শিক্ষায়-চাকরিতে মারাঠা সংরক্ষণ বাতিল করল সুপ্রিম কোর্ট , ‘অসাংবিধানিক’ বললেন বিচারপতিরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে সংরক্ষণ নিয়ে আগেও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। গত ২০ মার্চ মারাঠাদের সংরক্ষণের বিষয় সম্পর্কিত একটি মামলার রায়ে বিচারপতি অশোক ভূষণের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ বলেছিল, স্বাধীনতার ৭০ বছর কেটে গেছে। আর কত প্রজন্ম ধরে সংরক্ষণ ব্যবস্থা জিইয়ে রাখা হবে। চাকরির ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ বা তার বেশি সংরক্ষণের দাবি করাটা মৌলিক অধিকার নয়। সে ক্ষেত্রে সমান অধিকারের বিষয়েই প্রশ্ন উঠে যায়। বুধবার সেই মামলারই পরবর্তী শুনানিতে মহারাষ্ট্রে শিক্ষায় ও চাকরিতে মারাঠাদের সংরক্ষণ বাতিল করল সুপ্রিম কোর্ট।

শীর্ষ আদালতের বিচারপতি অশোক ভূষণের নেতৃত্বাধীন বিচারপতি এল নাগেশ্বর রাও, বিচারপতি এস আবদুল নাজির, বিচারপতি হেমন্ত গুপ্ত ও বিচারপতি এস রবীন্দ্র ভাটের বেঞ্চ জানিয়েছে, কোনও অনগ্রসর শ্রেণিকেই স্বীকৃতি দিয়ে সংরক্ষণের আওতায় ফেলার অধিকার নেই রাজ্যের। বিশেষত কোনও রাজ্যেই শিক্ষায় ও চাকরির ক্ষেত্রে সংরক্ষণের ঊর্ধ্বসীমা ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। সরকার শুধুমাত্র তার রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণিকে চিহ্নিত করে কেন্দ্রকে সে ব্যাপারে জানাতে পারে। স্বীকৃতি দেওয়া বা সংরক্ষণের আওতায় ফেলার পুরো প্রক্রিয়াটাই রাষ্ট্রপতির নির্দেশে হওয়া উচিত।

বস্তুত, ১৯৩১ সালে মারাঠা রাজ্যে জনগণনার ভিত্তিতে একটি বিল পাশ হয়েছিল মহারাষ্ট্রে। সেই বিলে বলা ছিল, পিছিয়ে পড়া ও অনগ্রসর শ্রেণির জন্য শিক্ষায় ও চাকরির ক্ষেত্রে ১৬ শতাংশ সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখতে হবে। এই সংরক্ষণ আইনকে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টকে একটি মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলার শুনানিতেই রায়েই  শীর্ষ আদালত জানিয়েছিল, ১৬ শতাংশ সংরক্ষণের হিসেব ধরলে ঊর্ধ্বসীমা ৫০ শতাংশ পেরিয়ে যায়। কিন্তু ইন্দিরা সহায় মামলায় সুপ্রিম কোর্ট আগেই রায় দিয়েছিল, ৫০ শতাংশের বেশি সংরক্ষণ করা যাবে না।

আইন অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৫০ শতাংশের বেশি আসনকে বর্ণভিত্তিক সংরক্ষণের আওতায় আনা যায় না। জাত-পাত বা বর্ণের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই মহারাষ্ট্রে ৫০ শতাংশ সংরক্ষণ রয়েছে। কংগ্রেস সরকারের আমলে  মরাঠা সম্প্রদায়ের জন্য চাকরিতে এবং শিক্ষায় ১৬ শতাংশ সংরক্ষণ দেওয়ার চেষ্টা শুরু হয়েছিল। মরাঠাদের অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণি হিসেবে ঘোষণা করে ওই সংরক্ষণের ব্যবস্থা করার চেষ্টা হয়েছিল। মারাঠারা সংরক্ষণ পাবেন কিনা সে বিষয় মামলাও চলছিল বম্বে হাইকোর্টে।

পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ প্রশ্ন তুলেছে, স্বাধীনতার পরে ৭০ বছর কেটে গিয়েছে। এখনও কি কোনও পিছিয়ে পড়া শ্রেণিই অগ্রসর হতে পারেনি। সে উত্তরে সরকারি আইনজীবী মুকুল রোহতগির বক্তব্য ছিল, মারাঠা রাজ্যে এখনও ৩০ শতাংশ মানুষ দারিদ্রের শিকার। অনাহারে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। রাজ্য সরকারের অনেক উন্নয়নমূলক প্রকল্প সত্ত্বেও অনগ্রসর শ্রেণির সংখ্যা কমেনি। তাই বিষয়টা গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। কিন্তু আপাতত সেই যুক্তি উড়িয়ে মারাঠা সংরক্ষণ বাতিলেরই সিদ্ধান্ত নিল সুপ্রিম কোর্ট।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More