খড়পোড়া ধোঁয়াতেই দূষণের বিষ দিল্লির বাতাসে, কমিটি গড়ে কড়া পদক্ষেপের পথে শীর্ষ আদালত

দিল্লি ও জাতীয় রাজধানী এলাকায় দূষণের কারণ পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশের চাষিদের খড়কুটো পোড়ানোর অভ্যাস। বিষাক্ত এই ধোঁয়াতেই ভরে গিয়েছে দিল্লির আকাশ।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শত চেষ্টাতেও কিছুতেই বাগে আনা যাচ্ছে না রাজধানীর বায়ুদূষণ। বাতাসের গুণগত মান এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের গ্রাফ ক্রমেই নিম্নমুখী। ধোঁয়াশায় বিপর্যস্ত দিল্লিবাসী। দিন দিন আরও ধূসর হচ্ছে সে ছবি। রাজধানীর বায়ুদূষণের পিছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে পড়শি রাজ্য পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশের খড়পোড়া ধোঁয়াকেই দায়ী করেছে দেশের শীর্ষ আদালত। এই তিন রাজ্যে খড় পোড়ানোর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে প্রাক্তন বিচারপতির নেতৃত্বে এক সদস্যের কমিটিও তৈরি করেছে সুপ্রিম কোর্ট।

দিল্লি ও জাতীয় রাজধানী এলাকায় দূষণের কারণ পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশের চাষিদের খড়কুটো পোড়ানোর অভ্যাস। বিষাক্ত এই ধোঁয়াতেই ভরে গিয়েছে দিল্লির আকাশ। এমনটাই দাবি করে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দাখিল করেছিলেন দুই পরিবেশবিদ। সেই মামলার শুনানিতেই আজ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ রায় দেয়, ওই তিন রাজ্যে কীভাবে আইন ভেঙে খড় পোড়ানো হচ্ছে তা খতিয়ে দেখবে একটি কমিটি। এই কমিটির শীর্ষে থাকবেন প্রাক্তন বিচারপতি মদন বি লকুর। তিনি তিন রাজ্যে ঘুরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন। প্রাক্তন বিচারপতির নেতৃত্বাধীন কমিটিকে রিপোর্ট করবে দিল্লির বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রক বোর্ড। ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর, ভারত স্কাউটস অ্যান্ড গাইড এবং ন্যাশনাল সার্ভিস স্কিম লকুর মিটির হয়ে কাজ করবে।

SC set up a one-member committee to monitor agricultural fires in Delhi air  pollutioSC set up a one-member committee to monitor stubble burning in  Delhi air pollution – Global Green News

কীভাবে দূষিত হচ্ছে দিল্লির বাতাস?

পরিবেশবিদরা বলছেন,  দিল্লির দূষণের পিছনে অন্যতম বড় কারণ  চাষের খেতে শুকনো খড় পোড়ানো ধোঁয়া। লাগোয়া পঞ্জাব, হরিয়ানা থেকে ওই ধোঁয়া এসে জমছে দিল্লির আকাশে।  দিল্লি-সহ নয়ডা, গ্রেটার নয়ডা, গাজিয়াবাদ, গুরুগ্রামের আকাশ ভরে গেছে ওই খড় পোড়া ধোঁয়াতে। এই ধোঁয়ার সঙ্গেই যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণ সংস্থাগুলির বিষাক্ত কার্বন-ডাই-অক্সাইড মিলে গিয়ে ঘন ধোঁয়াশা তৈরি করছে। বাতাসে ভাসমান ধূলিকণার পরিমাণ স্বাভাবিকের থেকে অন্তত আড়াই গুণ বেশি। শীতে বাতাসে ভাসমান এই কণার পরিমাণই চার গুণ ছাড়িয়ে যাবে।

সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দাখিল করে দুই পরিবেশবিদ বলেছিলেন, শষ্য কাটার পর চাষের জমিতে যে খড়কুটো পড়ে থাকে, তা পুড়িয়ে ফেলায় দূষিত হচ্ছে রাজধানীর বাতাস। সেই ২০১৫ সাল থেকেই উত্তরপ্রদেশ, পঞ্জাব এবং হরিয়ানায় খড়কুটো পোড়ানো নিষিদ্ধ করেছিল ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল। তবে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তাতে রাশ টানা যাচ্ছে না। পরিবেশবিদদের তরফে আইনজীবী বিকাশ সিং বলেছেন, এ বছর খড় পোড়ানো ধোঁয়ার পরিমাণ প্রায় পাঁচ গুণ হয়েছে। দিল্লির বাতাসে যে পরিমাণ ধোঁয়াশা জমা হচ্ছে তাকে নিয়ন্ত্রণে না আনা গেলে ভয়ঙ্কর বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হবে। এই গোটা পরিস্থিতি গুরুত্ব সহকারে দেখার জন্য প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বিচারপতি এএস বোপান্না ও বিচারপতি ভি রামাসুব্রহ্মণ্যমের বেঞ্চে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More