কম্যান্ডো ট্রেনিং ছিল চার জইশ জঙ্গির, রাতের আঁধারে ৩০ কিমি হেঁটে জম্মুতে ঢুকেছিল

কম্যান্ডো ট্রেনিং ছিল চার জঙ্গির, বলছেন গোয়েন্দা অফিসাররা। গোয়েন্দা অফিসাররা বলছেন, এই চার জঙ্গি পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশের। সেখানে তাদের আত্মঘাতী প্রশিক্ষণ দিয়েছে মৌলানার ভাই মুফতি রউফ আসগর ও জইশের অপারেশনাল কম্যান্ডার কোয়ারি জারার।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু-কাশ্মীরে জঙ্গি নাশকতার খুব বড়সড় ছক সাজানো হয়েছিল তা স্পষ্ট। নাগরোটার এনকাউন্টারের পরে একের পর এক তথ্য সামনে আনছেন ভারতীয় গোয়েন্দারা। গতকালই জানা গিয়েছিল, এনকাউন্টারে খতম চার জইশ জঙ্গিকে প্রশিক্ষণ দিয়ে ভারতে পাঠিয়েছিল জইশ মাথা মৌলানা মাসুদ আজহারের ভাই মুফতি রউফ আসগর। গোয়েন্দারা বলছেন, রাতের আঁধারে ৩০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে উপত্যকায় ঢুকেছিল জঙ্গিরা। বিপুল অস্ত্রশস্ত্রের জোগান দিয়েছিল পাকিস্তানের জইশ সংগঠন।

কম্যান্ডো ট্রেনিং ছিল চার জঙ্গির, বলছেন গোয়েন্দা অফিসাররা। গোয়েন্দা অফিসাররা বলছেন, এই চার জঙ্গি পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশের। সেখানে তাদের আত্মঘাতী প্রশিক্ষণ দিয়েছে মৌলানার ভাই মুফতি রউফ আসগর ও জইশের অপারেশনাল কম্যান্ডার কোয়ারি জারার। এই চার জঙ্গিই সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকেছিল বড়সড় নাশকতা চালানোর জন্যই। পাক সেনাদের সাহায্যে জঙ্গিরা ভারতে ঢুকেছিল বলেও দাবি গোয়েন্দাদের।

জঙ্গিদের সঙ্গে যোগ রয়েছে জইশের অপারেশনাল কম্যান্ডার কাসিম জৈনের। ২০১৬ সালে পাঠানকোট এয়ারবেস হামলায় জড়িত ছিল কাসিম। গোয়েন্দারা বলছেন, এই কাসিম হল জঙ্গিদের প্রশিক্ষক, অস্ত্র বিশেষজ্ঞ। জঙ্গিদের কম্যান্ডো প্রশিক্ষণ দিয়ে তৈরি করে ভারতে পাঠানোই কাজ কাসিমের। আত্মঘাতী জঙ্গি তৈরির শিবির আছে তার। দক্ষিণ কাশ্মীরে একাধিক জঙ্গি নাশকতার পিছনে রয়েছে এই কাসিমেরই হাত। মৌলানার ভাই মুফতি রউফ আসগরের সে ডান হাত। জম্মু-কাশ্মীরে কবে, কোথায় সন্ত্রাসবাদী হামলা হবে তার সবটাই ঠিক করে এই কাসিম।

তদন্তকারীরা বলছেন, নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে অন্তত ২০০ জঙ্গি ভারতে ঢোকার অপেক্ষায় রয়েছে। যাদের মধ্যে রয়েছে আল-বদর, লস্কর-ই-মুস্তাফা গোষ্ঠী। এই গোষ্ঠীর মাথা হিদায়েতুল্লা এখন জঙ্গিদের ফিদায়েঁ প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ করছে। খবর মিলেছে, খাইবার-পাখতুনখোয়ার ক্যাম্পে ২৫ জন জঙ্গিকে বিশেষ ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে।

জঙ্গিদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও জিপিএস ডিভাইস পাওয়া গেছে যার লিঙ্ক রয়েছে পাকিস্তানের সঙ্গে। গোয়েন্দারা বলছেন, রউফ আসগরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল চার জঙ্গির। তাদের কাছ থেকে ডিজিটাল মোবাইল রেডিও গেছে যাতে মাইক্রো ইলেকট্রনিক্স নামে একটি সংস্থার নাম রয়েছে। মনে করা হচ্ছে এই সংস্থা পাকিস্তানেরই। উপত্যকার হাল হকিকত কী, প্ল্যান মাফিক কাজ কতটা হল ইত্যাদি বার বার জানতে চাওয়া হয়েছে জঙ্গিদের কাছে। পাকিস্তানের কোনও জঙ্গি ঘাঁটি থেকেই তথ্য আদানপ্রদান হত বলে দাবি গোয়েন্দাদের।

জিপিএসের তথ্য বলছে, অস্ত্র নিয়ে জম্মুতে ঢোকার আগে কম্যান্ডো ট্রেনিং দেওয়া হয় জঙ্গিদের। শাকারগড়ের জইশ ক্যাম্প থেকে রাতের অন্ধকারে সাম্বা বর্ডার দিয়ে জাটওয়ালে পৌঁছয় জঙ্গিরা। ৩০ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে জম্মু-কাশ্মীরে ঢোকে। গোয়েন্দাদের অনুমান, সাম্বা সেক্টরের মাওয়া গ্রাম দিয়ে উপত্যকায় ঢুকেছিল জঙ্গিরা। এই মাওয়া গ্রাম রামগড় ও হিরনগড় সেক্টরের মাঝে। গোয়েন্দা অফিসাররা বলছেন, বিভিন্ন রুট হয়ে তবেই জম্মুতে ঢোকে জঙ্গিরা। তাদের ভারতে ঢুকতে পাক সেনাদেরও মদত ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More