সংসদের ক্যান্টিনে ভর্তুকির দিন শেষ, দাম বাড়ছে খাবারের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সেই সস্তার দিন শেষ হল বলে। সংসদের ক্যান্টিনে সস্তা খাবার নিয়ে বিতর্কটা অনেক দিনের। ৬৫ টাকায় মাটন বিরিয়ানি, ১২ টাকায় সেদ্ধ সব্জি, এই দাম আর এখন থাকছে না। নতুন বছর পড়তেই ভর্তুকি তুলে নিতে উদ্যোগী হল কেন্দ্রীয় সরকার। এখন থেকে সংসদের ক্যান্টিনে বিভিন্ন পদের দাম বাড়বে।

চলতি সপ্তাহ থেকেই খাবারের দাম বাড়বে ক্যান্টিনে। কোন পদের কী দাম হবে তার একটা তালিকাও সামনে আনা হয়েছে। বাজার চলতি দামের সঙ্গে মিলিয়েই খাবারের দাম রাখা হবে। যেমন ক্যান্টিনে আগে একটা রুটির দাম ছিল ২ টাকা, এবার থেকে হবে ৩ টাকা। যে নিরামিষ থালি মিলত মাত্র ১৮ টাকায়, তা এখন থেকে বিক্রি করা হবে ১০০ টাকায়। আমিষ থালির জন্য আগে দিতে হত ৩৩ টাকা। এখন থেকে নন-ভেজ বুফের খরচ পড়বে ৭০০ টাকা। একবাটি সেদ্ধ সব্জির তরকারি দাম হবে ৫০ টাকা আর মাটন বিরিয়ানি যা আগে পাওয়া যেত মাত্র ৬৫ টাকায়, এখন থেকে তা বেড়ে হবে ১৫০ টাকা।

সংসদের ক্যান্টিনে ভর্তুকি তুলে নেওয়ার কথা ওঠে সেই ২০১৬ সালেই। সেই সময়েই প্রশ্ন ওঠে, যে সরকার পেট্রোল-ডিজেলের উপর থেকে ভর্তুকি তুলেছে, রান্নার গ্যাসেও ভর্তুকি ছাড়ার ডাক দিয়েছে, সংসদের ক্ষেত্রে তারা কেন হাত গুটিয়ে রয়েছে? ২০১৯ সালেও ভর্তুকি তুলে নিয়ে খাবারের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার পরামর্শ মেনে সব দলের সাংসদরা সর্বসম্মতভাবে স্থির করেন যে, খাবারে ভর্তুকি এবার বন্ধ হওয়া উচিত। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষ যখন নাজেহাল তখন সাংসদদের ভর্তুকি মূল্যে খাবার খাওয়া ঠিক নয়।

বস্তুত, বহুদিন ধরে একটা ধারণা অনেকের মধ্যে রয়েছে, সংসদে শুধু সাংসদদের জন্যই খাবার সস্তা। তা নিয়ে বহু মানুষের ক্ষোভ রয়েছে। অনেকের মতে, একশ্রেণির নেতার জীবনযাত্রা ও আচরণ দেখেই মানুষের মনে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে যে, তাঁরা এত স্বচ্ছল, তা সত্ত্বেও তাঁদের খাবারে ভর্তুকি দেওয়া হবে কেন?

কিন্তু বাস্তব হল, সংসদের ক্যান্টিনে শুধু সাংসদরা খান না। সংসদের ক্যান্টিন চালায় উত্তর রেলওয়ে। সেই ক্যান্টিনে সংসদ ভবনের কর্মচারী, নিরাপত্তা কর্মী, দর্শনার্থী, সাংসদের সঙ্গে দেখা করতে আসা সাধারণ মানুষ এমনকি সাংবাদিকরাও ভর্তুকি মূল্যেই খাবার খান। লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে সাংসদ রয়েছেন ৭৯০ জন। তাঁদের মধ্যে প্রতিদিন পাঁচশ জন সাংসদ সংসদ ভবনে আসেন কিনা সন্দেহ। তার উপর অধিকাংশ সাংসদ সংসদ ভবনে চা-টোস্ট ভিন্ন কিছু খান না। অনেকে মধ্যাহ্নভোজের সময় বাড়ি চলে যান। কিন্তু তাঁদের বাদ দিয়েও সংসদের ক্যান্টিনে গড়ে রোজ খাবার খান খুব কম করে হাজার তিনেক লোক। ভর্তুকি বাবদ কয়েক কোটি কোটি টাকা খরচ হয় সে কারণেই। ২০১৯ সালেই দেখা গিয়েছিল ভর্তুকি বাবদ মোট ১৩ কোটি টাকা খরচ হয়েছিল। সুতরাং সংসদের ক্যান্টিনে খাবারের দাম বাড়লে সবাইকেই বর্ধিত মূল্য দিতে হবে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More