চোখ রাঙাচ্ছে করোনার দক্ষিণ ভারতীয় প্রজাতি, ডবল মিউট্যান্টের চেয়েও ১৫ গুণ বেশি প্রাণঘাতী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা মহামারী শুরু হওয়ার পরেই কেরলে এই নতুন প্রজাতির খোঁজ মিলেছিল। তারপর গোটা দক্ষিণ ভারত জুড়েই এই প্রজাতি তাণ্ডব করে কয়েক মাস। গবেষকরা নাম দিয়েছিলেন করোনার দক্ষিণ ভারতীয় ভ্যারিয়ান্ট। ব্রিটেন স্ট্রেন ভারতে ঢুকে পড়ার পরে এই নয়া প্রজাতি ধীরে ধীরে দুর্বল হতে শুরু করে। কিন্তু এখন আবার সেই ভ্যারিয়ান্ট মাথা চাড়া দিয়েছে বলেই দাবি বিজ্ঞানীদের। ‘সেন্টার ফর সেলুলার অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজি’ (সিসিএমবি)-এর গবেষকরা বলছেন, দুর্বল হয়ে পড়া সেই দক্ষিণ ভারতীয় ভ্যারিয়ান্ট এখন আরও বেশি প্রাণঘাতী। ১৫ গুণ বেশি সংক্রামক।

সার্স-কভ-২ ভাইরাসের ডবল মিউট্যান্ট (বি.১.৬১৭) ভ্যারিয়ান্টের চেয়েও বেশি ছোঁয়াচে এই দক্ষিণ ভারতীয় প্রজাতি। নাম এন৪৪০কে (N440K) । সিসিএমবি-র গবেষকরা বলছেন, কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার পরে দেখা গিয়েছে, এন৪৪০কে ভ্যারিয়ান্টে নতুন করে মিউটেশন বা জিনের বিন্যাসগত বদল শুরু হয়েছে। হতে পারে ভাইরাসের একাধিক দেশি ও বিদেশি প্রজাতির সংমিশ্রণেই এই বদলটা হচ্ছে। আর এই বদলের কারণে দক্ষিণ ভারতীয় প্রজাতি সুপার-স্প্রেডারই শুধু নয়, প্রাণঘাতীও হয়ে উঠেছে।

New coronavirus strain shows 17 mutations in genome, India must be vigil against more variants: CCMB Hyderabad - Coronavirus Outbreak News

সিসিএমবি-র সাম্প্রতিক ডেটা বলছে, দক্ষিণ ভারতের একাধিক রাজ্যে কোভিড পজিটিভ রোগীদের নমুনায় এই প্রজাতির দেখা মিলেছে। ব্রিটেন স্ট্রেনের (বি.১.১.৭) থেকেও রোগীদের নমুনায় এই প্রজাতির খোঁজ বেশি মিলেছে। করোনা আক্রান্ত রোগীদের থেকে নেওয়া নমুনার অন্তত ২০ শতাংশের মধ্যেই এন৪৪০কে স্ট্রেন চিহ্নিত করা গিয়েছে।

এই মুহূর্তে মহারাষ্ট্র সহ দক্ষিণ ভারতের চার রাজ্যে এই ভ্যারিয়ান্ট ছড়িয়ে পড়েছে। সিসিএমবি-র সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ দিব্য তেজ সোপাতি বলেছেন, ফেব্রুয়ারিতে মহারাষ্ট্রে করোনার ডবল মিউট্যান্ট স্ট্রেন (বি.১.৬১৭) খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল। ডবল ভ্যারিয়ান্ট মানে দুবার জিনের গঠন বদলেছে। ব্রিটেন স্ট্রেনের সঙ্গে জুড়ে গিয়েও এই বদলটা হয়েছে বলে মনে করেছিলেন বিজ্ঞানীরা। পুণের এনআইভি-তে জিনোম সিকুয়েন্স করে দেখা গিয়েছিল, ডবল ভ্যারিয়ান্টে দুটি মিউটেশন হচ্ছে– E484Q এবং  L452R। মহারাষ্ট্রে প্রায় ২০০ জন করোনা আক্রান্তের নমুনা পরীক্ষা করে ৪২ শতাংশের মধ্যে এই ডবল মিউট্যান্ট প্রজাতির খোঁজ মিলেছিল ফেব্রুয়ারিতেই। পশ্চিমবঙ্গে করোনা রোগীদের নমুনার প্রায় ২৮ শতাংশের মধ্যে পাওয়া গিয়েছিল এই ডবল ভ্যারিয়ান্ট।

কিন্তু, এখন বিজ্ঞানীরা বলছেন, ডবল ভ্যারিয়ান্টের চেয়েও এন৪৪০কে ভ্যারিয়ান্ট আরও বেশি প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে। N440k মিউটেশন এত দ্রুত গতিতে হচ্ছে যে এই প্রজাতি আরও তাড়াতাড়ি মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারছে। এমনকি এও দেখা গিয়েছে, করোনার প্রথম দিকের যে ভ্যারিয়ান্টগুলো ছিল যেমন এ২এ স্ট্রেন, তার থেকেও ১০ গুণ বেশি ছোঁয়াচে এই প্রজাতি। আবার করোনার এ৩আই স্ট্রেনের থেকে প্রায় হাজার গুণ বেশি সংক্রামক এন৪৪০কে। সুতরাং, বিজ্ঞানীদের চিন্তা আরও বাড়ল।

উল্লেখ্য: সিসিএমবি-র গবেষকরা নতুন প্রতিবেদনে বলছেন দক্ষিণ ভারতীয় ছোঁয়াচে প্রজাতির অস্তিত্বই নেই। এন৪৪০কে নামে যে মিউটেশনের কথা বলা হয়েছে তা গত বছর হয়েছিল। এই স্ট্রেন এখন দুর্বল ও বিলুপ্ত হতে বসেছে।

আরও পড়ুন: করোনার নতুন কোনও দক্ষিণ ভারতীয় প্রজাতিই নেই, যে স্ট্রেনের খবর রটেছিল তা বিলুপ্ত হতে বসেছে: সিসিএমবি

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More