পাঁচ মাসের শিশুকে বাঁচাতে ৬ কোটির কর মকুব করল কেন্দ্র, চিকিৎসার টাকা তুলল সারা বিশ্ব

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাঁচ মাসের শিশুর প্রাণ বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে সারা বিশ্ব। বিদেশ থেকে বহুমূল্য ওষুধ আমদানির শুল্ক মকুব করে নজির গড়েছে কেন্দ্রীয় সরকারও।

মুম্বইয়ের বাসিন্দা পাঁচ মাসের তিরা কামাত জন্ম থেকেই বিরল স্নায়ুর রোগে আক্রান্ত। ডাক্তারি ভাষায় এই রোগকে বলা হয় ‘স্পাইনাল মাস্কুলার অ্যাট্রপি’ । এমন এক জটিল জিনগত রোগ যা সারা শরীরকেই প্রায় পঙ্গু করে দেয়। স্নায়ুর কোষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়, শরীরে প্রোটিন তৈরি হওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এই রোগ হলে শরীরে ঐচ্ছিক পেশী ঠিক মতো কাজ করতে পারে না, ফলে ওঠাবসা, হাঁটাচলা করা সম্ভব হয় না। সাধারণত ৬ মাস থেকে ১৮ মাসের শিশুদের মধ্যেই এই রোগ বেশি দেখা যায়। স্নায়ুর দুর্বলতা এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে পেশির সঞ্চালন প্রায় বন্ধ হতে বসে। শ্বাসযন্ত্রের ওপরেও এর প্রভাব পড়ে। এই রোগ থাকলে শিশু বেশিদিন বাঁচতে পারে না।

Image result for spinal mascular atrophy

স্পাইনাল মাস্কুলার অ্যাট্রপি রোগের চিকিৎসা ভারতে হয় না। মুম্বইয়ের ডাক্তাররা বলেছেন, এই থেরাপিতে যে ইঞ্জেকশন লাগে তার দাম প্রায় ২২ কোটি টাকা। বিদেশ থেকে আনাতে হয়। তবে এই ইঞ্জেকশন আমদানি করার জন্য ৬ কোটি টাকা শুল্ক দিতে হয়। মধ্যবিত্ত কামাত পরিবারের কাছে এই টাকা জোগাড় করা ছিল অসম্ভব ব্যাপার। তবে হাল ছাড়েননি ডাক্তাররা। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডনবিশের সাহায্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের কাছে আর্জি জানান তিরার মা-বাবা প্রিয়ঙ্কা ও মিহির কামাত। কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে আমেরিকা থেকে ওই ইঞ্জেকশন নিয়ে আসার কর মকুব করা হয়েছে। অর্থাৎ ৬ কোটি টাকা শুল্ক দিতে হবে না শিশুটির পরিবারকে।

এর পরেও ইঞ্জেকশনের খরচ থেকে যায় ১৬ কোটি টাকা। এই বিপুল অঙ্কের টাকা জোগাড় করার জন্য মুম্বইয়ের ডাক্তাররা ‘ইমপ্যাক্ট গুরু’ নামে একটি ক্রাউড-ফান্ডিং ওয়েবসাইটের সঙ্গে যোগাযোগ করে। শিশুটির এই রোগের কথা লিখে অনুদানের জন্য আর্জি জানানো হয়। যে কোনও মেডিক্যাল ইমার্জেন্সিতে ফান্ড জোগাড় করতে সাহায্য করে এই অনলাইন পোর্টাল। দেশ-বিদেশের মানুষজন, বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা।

মুম্বইয়ের শিশুটির এই বিরল রোগের কথা শুনে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন ১০টি দেশের মানুষজন। ভারত তো বটেই, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া থেকেও অনুদান আসতে শুরু করে। ১৬ কোটি টাকার ফান্ড জোগাড় করে দেয় ইমপ্যাক্ট গুরু। সংস্থার সিইও পীযুষ জৈন বলেছেন, এই ঘটনা বিরল। এত বড় ক্যাম্পেন আগে কখনও হয়নি। বিশ্বজুড়ে ৮৭ হাজার মানুষ শিশুটিকে বাঁচাতে এগিয়ে এসেছেন। ১০০ টাকা থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা অবধি অনুদান দিয়েছেন। মোট ১৬ কোটি টাকা উঠেছে এখনও অবধি।

তিরার চিকিৎসা শুরু হবে আর কিছুদিনের মধ্যেই। মেয়েকে বাঁচাতে এগিয়ে এসেছেন যাঁরা তাঁদের ধন্যবাদ দিচ্ছেন প্রিয়ঙ্কা-মিহির। অন্যদিকে, মোদী সরকারের এই উদ্যোগের জন্য ধন্য ধন্য করছে সারা দেশ। প্রশংসা করেছেন বিরেোধীরাও।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More