রাজ্যসভায় যাচ্ছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ, রামমন্দিরের ঐতিহাসিক রায় দিয়েছিলেন তিনি

ভারতের রাজনীতিতে এটা সর্বজনবিদিত যে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে যাঁরা রাজ্যসভার সদস্য হন, তাঁদের প্রত্যেকেই সরকারের পছন্দের হন। সরকারের তরফেই রাষ্ট্রপতির কাছে তাঁদের অনুমোদনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতি শুধুমাত্র অনুমোদন দিয়ে দেন। কংগ্রেস সরকারের আমলেও তাই হয়েছিল। এখনও সেই ধারা বজায় রয়েছে।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কর্মজীবন থেকে অবসর নেওয়ার পর এবার রাজ্যসভায় যাচ্ছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ। রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের অনুমোদনে রাজ্যসভায় যাচ্ছেন তিনি।

সোমবার সন্ধেবেলা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে একটি নির্দেশিকায় একথা জানানো হয়। সেখানে লেখা হয়, রাজ্যসভার এক সদস্যের মেয়াদ শেষ হওয়ায় সেখানে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈকে রাজ্যসভার সদস্য করা হচ্ছে। এর আগে মোদী সরকারের প্রথম জমানায় সুপ্রিম কোর্টের আর এক প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি পি সথাশিবমের অবসরের পর তাঁকে কেরলের রাজ্যপাল নিযুক্ত করা হয়েছিল। অনেকটা সেই পথেই এবার রাজ্যসভায় গেলেন আর এক প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি।

প্রধান বিচারপতি থাকাকালীন অসংখ্য মামলার রায় দিয়েছেন গগৈ। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল তিন তালাক প্রথা বন্ধ করা ও অযোধ্যা মামলার রায়। তিন তালাক প্রথা বন্ধ করায় সেই সময় দেশজুড়ে প্রশংসা হয়েছিল গগৈয়ের। অবসর নেওয়ার ঠিক আগেই ঐতিহাসিক অযোধ্যা মামলার রায় দেন রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের ডিভিশন বেঞ্চ। এর ফলে বহু বছর ধরে চলতে থাকা অযোধ্যা মামলার নিষ্পত্তি হয়। এছাড়াও তাঁর সময়েই অসমে জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকরণের কাজও শুরু হয়। সেই সময় কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা হলে গগৈ বলেছিলেন, এনআরসি শুধু নথি নয়, আগামীর ভিত্তি।

কর্মজীবনের শেষ দিকে রঞ্জন গগৈয়ের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তোলেন তাঁরই দফতরের এক কর্মী। এই নিয়ে ডিভিশন বেঞ্চও বসানো হয়। কিন্তু সেখানে জানানো হয়, গগৈয়ের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ মিথ্যে।

অসমের বাসিন্দা রঞ্জন গগৈই প্রথম যিনি উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে দেশের প্রধান বিচারপতি হয়েছেন। ১৯৭৮ সাল থেকে গুয়াহাটি হাইকোর্টে প্র্যাকটিস শুরু করেছিলেন তিনি। এরপর ২০০১ সালে ২৮ ফেব্রুয়ারি গুয়াহাটি হাইকোর্টের বিচারপতি হন রঞ্জন গগৈ। পাঞ্জাব এবং হরিয়ানা হাইকোর্টেও স্থানান্তর করা হয়েছিল তাঁকে। সুপ্রিম কোর্টের চিফ জাস্টিস হওয়ার আগে ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে সেখানকার প্রধান বিচারপতি হন তিনি। ১৭ নভেম্বর প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসর নেন তিনি। গগৈয়ের পর প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পান এস এস বোবদে।

ভারতের রাজনীতিতে এটা সর্বজনবিদিত যে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে যাঁরা রাজ্যসভার সদস্য হন, তাঁদের প্রত্যেকেই সরকারের পছন্দের হন। সরকারের তরফেই রাষ্ট্রপতির কাছে তাঁদের অনুমোদনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতি শুধুমাত্র অনুমোদন দিয়ে দেন। কংগ্রেস সরকারের আমলেও তাই হয়েছিল। এখনও সেই ধারা বজায় রয়েছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More