সুখবর! ফ্রান্স থেকে দ্বিতীয় দফায় চার রাফাল যুদ্ধবিমান আসতে পারে অক্টোবরেই

আগামী ১০ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে রাফালকে ভারতীয় বায়ুসেনার অন্তর্ভুক্ত করা হবে। দ্বিতীয় দফায় আরও চারটি রাফাল জেট ভারতে আসতে পারে এ বছরেই।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রথম দফায় পাঁচটি রাফাল ফাইটার জেট চলে এসেছে ভারতে। হরিয়ানার আম্বালা বায়ুসেনা ঘাঁটির ১৭ নম্বর ‘গোল্ডেন অ্যারো’ স্কোয়াড্রনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে পাঁচ রাফালকে। জানা গিয়েছে, আগামী ১০ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে রাফালকে ভারতীয় বায়ুসেনার অন্তর্ভুক্ত করা হবে। দ্বিতীয় দফায় আরও চারটি রাফাল জেট ভারতে আসতে পারে এ বছরেই।

৩৬টি রাফাল ফাইটার জেটের জন্য ফ্রান্সের দাসো অ্যাভিয়েশনের সঙ্গে ৫৯ হাজার কোটি টাকার চুক্তি হয়েছিল ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরেই।   মে মাসেই প্রথম চারটি রাফাল ভারতের হাতে আসার কথা ছিল। কিন্তু করোনা মহামারীর কারণে এই সময় পিছিয়ে যায়। গত ২৯ জুলাই ফ্রান্স থেকে সাত হাজার কিলোমিটার পথ পেরিয়ে বেলা ৩টে ২১ মিনিট নাগাদ ভারতের মাটি ছোঁয় পাঁচটি রাফাল যুদ্ধবিমান। ইতিহাস তৈরি হয় হরিয়ানার আম্বালা বায়ুসেনা ঘাঁটির ‘গোল্ডেন অ্যারো’ ১৭ নম্বর স্কোয়াড্রনে।

জানা গেছে, আগামী ৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের উদ্যোগে রাশিয়ায় সদস্য দেশগুলির প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের সম্মেলন হবে। তাতে যোগ দিতে যাবেন রাজনাথ সিং। আর সেখান থেকে ফিরলেই আনুষ্ঠানিক ভাবে বিমানবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত হবে রাফাল। সেই অনুষ্ঠানে ফ্রান্সের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফ্লোরেন্স পারলিকেও আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছে।

ভারতীয় বায়ুসেনা জানিয়েছে, এই পাঁচ রাফালকেই পাঠানো হবে লাদাখ সীমান্তে। এখন হিমাচল প্রদেশের পাহাড়ি এলাকায় সেই প্রস্তুতি চালাছে যুদ্ধবিমানগুলি। রাতের বেলা পাহাড়ি এলাকায় নজরদারি চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন পাইলটরা। প্রয়োজন হলে কীভাবে মিসাইল ছুড়তে হবে শত্রু ঘাঁটিতে তার প্রশিক্ষণও চলছে। বায়ুসেনা সূত্র জানাচ্ছে, রাফালের বিয়ন্ড ভিসুয়াল রেঞ্জ এয়ার-টু-এয়ার মেটিওর মিসাইল ও এয়ার-টু-গ্রাউন্ড স্কাল্প মিসাইলের পরীক্ষা করা হচ্ছে। ১৫৯৭ কিলোমিটার প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা জুড়ে রাতের বেলা কড়া পাহাড়া দেবে রাফাল। মিসাইল-যুক্ত হয়েই টহলদারি চালাবে যুদ্ধবিমান।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, রাফাল ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য ‘গেম চেঞ্জার’হবে। চিনের সঙ্গে সীমান্ত সংঘাতের আবহে রাফালের মতো মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট হাতে পাওয়া বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। রাফালের মতো ওমনিরোল এয়ারক্রাফ্ট  এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে। পাকিস্তানের এফ-১৬, জেএফ-২০ ফাইটার জেট ও চিনের তৈরি পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ এয়ারক্রাফ্ট চেংড়ু জে-২০-র মুখোমুখি মোকাবিলা করার মতো ক্ষমতা আছে রাফালের।

দক্ষিণ এশিয়ার যুদ্ধবিমানগুলির মধ্যে রাফাল অন্যতম। ১০ টন ওজনের রাফালের রেঞ্জ ৩৭০০ কিলোমিটার। এর ১৪টি হার্ড পয়েন্ট রয়েছে। তার মধ্যে পাঁচটি ভারী ট্যাঙ্ক ও যুদ্ধাস্ত্র বয়ে নিয়ে যেতে পারে। সাড়ে নয় টনের বেশি ওজন বইতে পারে রাফাল। শব্দের চেয়েও দ্রুত গতিতে ছুটতে পারে রাফাল। এই ফাইটার জেটের সবচেয়ে বড় শক্তি হল এর ওয়েপন সিস্টেম ও রাডার। অনেক উঁচু থেকে হামলা চালানো, যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করা, মিসাইল নিক্ষেপ এমনকি পরমাণু হামলা চালানোর ক্ষমতাও রয়েছে রাফালের। রাফালকে আরও শক্তিশালী করার জন্য ‘মেটিওর’ এবং ‘স্কাল্প’ নামে দুটি মিসাইল যোগ করেছে দাসো অ্যাভিয়েশন। মেটিওর ও স্কাল্প মিসাইল বানিয়ছে ইউরোপিয়ান অস্ত্র নির্মাতা সংস্থা এমবিডিএ। মেটিওর হল বিয়ন্ড ভিসুয়াল রেঞ্জ (বিভিআর) এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল। ওজন ১৯০ কিলোগ্রাম।  প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতেও নিখুঁত টার্গেট করতে পারে। প্রতিটি মেটিওর মিসাইলের দাম ২০ কোটি টাকা। ‘স্কাল্প’  হল লো-অবজার্ভর ক্রুজ মিসাইল। দৈর্ঘ্যে ৫.১ মিটার এবং ওজন প্রায় ১৩০০ কিলোগ্রাম। ৬০০ কিলোমিটার পাল্লা অবধি লক্ষ্যে টার্গেট করতে পারে এই মিসাইল। আকাশ থেকে ভূমিতে ছোড়া যায় এই মিসাইল। রাফালে রয়েছে আরবিই২ অ্যাকটিভ ইলেকট্রনিক্যালি স্ক্যানড রাডার। যে কোনও পরিস্থিতিতে ও আবহাওয়ার অবস্থায় শত্রুপক্ষের এয়ারক্রাফ্টের খোঁজ দিতে পারে। একসঙ্গে অনেকগুলো টার্গেটে নজর রাখতে পারে এই রাডার। তাছাড়াও রাফালে রয়েছে ‘ফ্রন্ট সেক্টর অপট্রনিক্স’ (FSO) সিস্টেম। স্পেকট্রা-ইনটিগ্রেটেড ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্যুট যা বহু দূর অবধি লক্ষ্য টার্গেট করতে পারে। যে কোনও ইনফ্রারেড, ইলেকট্রোম্যাগনেটিক বা লেসার গাইডেড মিসাইলের অবস্থানও বুঝতে পারে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More