ট্র্যাক্টর র‍্যালির জেরে ট্রেন মিস! যাত্রীদের টাকা ফেরত দেবে রেল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ট্র্যাক্টর র‍্যালির জেরে মঙ্গলবার সারাদিন রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল দিল্লি। জায়গায় জায়গায় কৃষক ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছে। এই ঘটনার জেরে অনেক যাত্রী ট্রেন ধরার জন্য স্টেশনেও পৌঁছতে পারেননি। এদিন এই র‍্যালির জন্য যাঁরা ট্রেন মিস করেছেন, তাঁদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলমন্ত্রক।

ইতিমধ্যেই নর্দার্ন রেলওয়ের তরফে নিউ দিল্লি, ওল্ড দিল্লি, নিজামউদ্দিন, আনন্দ বিহার, সফদরজং ও সরাই রোহিল্লা স্টেশনে নির্দেশ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। একটি বিবৃতি জারি করে নর্দার্ন রেল জানিয়েছে, “দিল্লিতে কৃষক বিক্ষোভের জন্য যেসব যাত্রীরা ট্রেন ধরার জন্য স্টেশনে যেতে পারেননি তাঁদের পুরো টাকা ফেরত দেওয়া হবে। সেইজন্য তাঁদের আবেদন করতে হবে। মঙ্গলবার রাত ৯টা পর্যন্ত যাঁরা ট্রেন ধরতে পারেননি তাঁরা টিকিট ডিপোজিট রিসিট ও ই- টিকিট ডিপোজিট রিসিটের মাধ্যমে টাকা ফেরতের আবেদন করতে পারবেন।”

এদিন প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজ শুরুর আগে, সকাল আটটা নাগাদ কৃষকরা প্রথম ব্যারিকেড ভেঙে ফেলেন। দিল্লি-হরিয়ানা সীমান্তে সিংঘু অঞ্চলে ও দিল্লির পশ্চিমে টিকরি অঞ্চলে হাজার হাজার কৃষককে দিল্লিতে ঢুকতে দেখা যায়। অন্যদিকে, গাজিপুর সীমান্তেও ট্র্যাক্টর মিছিল শুরু করে কৃষকরা।

দিল্লির অক্ষরধাম নামে এক জায়গায় তোলা ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, পুলিশ ওভারব্রিজের ওপর থেকে কৃষকদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস ছুড়ছে। আর একটি ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, দিল্লির আউটার রিং রোড দিয়ে চলেছে সারি সারি ট্র্যাক্টর। টিকরিতে কৃষক নেতারা অনুগামীদের শান্তিরক্ষা করতে অনুরোধ করেন। মিছিল কোন পথে যাবে, তা নিয়ে তাঁরা আলোচনায় বসেন পুলিশের সঙ্গে। তবে শান্তি ফেরেনি। বেলা গড়াতেই বিক্ষোভ চরম আকার নেয়। ব্যারিকেড ভেঙে ফেলে ট্র্যাক্টর চালিয়ে লালকেল্লা চত্বরেও ঢুকে পড়ে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী। তাদের আটকাতে গেলে পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। লালকেল্লায় ঢুকে কৃষক সংগঠনের পতাকাও উড়িয়ে দেয় তারা।

একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ট্র্যাক্টর চালিয়ে কয়েকজন পুলিশকর্মীকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে কৃষকরা। দৌড়ে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করছেন পুলিশ কর্মীরা। আবার ধাক্কাধাক্কি, হাতাহাতি থেকে কয়েকজন পুলিশ কর্মীকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন বিক্ষোভকারীরা, এমন ছবিও সামনে এসেছে। লালকেল্লা চত্বরে উত্তেজনা চরমে পৌঁছয়। পরিস্থিতি প্রায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে দিল্লি পুলিশ কৃষকদের মিছিলে অনুমতি দেয়। এদিন সকাল থেকে ট্র্যাক্টর র‍্যালি শুরু হওয়ার পরেই চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হতে থাকে। দিল্লির পথে নামানো হয় ছ’হাজার নিরাপত্তাকর্মীকে। বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয় টিকরি, গাজিপুর ও সিংঘু সীমান্তে। কিন্তু নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েই দিল্লির ভেতরে ঢুকে পড়ে ট্র্যাক্টর মিছিল। যদিও এই বিশৃঙ্খলার জন্য সমাজ বিরোধীদের দিকেই আঙুল তুলেছেন কৃষক নেতারা।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More