রেমডেসিভির জীবনদায়ী ওষুধ নয়, করোনায় মৃত্যু কমাতে পারে না: এইমস প্রধান

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রেমডেসিভির কোনও জীবনদায়ী ওষুধ নয়, ম্যাজিক বুলেটও নয় যে সংক্রমণ এক লহমায় সারিয়ে ফেলতে পারে, এমনটাই জানালেন দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সের (এইমস)প্রধান ডক্টর রণদীপ গুলেরিয়া।

করোনা আবহে দেশে অ্যান্টি-রেট্রোভিয়াল ওষুধ রেমডেসিভিরের আকাল নিয়ে জোর চর্চা হচ্ছে। ওষুধের কালোবাজারি নিয়ে নানা খবর সামনে আসছে। সংক্রমণ সারাতে ভ্যাকসিনের পরে এখন রেমডেসিভির ওষুধেই ভরসা বেড়েছে। এইমস প্রধানের বক্তব্য, এই মুহূর্তে তেমন কোনও কার্যকরী অ্যান্টি-ভাইরাল ড্রাগ নেই বলেই রেমডেসিভিরের এত খোঁজ হচ্ছে। কিন্তু এই ওষুধ শুধুমাত্র জটিল সংক্রমণে ভোগা করোনা রোগীদের জন্যই, সবার জন্য নয়। তার থেকেও বড় কথা হল রেমডেসিভির করোনায় মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে পারে না।

গুলেরিয়া বলছেন, মৃদু বা মাঝারি সংক্রমণ ঠেকাতে রেমডেসিভিরের কোনও ভূমিকা নেই। রোগীর শরীরে ভাইরাল লোড যদি বেশি হয় এবং জটিল রোগ দেখা দিতে থাকে তখন প্রোটোকল মেনে রেমডেসিভিরের থেরাপি করা যেতে পারে। ধরা যাক, কোনও করোনা রোগী প্রবল শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। শ্বাসনালীর সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। তাঁর বুকের এক্স-রে ও সিটি-স্ক্যান করে সংক্রমণ দেখা গেছে। তখন তাঁকে রেমডেসিভিরের থেরাপিতে রাখা যেতে পারে। কিন্তু সামান্য সংক্রমণ বা উপসর্গহীন রোগীদের জন্য ওই ওষুধের ট্রিটমেন্ট একেবারেই কার্যকরী নয়।

ইবোলার প্রতিষেধক হিসেবে তৈরি হলেও এই ওষুধ ইবোলা সারাতে কার্যকরী ভূমিকা দেখায়নি। অথচ সার্স ও মার্স ভাইরাস প্রতিরোধে কিছুটা হলেও কাজ করেছিল রেমডেসিভির। সেই রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য এই ওষুধকে বেছে নিয়েছিল ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ। মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ)অনুমোদনে করোনা রোগীদের উপরে রেমডেসিভিরের কন্ট্রোলড ট্রায়াল শুরু করে গিলিয়েড সায়েন্সেস। রেমডেসিভির ওষুধের ক্লিনিকাল ট্রায়ালে সুফল দেখা যাওয়ায় ইউরোপ, আমেরিকা ও এশিয়ার নানা জায়গায় করোনা চিকিৎসায় এই ওষুধের ব্যবহার শুরু হয়। ভারতেও রেমডেসিভিরের ট্রায়াল করে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ। গত বছর যখন করোনা বাড়তে শুরু করেছিল, তখন আইসিএমআরের ট্রায়ালের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই এই ওষুধের ব্যবহারে ছাড়পত্র দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোল। তবে কীভাবে এই ওষুধের থেরাপি হবে তার একটা গাইডলাইনও ঠিক করে দেওয়া হয়েছিল।

এইমস প্রধান গুলেরিয়া বলছেন, রেমডেসিভির ওষুধ ব্যবহারের নিয়ম আছে। মুড়িমুড়কির মতো এই ওষুধ খেলে বিপদ হতে পারে। শুধুমাত্র হাসপাতালে ভর্তি করোনা রোগীদের চিকিৎসাতেই এই ওষুধ ব্যবহার করতে পারেন ডাক্তাররা, তাও গাইডলাইন মেনে। খোলাবাজারে এই ওষুধের বিক্রি উচিত নয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের গাইডলাইনে বাড়িতেও এই ওষুধ ব্যবহারের নিয়ম নেই। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে রেমডেসিভিরের থেরাপি না করলে রোগীদের ঝুঁকি বাড়তে পারে। জরুরি ভিত্তিতে শুধুমাত্র জটিল রোগে আক্রান্ত কোভিড রোগীদের চিকিৎসার কাজেই ব্যবহার করা যেতে পারে এই ওষুধ।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More