৪৫ বছরে প্রধানমন্ত্রী হতেই কি বিজেপিতে যোগ দেবেন পাইলট! কটাক্ষ প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শচীন পাইলটকে ঘিরে এখনও জটিল রাজস্থানের রাজনীতি। বিদ্রোহী এই কংগ্রেস নেতা কি বিজেপিতে যোগ দেবেন, নাকি আলাদা দল তৈরি করবেন, নাকি কংগ্রেসে থেকেই শীর্ষনেতৃত্বের উপর চাপ দেওয়ার খেলা নেমেছেন, সেটাই এখনও বুঝতে পারছেন না কেউ। এর মধ্যেই তাঁর বিজেপি যোগের সম্ভাবনাকে কটাক্ষ করলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মার্গারেট আলভা। কংগ্রেসের এই বর্ষীয়ান নেত্রী বলেন, বিজেপিতে যোগ দিয়ে কি ৪৫ বছরে প্রধানমন্ত্রী হতে চান শচীন পাইলট।

শুধুমাত্র বিজেপিতে যোগ দেওয়ার প্রসঙ্গ নন, কোন সময়ে পাইলট এই বিদ্রোহ করলেন সেটাও মনে করিয়ে দিয়েছেন আলভা। তাঁর অভিযোগ, এই সময় গোটা দেশ করোনা সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়ছে। অন্যদিকে চিন ক্রমাগত ভারতের উপর আঘাত হানছে। এই সময় তরুণ নেতা হিসেবে সমাজের সামনে একটা ইতিবাচক প্রভাব না ফেলে দল ভাঙার খেলায় মেতেছেন পাইলট।

সংবাদসংস্থা পিটিআইকে এক সাক্ষাৎকারে মার্গারেট আলভা বলেন, “কংগ্রেস রাজস্থানে বহুমত পেয়ে সরকার গড়েছিল। শচীন পাইলটকে উপমুখ্যমন্ত্রী করা হয়। চারটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাঁকে। সেইসঙ্গে রাজস্থানের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতিও ছিলেন তিনি।”

এরপরেই পাইলটকে কটাক্ষ করেন রাজস্থানের প্রাক্তন রাজ্যপাল মার্গারেট আলভা। তিনি বলেন, “২৬ বছর বয়সে সাংসদ হয়েছেন শচীন পাইলট। তারপরে তাঁকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও করা হয়। আপনি এত তাড়াতাড়ি কোথায় যেতে চান? আপনি কি চান বিজেপিতে যোগ দিয়ে ৪৩ বছর বয়সে মুখ্যমন্ত্রী আর ৪৫ বছর বয়সে প্রধানমন্ত্রী হবেন?”

চলতি বছর মধ্যপ্রদেশে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া বিদ্রোহ করার পরেও মুখ খুলেছিলেন মার্গারেট আলভা। তিনি বলেছিলেন, “কংগ্রেস একটা বড় দল। এখানে অনেক রাজ্য রয়েছে। সবার দাবি মানা যায় না। ইন্দিরা গান্ধী ও রাজীব গান্ধীর সময়ে কারও সাহস ছিল না, নিজের জন্য কোনও পদ চাওয়ার।”

বর্তমানে রাজনীতিবিদরা কোনও আদর্শে বিশ্বাস করে না বলেও কটাক্ষ করেছিলেন এই বর্ষীয়ান নেত্রী। তাঁর কথায়, “এটা নতুন যুগ। এরা নতুন প্রজন্ম। এদের কাছে আদর্শের কোনও দাম নেই। দলের সমস্যা ও তা সমাধানের কোনও চেষ্টা নেই। যারা বিজেপিতে যোগ দিচ্ছে তাদের কোনও আদর্শ নেই। শুধুমাত্র নিজেদের লোভ ও ক্ষমতা পেতেই তারা বিজেপিতে যাচ্ছে। কিন্তু একটা কথা মনে রাখবেন। কংগ্রেস কখনও শেষ হবে না। ১৫০ বছরের ইতিহাস রয়েছে এই দলের। এই সময়ের মধ্যে আমরা জিতেছি, হেরেছি, জেলে গিয়েছি, ক্ষমতাতেও থেকেছি। কিন্তু কংগ্রেসকে শেষ করার ক্ষমতা কারও নেই।”

রাহুল গান্ধীর উদ্দেশেও একটি বার্তা দিয়েছেন আলভা। তিনি বলেন, এক সময় জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া ও শচীন পাইলটদের উপর ভরসা করে দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলেন রাহুল। কিন্তু সেই ভরসার দাম তাঁরা রাখেননি। তাই এখন রাহুলের উচিত, কংগ্রেসের তরুণ ও প্রতিভাবান নেতাদের নিয়ে ফের নিজের একটা দল বানানো। তারাই বিভিন্ন প্রদেশে ফের কংগ্রেসকে টেনে তুলতে নিজেদের সর্বশক্তি লাগাবে বলে বিশ্বাস এই বর্ষীয়ান নেত্রীর।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More