কোভিড পজিটিভিটি রেট কমাতে হবে, ভ্যাকসিন সংরক্ষণের প্রস্তুতি শুরু করুন, মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশে দৈনিক সংক্রমণ বেশ খানিকটা কমলেও এখনও কিছু রাজ্যের ছবিটা উদ্বেগজনক। আর তাই দেশের আটটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের নিয়ে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানে রাজ্যগুলির বর্তমান কোভিড অবস্থার কথা শোনেন তিনি। তারপরে সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পরামর্শও দেন। প্রধানমন্ত্রী এদিনের বৈঠকে এই রাজ্যগুলিকে নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। সেইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, পজিটিভিটি রেট ও মৃত্যুহার আরও কমাতে হবে। ভ্যাকসিন বন্টনের পরিকল্পনা তৈরি বলেই জানিয়েছেন তিনি। ভ্যাকসিন সংরক্ষণের প্রস্তুতিও রাজ্যগুলিকে শুরু করতে বলেছেন তিনি।

এদিন প্রধানমন্ত্রী রাজ্যগুলিকে কোনও রকমের ঢিলেমি দেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। যাতে পজিটিভিটি রেট কমে ও মৃত্যহার কমে সেদিকে নজর দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। পজিটিভিটি রেট ৫ শতাংশের নীচে ও মৃত্যুহার ১ শতাংশের নীচে নিয়ে আসার কথা বলা হয়েছে। আর তার জন্য নমুনা পরীক্ষা ও উৎস সন্ধান প্রক্রিয়া আরও বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “সুরক্ষা সবথেকে গুরুত্ত্বপূর্ণ। তাই ভারতীয়দের যে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে তা সুরক্ষিত হবে। কীভাবে ভ্যাকসিন বন্টন করা হবে তার পরিকল্পনাও তৈরি। কিন্তু এই কাজে সবাইকে এক হতে হবে। এখন থেকেই ভ্যাকসিন সংরক্ষণ করার প্রক্রিয়া শুরু করে দিক রাজ্যগুলি।”

এদিনের বৈঠকে মহারাষ্ট্র, কেরল, দিল্লি, পশ্চিমবঙ্গ, রাজস্থান, ছত্তীসগড়, হরিয়ানা ও গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডক্টর হর্ষ বর্ধনও ছিলেন এই বৈঠকে। নীতি আয়োগ, স্বাস্থ্যমন্ত্রকের আধিকারিকরাও ছিলেন বৈঠকে। সেখানেই সব রাজ্যের সঙ্গে কথা বলেন মোদী। তারপরেই তাঁদের নমুনা পরীক্ষা আরও বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, যে কোনও রকমের টিকাকরণ প্রোগ্রামের জন্য পশ্চিমবঙ্গ পুরোপুরি তৈরি। প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ স্বাস্থ্যকর্মী এবং সবরকম পরিকাঠামো আছে রাজ্যের। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা কেন্দ্রের সঙ্গে এবং অন্য যে কোনও সংস্থার সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। ভ্যাকসিন আসার পরেই তা যাতে যত দ্রুত সম্ভব সকলের কাছে পৌঁছয়, তা নিশ্চিত করাটাই আমাদের প্রথম ও প্রধান উদ্দেশ্য।”

মুখ্যমন্ত্রী এদিনের বৈঠকে আরও জানান, দুর্গাপুজো, কালীপুজো, ছটপুজোর মরসুমের পরেও এ রাজ্যে করোনা পজিটিভ হওয়ার রেট কমছে। কমছে মৃত্যুহারও। একইসঙ্গে বাড়ছে ডিসচার্জ রেটও। একাধিক রাজ্য ও অন্য দেশের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে এ রাজ্যের। অন্য রাজ্য থেকে এ রাজ্যে চিকিতসা করাতে আসা রোগীর সংখ্যাও কম নয়। তার পরেও রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি যেখানে দাঁড়িয়ে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

বৈঠকে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, “দিল্লিতে করোনা সংক্রমণের তৃতীয় ওয়েভ শুরু হওয়ার পরে গত ১০ নভেম্বর সবথেকে বেশি ৮৬০০ দৈনিক সংক্রমণ দেখা গিয়েছিল। তারপর থেকে আক্রান্তের সংখ্যা ও পজিটিভিটি রেটে একটা নিম্নমুখী গ্রাফ লক্ষ্য করা গেছে। আমরা আশা করছি এই ট্রেন্ড বজায় থাকবে।”

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে কর্নাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাসবরাজ বোম্মাই বলেন, “প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট বলেছেন ভ্যাকসিন চলে এলে প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী তা দেওয়া শুরু হবে।” গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রুপাণি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলেছেন প্রথম পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। তারপরে পুলিশকর্মী ও স্যানিটাইজেশনের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের, তৃতীয় পর্যায়ে ৫০ বছরের বেশি বয়সের ব্যক্তিদের ও চতুর্থ পর্যায়ে কো-মর্বিডিটির সমস্যা থাকা ব্যক্তিদের এই টিকা দেওয়া হবে।”

রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট জানিয়েছেন, তাঁরা র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের সংখ্যা কমাতে শুরু করেছেন। এরপর থেকে শুধুমাত্র আরটি-পিরিআর টেস্টই হবে। প্রতিদিন ৩০ হাজারের বেশি আরটি-পিসিআর টেস্ট রাজ্যে হচ্ছে।

এদিনের বৈঠকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকেও কটাক্ষ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সম্প্রতি ভ্যাকসিন নিয়ে কেন্দ্রকে কটাক্ষ করেছিলেন রাহুল। তার জবাবে এদিন মোদী বলেন, “ভ্যাকসিন কবে আসবে তা আমরা ঠিক করতে পারি না। সেটা ঠিক করবেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু কিছু ব্যক্তি এটা নিয়ে রাজনীতি করছেন। রাজনীতি করা থেকে কাউকে আটকে রাখা যায় না।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More