আশার আলো! বরফ ভেঙে দুর্গম তপোবন টানেলে ঢুকলেন উদ্ধারকারীরা, ৩৫ জন আটকে সুড়ঙ্গে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: হিমবাহ ভাঙা বন্যার বিভীষিকার পর কেটে গেছে ৬০ ঘণ্টা। প্রবল জলের তোড়ে ভেসে গেছেন বহু মানুষ। পাহাড়ি খাঁজে মাটি ধসে তৈরি সুড়ঙ্গে আটকে পড়েছে অনেকে। প্রথম একটি সুড়ঙ্গ থেকে ১৬ জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর জওয়ানরা। তবে চিন্তার কারণ দ্বিতীয় সুড়ঙ্গ। চামোলির এই দুর্গম তপোবন টানেলে গত দুদিন ধরে ঢোকার চেষ্টা করেও পারা যায়নি। এই সুড়ঙ্গেই আটকে রয়েছেন কম করেও ৩৫ জন। তবে আশার আলো দেখা গেছে গতকাল রাত থেকে।

গভীর সুড়ঙ্গ। ভেতরে নিকষ কালো অন্ধকার। সুড়ঙ্গের মুখে বরফের চাঙড় আটকে। ভেতরে কোথায় আটকে রয়েছেন শ্রমিকরা তার খোঁজ মেলা দুষ্কর। টানেলের বাইরে বরফ ভেঙে সুড়ঙ্গ মুখ তৈরি করে চিৎকার করে ডাক দিয়েছিলেন উদ্ধাকারীরা। কিন্তু ভেতর থেকে কোনও আওয়াজ ভেসে আসেনি। তাই সুড়ঙ্গের ভেতরে ঢোকাই স্থির করেন সকলে। প্রাণ হাতে রেখে গতকাল রাত থেকেই একটু একটু করে সুড়ঙ্গের ভেতর খনন কাজ চালিয়ে রাস্তা তৈরি হয়। দেওয়াল হাতড়ে হাতড়ে ভেতরে ঢোকেন জওয়ানরা।

Image result for Race To Save People Trapped In Uttarakhand Tunnel

প্রায় আড়াই কিলোমিটার লম্বা টানেল। আইটিবিপি-র জওয়ানরা বলছেন, ‘ইউ’ আকৃতির সুড়ঙ্গটা প্রায় ১২ থেকে ১৫ ফুট হবে। ভেতরে বন্যার জলের মাটি, পাথর, কাদা জমে পথ আরও দুর্গম করে তুলেছে। কোথায় খাদ তৈরি হয়েছে বোঝা যাচ্ছে না। তার ওপর সুড়ঙ্গের মাথায় কংক্রিটের পাথর ভেঙে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। বন্যার জলের তোড়ে মাটি নরম। যখন তখন টানেলের ছাদ হুড়মুড়িয়ে ধসে পড়তে পারে। বিপদ মাথায় নিয়েই ভেতরে আটকে থাকা বিপন্ন মানুষগুলোকে খুঁজে চলেছেন জওয়ানরা।

08uecn

উদ্ধারকাজের একটি ভিডিও সামনে এসেছে। তাতে দেখা গেছে গায়ে জ্যাকেট চাপিয়ে, মাথায় হলুদ হেলমেট পরে সুড়ঙ্গে ঢুকছেন জওয়ানরা। হেলমেটে লাগানো আলোই ভরসা। আইটিবিপি-র মুখপাত্র বিবেক কুমার পাণ্ডে বলেছেন, টানেলের ভেতরে ১২০ মিটার রাস্তা পরিষ্কার করা হয়েছে। তবে ভেতরটা খুবই অন্ধকার। একে অপরকে প্রায় দেখা যাচ্ছে না বললেই চলে। চিৎকার করে কথা বলতে হচ্ছে। কে কতদূর পৌঁছচ্ছেন তার খোঁজ রাখা হচ্ছে। সামনে বিপদ দেখলে একে অপরকে সতর্ক করে দেবেন।

সুড়ঙ্গের বাইরে অপেক্ষা করছে মেডিক্যাল টিম। অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে পৌঁছে গেছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। মাটি কাটার বড় বড় যন্ত্র তৈরি রাখা হয়েছে। আটকে পড়া শ্রমিকদের বাইরে আনলেই প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু হয়ে যাবে। রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দলের জওয়ানরা বলছেন, জল আর পাথরে সুড়ঙ্গের ভেতরটা বিপদসঙ্কুল হয়ে উঠেছে। এখনও মানুষজনের দেখা মেলেনি। অন্তত ৩৫ জন এখানেই আটকে রয়েছেন। তবে শীঘ্রই তাঁদের উদ্ধার করা হবে।

9duf88po

উত্তরাখণ্ডের জোশীমঠের কাছে নন্দাদেবী হিমবাহ ফেটে তীব্র জলোচ্ছ্বাসের জেরে ভেসে গিয়েছে একের পর এক গ্রাম। রেনি গ্রামে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প-সহ ওই এলাকার ৪টি ঝুলন্ত সেতু ভেঙে পড়েছে। এনটিপিসি-র জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের দুটি সুড়ঙ্গে অনেক শ্রমিক কাজ করছিলেন, তাঁদের বেশিরভাগই ভেসে গিয়েছেন জলের তোড়ে। এখনও অন্তত ১৭০ জন নিখোঁজ। ৩২ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা গিয়েছে।

হিমবাহ ভেঙেই এই বিপর্যয় হয়েছে কিনা সে নিয়ে আলোচনা চলছে এখনও। সোমবার ডিআরডিও-র এক বিজ্ঞানী বলেছেন, হিমবাহের ঝুলন্ত অংশ ভেঙে পড়ে এই ঘটনা ঘটেছে। হিমবাহ ভাঙা জলেই ধৌলিগঙ্গা, ঋষিগঙ্গা ও অলকানন্দা জলস্তর বেড়ে গিয়ে প্রবল বন্যা হয়েছে। ডিআরডিও-র ডিফেন্স জিও ইনফর্ম্যাটিকস রিসার্চ এস্টাবলিশমেন্টের ডিরেক্টর এল কে সিনহা র বক্তব্য, হিমবাহের ঝুলন্ত অংশের একটি ভাগ খসে পড়ে চামোলিতে। পাহাড়ি খাঁজের সঙ্কীর্ণ হ্রদ তাতে প্লাবিত হয়। সেই জলই প্রবল স্রোতে ভেসে এসে ঘরবাড়ি ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
তবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ত্রিবেন্দ্র রাওয়াতের বক্তব্য, হিমবাহ ভাঙার কারণে নয়, পাহাড়ের ওপর জমে থাকা বরফ ধসে পড়েই এই বিপর্যয় হয়েছে। তিনি বলেন এই বিষয়ে বিজ্ঞানী ও সেনা আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, পাহাড়ের মাথায় যে বরফ জমেছিল সেটাই ভেঙে পড়ে। কারণ উপগ্রহ চিত্রে বিপর্যয়ের আগে পাহাড়ের চূড়োয় বরফ জমে থাকতে দেখা গিয়েছে। সেই চাপ চাপ বরফের চাঁই ধসে পড়ে হড়পা বানের সৃষ্টি করেছিল ধৌলিগঙ্গায়। নদীর জলস্তর বেড়ে তাই ভয়ঙ্কর বন্যা হয় আশপাশের গ্রামগুলিতে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More