শনিবার, ফেব্রুয়ারি ১৬

মমতা আতঙ্কে, যদি ভিতরে গিয়ে নাম বলে দেয়: খোঁচা অমিতের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় এসে তো বলছেনই। এ বার পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের মুজফফরনগর থেকেও বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। রাজীব কুমার কাণ্ড নিয়ে এখন সরগরম বাংলার তথা জাতীয় রাজনীতি। এ দিন সেই ঘটনা তুলেই অমিত শাহ বলেন, “মমতা আতঙ্কিত। যদি পুলিশ কমিশনার ভিতরে গিয়ে বড় কারও নাম বলে দেয়! তাই রাস্তায় বসে পড়েছিলেন।”

বিজেপি-বিরোধী আন্দোলনে গোটা দেশের নেতাদের ব্রিগেডের স্টেজে এনেছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সে দিন দিদির ভূমিকা দেখে অনেকেই বলেছিলেন, জাতীয় স্তরে বিরোধী শিবিরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফেলেছেন মমতা। বুধবারের বার বেলায় তাতেই যেন সিলমোহর দিয়ে দিলেন বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ।

এ দিন তিনি বলেন, “চিটফান্ডে কোটি কোটি টাকা লুঠ হয়েছে বাংলায়। আর যখন তদন্ত হচ্ছে, তখন মুখ্যমন্ত্রী গিয়ে রাস্তায় বসে পড়ছেন।” কিছুটা লাগাম ছাড়িয়েই অমিত শাহ বলেন, “মা ছাগল কতদিন তার বাচ্চাকে বলি থেকে আটকে রাখতে পারে!”

এতদিন পর্যন্ত বাংলাতে এসেই বাংলার সরকারকে বা তৃণমূলকে আক্রমণ করতেন নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ  বা বিজেপি-র কেন্দ্রীয় নেতারা। কিন্তু উত্তরপ্রদেশ থেকে এই আক্রমণ নিঃসন্দেহে জাতীয় রাজনীতির ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ।  রাজনৈতিক মহলের অনেকের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে এই ইস্যুকে জাতীয় ইস্যু করে দিয়েছেন তা বিজেপি সভাপতির বক্তৃতাতেই পরিষ্কার।

বাংলায় বিজেপি-র কর্মসূচি নিয়ে জটিলতা চলছেই। সেই রথযাত্রা আটকে যাওয়া থেকে শুরু। তারপর কখনও সমস্যা হয়েছে সভার মাঠ নিয়ে, আবার কখনও হেলিকপ্টার নামা নিয়ে। মঙ্গলবার উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ পুরুলিয়ায় সভা করতে এসেছিলেন। কিন্তু তাঁর হেলিকপ্টার নেমেছিল ঝাড়খণ্ডে। সেখান থেকে ২৮ কিলোমিটার গাড়িতে আসতে হয় তাঁকে। জট তৈরি হয়েছিল ঠাকুরনগরে মোদীর সভা নিয়েও। এ দিন অমিত শাহ বলেন, “মমতা যদি ভেবে থাকেন বিজেপি কর্মীদের কাজ করতে না দিয়ে বাংলায় বিজেপি-র উত্থান ঠেকাবেন, তা হলে কান খুলে শুনে রাখুন, ইটের বদলা ইটেই হবে।”

যদিও উত্তর প্রদেশ থেকে অমিত শাহের এই বক্তব্যকের প্রতিক্রিয়ায় তৃণমূল নেতৃত্ব বলেন, শুধু উত্তরপ্রদেশ কেন, যে প্রান্তে গিয়ে যা ইচ্ছে বলুন। মোদীর এক্সপায়ারি আর এক মাস।”

Shares

Comments are closed.