এখন কী করতে এসেছেন? উন্নাওয়ে যোগীর মন্ত্রীদের ঘিরে ধরলেন স্থানীয়রা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার রাতে খবরটা আসার পর থেকেই ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা গ্রাম। বিক্ষোভ জমেছে সরকারের বিরুদ্ধে। আর তাই বিকেলে মুখ্যমন্ত্রীর দুই প্রতিনিধি গ্রামে আসার সঙ্গেই প্রতিবাদ শুরু হল। তাঁদের ঘিরে ধরলেন গ্রামবাসীরা। একটাই প্রশ্ন সবার মুখে, ‘এখন কী করতে এসেছেন?’

এদিন দুপুরে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ তাঁর সরকারের দুই মন্ত্রী কমল রানি বরুণ ও স্বামী প্রসাদ মৌর্য্যকে দায়িত্ব দেন উন্নাও ঘুরে আসার জন্য। সেখানে মৃত তরুণীর বাড়ি যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় তাঁদের। গাড়ি উন্নাওয়ে এসে পৌঁছলেই শুরু হয় বিক্ষোভ। মন্ত্রীদের গাড়ি ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয় মানুষ। তাঁরা চিৎকার করে প্রশ্ন করেন, “এখন কী করতে এসেছেন? সব তো শেষ হয়ে গিয়েছে। পারলে ধর্ষকদের কড়া শাস্তি দিন। তারপরেই এখানে আসবেন।” পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হয় পুলিশকে। কোনওরকমে সেখান থেকে মন্ত্রীদের বের করে নিয়ে আসেন নিরাপত্তারক্ষীরা।

শনিবার সকালেই বিধান ভবনের বাইরে ধর্নায় বসার কর্মসূচি নিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। তিনি বলেন, “রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা একেবারেই ভেঙে পড়েছে। একটার পর একটা ঘটনা ঘটছে, আর রাজ্যের সরকার নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।”

 

অন্যদিকে শনিবারে উন্নাওয়ে নির্যাতিতার বাড়ি যান কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢড়া। তার আগে টুইটে যোগী সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন প্রিয়ঙ্কা। তিনি বলেছেন, “হায়দরাবাদের ঘটনার পরে উন্নাওয়ের ঘটনা ঘটেছে। কেন নির্যাতিতা তরুণীকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে পারল না প্রশাসন?” তিনি উন্নাওয়ের অন্য ধর্ষিতার উদাহরণ টেনেছেন। যে মামলায় মূল অভিযুক্ত বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সেনগার। গত জুলাই মাসে ওই নির্যাতিতা যখন উকিলের বাড়িতে যাচ্ছিলেন, ট্রাক দিয়ে পিষে দেওয়ার চেষ্টা হয় তাঁদের গাড়িকে। সনিয়া-কন্যা ওই ঘটনার উদাহরণ টেনে বলেছেন, “একই জেলায় কয়েক মাসে যখন এই ঘটনা ঘটল, তখন কেন প্রশাসন সতর্ক হল না?”

শনিবার সকালে তড়িঘড়ি সাংবাদিক সম্মেলন ডাকেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি বলেন, “এর থেকে নৃশংস ঘটনা আর হতে পারে না। এ ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে অভিযুক্তদের বিচার হবে।” যোগী এও বলেন, অভিযুক্তদের কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হবে। উন্নাওয়ের মতো ঘটনা যাতে উত্তরপ্রদেশে আর না ঘটতে পারে সেজন্য পুলিশ ও প্রশাসন সবরকম চেষ্টা করবে বলে জানিয়েছেন তিনি। জানা গিয়েছে, শনিবারই পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তাদের বৈঠকে ডেকেছেন তিনি। তবে যোগী যাই করুক না কেন, তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কিন্তু কমছেই না।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More