‘আমার নাম জপলেই পালাবে করোনাভাইরাস,’ ভিডিও পোস্টে মন্ত্র শেখালেন নিত্যানন্দ

স্বাঘোষিত ধর্মগুরু নিত্যানন্দের নাম জপলেই নাকি পালাচ্ছে করোনাভাইরাস। ভিডিও পোস্ট করে ফের বিতর্কে গডম্যান।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমার নাম জপ করো, তবেই পালাবে করোনাভাইরাস..টুইটার ভিডিও পোস্ট করে এমনই দাবি করলেন স্বঘোষিত ধর্মগুরু নিত্যানন্দ। কীভাবে নাম জপ করতে হবে সেটাও শিখিয়ে দিয়েছেন। নোভেল করোনাভাইরাসের হানায় চিনে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৬৩০। আতঙ্ক ভারতেও। কীভাবে ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানো যায় সেই নিয়ে বিস্তর গুজব রটছে চারদিকে। তার মধ্যেই এমন ভিডিও পোস্ট করে ফের বিতর্কে জড়িয়েছেন স্বঘোষিত ধর্মগুরু।

ধর্ষণ, অপহরণ, যৌন কেলেঙ্কারির মতো একাধিক অভিযোগে অভিযুক্ত স্বঘোষিত ধর্মগুরু নিত্যানন্দ নিখোঁজ। তাঁকে খুঁজে পেতে ইতিমধ্যে ব্লু নোটিসও জারি করেছে ইন্টারপোল। এত সব কিছুর মাঝেও দিব্যি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও পোস্ট করে যাচ্ছেন তিনি। নিজেকে ফের অবতার বলে দাবি করে নিত্যানন্দ বলেছেন তাঁর নামের এই ‘মহাবাক্য মন্ত্র’ জপ করলে নাকি ভাইরাসের সংক্রমণ একেবারে নির্মূল হয়ে যাবে। রোগ সেরে যাবে সংক্রামিতের।

১ মিনিট ৬ সেকেন্ডের ওই টুইটার ভিডিও ইতিমধ্যেই ভাইরাল। ভিডিওতে নিত্যানন্দ শুনিয়েছেন কীভাবে মন্ত্র জপ করতে হবে। ‘ওম নিত্যানন্দ পরম শিবম’, টানা ৪৮ ঘণ্টা এই মন্ত্র জপ করলেই নাকি শরীরে এমন শক্তি আসবে যা করোনাভাইরাসকে ছেঁকে বাইরে বার করে দেবে। স্বঘোষিত ধর্মগুরু অবশ্য এখানেই থেমে থাকেননি। তিনি আরও বলেন, ‘‘ভগবান শিবের নামে এই মন্ত্র ম্যাজিকের মতো কাজ করবে। আমি চ্যালেঞ্জ করতে পারি সবকিছু উর্ধ্বে কাজ করবে এই মন্ত্র। যে কেউ পরীক্ষা করে দেখতে পারে।’’

ধর্ষণে অভিযুক্ত নিত্যানন্দের বিরুদ্ধে গত মাসেই ব্লু নোটিস জারি করেছে ইন্টারপোল। গুজরাতে পুলিশের আর্জিতেই ইন্টারপোল এই নোটিস জারি করেছে বলে খবর। প্রথমে গুজরাত পুলিশের একটি সূত্র মারফত শোনা গিয়েছিল, ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে নাকি লুকিয়ে আছে নিত্যানন্দ। তারপর তালিকায় যুক্ত হয় ইকুয়েডরের নাম। বিভিন্ন সূত্র থেকে খবর ছড়ায়, ইকুয়েডরের কাছে একটা দ্বীপই নাকি কিনে ফেলছেন নিত্যানন্দ। সেখানে আশ্রম সাজিয়ে ফের লোকজনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। ‘নতুন দেশ’, নিজের সাম্রাজ্যকে এভাবেই ব্যাখ্যা করে একটা ওয়েবসাইটও নাকি খুলে ফেলেছিলেন তিনি। নিজের ‘দেশ’কে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ বলে ঘোষণাও নাকি করে দিয়েছিলেন।

কিন্তু পরে জানা যায়, ইকুয়েডরে বিশেষ সুবিধা করতে না পেরে ফের গা ঢাকা দিয়েছেন নিত্যানন্দ। ক্যারিবিয়ান সাগরের কাছে বেলিজ উপকূলই নাকি বর্তমান ঠিকানা ‘গডম্যান’-এর। সিবিআইয়ের এক সূত্র জানাচ্ছে, সম্ভাবনা রয়েছে ক্যারিবিয়ানেই নতুন ডেরা বেঁধেছেন স্বঘোষিত ধর্মগুরু। যদিও তাঁর বর্তমান আস্তানার খোঁজ মেলেনি।

স্বঘোষিত ধর্মগুরু নিত্যানন্দের বিরুদ্ধে অভিযোগ একাধিক। ২০১০ সালের এপ্রিল মাসে হিমাচল প্রদেশের সিমলার ৫০ কিলোমিটার দূরের একটি গ্রাম থেকে যৌন কেলেঙ্কারির দায়ে গ্রেফতার করা হয়েছিল নিত্যানন্দকে। গত বছর জুন মাসেও কর্ণাটকের গডম্যান স্বামী নিত্যানন্দের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে চার্জ গঠিত হয়েছিল। অপহরণ ও আমদাবাদের শিশুদের বেআইনি ভাবে আটকে রাখার অভিযোগও উঠেছে তাঁর ও তাঁর কয়েক জন অনুগামীর বিরুদ্ধে। সেই সূত্রে প্রাণপ্রিয়া ও প্রিয়তত্ত্ব নামের দুই মহিলাকে গ্রেফতারও করে পুলিশ।

এরপর জনার্দন শর্মা নামে এক ব্যক্তি ও তাঁর স্ত্রী গুজরাত হাইকোর্টে অভিযোগ করেন, ২০১৩ সালে তাঁদের চার মেয়েকে ভর্তি করেছিলেন নিত্যানন্দর বেঙ্গালুরুর শিক্ষায়তনে। তখন তাদের বয়স ছিল সাত থেকে ১৫ বছরের মধ্যে। পরে তাঁরা শুনতে পান, মেয়েদের বেঙ্গালুরু থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা নাকি এখন আমদাবাদে যোগিনী সর্বজ্ঞপীঠম নামে এক শিক্ষায়তনে আছে। একথা শুনে তাঁরা মেয়েদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু আমেদাবাদের শিক্ষায়তনের কর্মকর্তারা দেখা করতে দেননি। পরে পুলিশের সাহায্যে তাঁরা দুই নাবালিকা কন্যাকে ফেরত পান। কিন্তু বড় দুই মেয়ে তাঁদের সঙ্গে আসেনি। তাদের এক জনের নাম লোপামুদ্রা (২১), অপর জনের নাম নন্দিতা (১৮)। গুজরাত হাইকোর্টে ওই দম্পতির অভিযোগ, লোপামুদ্রা ও নন্দিতাকে আশ্রম কর্তৃপক্ষ দু’সপ্তাহের বেশি সময় ধরে আটকে রেখেছে। এমনকি তাঁদের উপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগও ওঠে। তদন্ত শুরুর পরেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান নিত্যানন্দ।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More