত্যু হতে সময় লেগেছে ১১ দিন। ৩০০০ হতে সময় লেগেছে ৮ দিন। ৪০০০ হতে সময় লেগেছে ৭ দিন। ৫০০০-এর বেশি হতে সময় লেগেছে ৬ দিন। ৪ জুন পর্যন্ত ভারতে মৃত্যু হয়েছে ৬০৭৫। এই সংখ্যায় পৌঁছতে সময় লেগেছে ৪ দিন। অর্থাৎ চারদিনে মারা গিয়েছেন ৯১১ জন। বর্তমানে ভারতে কোভিড আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৬৩৪৮ জনের।

শুধুমাত্র মৃতের সংখ্যা নয়, আক্রান্তের সংখ্যাতেও হঠাৎ করে বৃদ্ধি চোখে পড়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতে সংক্রমণ ছড়ানোর ৮৭ দিনের মাথায় ২৫ হাজার আক্রান্ত হয়েছিল। তারপর ৫০ হাজার পেরতে সময় লাগে মাত্র ১১ দিন। ৭৫ হাজার পেরতে সময় লাগে ৭ দিন। ১ লক্ষ পার হতে সময় লাগে ৫ দিন। ১ লক্ষ থেকে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ২ লক্ষ হতে সময় লেগেছে মাত্র ১৫ দিন। বর্তমানে আক্রান্তের সংখ্যা ২,২৬,৭৭০। অর্থাৎ ২৬ এপ্রিল ২৫ হাজার আক্রান্ত থেকে আরও ২ লাখ আক্রান্ত বাড়তে মাত্র ৬ সপ্তাহ সময় লেগেছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে এই গ্রাফ আরও চিন্তার কারণ। সম্প্রতি লকডাউনের পঞ্চম পর্যায়কে কেন্দ্রের তরফে আনলক ফেজ ১ নাম দেওয়া হয়েছে। ধীরে ধীরে অনেক পরিষেবা শুরু হয়েছে। কন্টেইনমেন্ট এলাকা ও রেড জোন বাদ দিয়ে রেস্তোরাঁ, শপিং মল, ধর্মীয় স্থান খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অন্তর্দেশীয় বিমান পরিষেবা ও রেল পরিষেবা শুরু হয়েছে। রাজ্যের মধ্যে বাস পরিষেবা চালু হয়েছে। অটো, ট্যাক্সি পরিষেবা শুরু হয়েছে। অল্প কর্মচারী নিয়ে সরকারি ও বেসরকারি অফিস শুরু হয়েছে। শুধুমাত্র বার, সিনেমা হল, লোকাল ট্রেন, মেট্রোর মতো কিছু পরিষেবা বাদ দিয়ে বাকি সব চালু হয়েছে।

তবে পরিষেবা চালু হলেও অনেক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সবকিছু চলবে। থার্মাল স্ক্রিনিং, মাস্ক, স্যানিটাইজারের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্র- সহ সব রাজ্যই জানিয়েছে, করোনাকে সঙ্গে নিয়েই চলতে হবে। কারণ অর্থনীতিকে এবার শুরু করতে হবে। আর তাই মানুষকে সচেতন হয়ে নিজেদের খেয়াল রাখতে হবে। তা ছাড়া কোনও উপায় নেই।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই ছাড়ের কারণেই সংক্রমণ বাড়ছে। সেইসঙ্গে গত এক মাসে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে আটকে থাকা শ্রমিকরা নিজেদের রাজ্য ফিরেছেন। এই সংক্রমণের একটা বড় অংশ তাদের মধ্যেই রয়েছে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আরও মজবুত করা ও সেইসঙ্গে মানুষের সচেতনতা ছাড়া আর কোনও উপায়ও নেই। যতদিন না কোভিড ১৯-এর ভ্যাকসিন আবিষ্কার হচ্ছে, ততদিন এভাবেই চলতে হবে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More