বড় সিদ্ধান্ত সনিয়ার, গুলাম-আনন্দ-শশীদের নজরে রাখতে দিয়ে দিলেন ‘মার্কার’

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ যেন প্রতিপক্ষের ফরওয়ার্ডকে জোনাল মার্কিংয়ে ফেলে বোতলবন্দি করা!

বিক্ষুব্ধ নেতাদের ক্রমশই সাইডলাইনে ঠেলে দিতে তেমনই কৌশল নিলেন কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী। গুলাম নবি আজাদ, আনন্দ শর্মাদের মতো নেতারা যাতে বাদল অধিবেশনে আগবাড়িয়ে কিছু না করতে পারেন তার জন্য কমিটি গড়ে দিলেন সনিয়া। চিফ হুইপের দায়িত্ব দিলেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা তথা ১০ জনপথের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত জয়রাম রমেশকে।

সূত্রের খবর, আগামী বাদল অধিবেশনে রাজ্যসভায় নরেন্দ্র মোদী সরকারের উপর চাপ বাড়াতে কংগ্রেস সংসদীয় দল কী কী বিষয় উত্থাপন করবে সে ব্যাপারে আহমেদ পটেল এবং কেসি বেণুগোপালকে দায়িত্ব দিয়েছেন সনিয়া। পর্যবেক্ষকদের মতে, হতে পারে গুলাম নবি আজাদ, আনন্দ শর্মাদের আতস কাচের নীচে রাখতেই এই পথে হাঁটলেন অন্তর্বর্তী কংগ্রেস সভানেত্রী। বা এও হতে পারে, দলের প্রতি একনিষ্ঠ ও অনুগতদেরই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে তুলে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেল।

একই ভাবে লোকসভার ক্ষেত্রেও দু’জনকে দায়িত্ব দিয়েছে কংগ্রেস হাইকম্যান্ড। গান্ধী পরিবারের ঘনিষ্ঠ নেতা হিসেবে পরিচিত তথা অসমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈয়ের ছেলে গৌরব গগৈ এবং রবণীত সিং বিট্টুকে লোকসভার সচেতক নিয়োগ করা হয়েছে। রবণীত বিট্টু রাহুল-প্রিয়ঙ্কার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। বয়স কম। সন্ত্রাসবাদীদের নাশকতায় নিহত পাঞ্জাবের প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী বিয়ন্ত সিংহের নাতি। কংগ্রেসি রাজনীতিতে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে অন্যতম আগ্রাসী নেতা তিনি।

রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভাতেও মনীশ তিওয়ারি, শশী তারুরের মতো বিদ্রোহী নেতারা রয়েছেন। যাঁরা চিঠি লিখে নেতৃত্ব বদলের দাবি তুলেছিলেন। তাঁদের নিজেদের জায়গা ও ওজন বুঝিয়ে দিতেই গৌরব ও বিট্টুকে জুড়ে দিয়েছেন সনিয়া। দলের তরফে নির্দেশিকা জারি করে বলা হয়েছে, সভায় কী বলা হবে না হবে সবটাই এই টিম আলোচনা করে ঠিক করবে। অর্থাৎ যে যেমন খুশি বলতে পারবেন না।

কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে নজিরবিহীন কোন্দলের ছবি ধরা পড়েছিল গত সোমবার। বৈঠকের মধ্যে বিদ্রোহী নেতাদের বিরুদ্ধে নাকি কার্যত রুদ্র মূর্তি ধারণ করেছিলেন রাহুল গান্ধী। তিনি নাকি সরাসরি কপিল সিব্বল, শশী তারুরদের নাম করে বলেন, তাঁরা তলায় তলায় বিজেপির সঙ্গে বোঝাপড়া করেছেন। সনিয়া গান্ধী অসুস্থ থাকার সময়ে সংগঠিত ভাবে দু’ডজনের বেশি নেতার চিঠি পাঠানোর ঘটনা নিয়েও তোপ দাগেন রাহুল।

যদিও সেই বৈঠকের পর আরও ছ’মাসের জন্য কংগ্রেস সভানেত্রী পদে রয়ে গিয়েছেন সনিয়া। দলের নেতাদের বার্তা দিয়েছেন, এই সময়ের মধ্যেই বিকল্প নেতা খুঁজে বের করতে হবে। তবে এই ছ’মাসে যাতে কংগ্রেসকে ঐক্যবদ্ধ রাখা যায়, দলের ভিতর থেকে যাতে নতুন কোনও সমস্যা না হয় সে কারণেই এই ‘মার্কার’ লাগানোর সিদ্ধান্ত সনিয়া গান্ধী নিয়েছেন বলে মনে করছেন অনেকে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More