টাটা গোষ্ঠীর সঙ্গে চুক্তি হতে পারে মোডার্নার, কম দামে টিকা আসবে ভারতের বাজারে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকার বৃহত্তম ভ্যাকসিন নির্মাতা সংস্থা মোডার্নার টিকা আসতে পারে ভারতের বাজারে। মার্কিন ফার্মা জায়ান্টের সঙ্গে কথাবার্তা শুরু করেছে টাটার হেলথকেয়ার গ্রুপ। সূত্র মারফৎ জানা গিয়েছে, টাটা গোষ্ঠীর সঙ্গে চুক্তি হলে কম দামে দেশের বাজারে মোডার্নার টিকার বন্টন হতে পারে।

দেশে এখন সেরাম ইনস্টিটিউটের কোভিশিল্ড ও ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিন টিকারই বিতরণ হয়েছে। বিদেশি ভ্যাকসিনের মধ্যে রাশিয়ার ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে স্পুটনিক ভি টিকার ট্রায়াল করছে ডক্টর রেড্ডিস ল্যাবোরেটরি। এই ট্রায়ালের ফল আশানুরূপ হল তবেই স্পুটনিক ভি টিকাকে ছাড়পত্র দেবে কেন্দ্রীয় ড্রাগ নিয়ামক সংস্থা। যে কোনও বিদেশি ভ্যাকসিন দেশের বাজারে আনতে হলে আগে তার ট্রায়াল করা দরকার বলেই জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। প্রথমত দেশের আবহাওয়ায় সেই টিকা কেমন থাকে এবং এখানকার মানুষজনের শরীরে কতটা কার্যকরী ও সুরক্ষিত, তা নিশ্চিত হয়েই টিকাতে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। কাজেই মোডার্নার টিকাও দেশে আনতে হলে আগে তার ট্রায়াল হওয়া দরকার।

মোডার্নার টিকার ট্রায়ালের জন্য ‘কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ’ (সিএসআইআর)-এর সঙ্গে জোট বাঁধছে টাটার হেথকেয়ার গ্রুপ। দুই সংস্থার যৌথ উদ্যোগে টিকার ক্লিনিকাল ট্রায়াল হতে পারে দেশে। তবে টাটা গ্রুপ ও মোডার্নার তরফে এখনও এই বিষয়ে খোলাখুলি কিছু জানানো হয়নি।

মোডার্নার টিকা ছাড়পত্র পেয়েছে ব্রিটেন ও আমেরিকায়। এখনও অবধি জানা গিয়েছে, টিকার একটি ডোজের দাম ২৫ থেকে ৩৭ মার্কিন ডলার, অর্থাৎ ভারতীয় টাকায় ১৮০০ থেকে ২৭০০ টাকার মধ্যে। ইউরোপিয়ান দেশগুলি মোডার্নার ভ্যাকসিনের জন্য প্রস্তাব পাঠিয়ে রেখেছে। টিকার দাম নিয়ে আলোচনা চলছে ইউরোপিয়ান কমিশনের সঙ্গে। তাদের তরফে টিকার ডোজের দাম ২৫ ডলারের নিচে রাখতে বলা হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, টাটা হেলথকেয়ার গ্রুপের সঙ্গে চুক্তি হলে ভারতের বাজারে টিকা কম দামেই আনা হতে পারে।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকসিয়াস ডিজিজের ডিরেক্টর এবং হোয়াইট হাউসের মুখ্য স্বাস্থ্য উপদেষ্টা এপিডেমোলজিস্ট অ্যান্থনি ফৌজির তত্ত্বাবধানে এমআরএনএ ভ্যাকসিন বানিয়েছে মোডার্না। এই গবেষণায় রয়েছেন এনআইএইচের অধীনস্থ ভ্যাকসিন রিসার্চ সেন্টারের (VRC)বিজ্ঞানীরা। সুইৎজারল্যান্ডের অন্যতম বড় ভ্যাকসিন ও ওষুধ নির্মাতা সংস্থা লোনজ়া গ্রুপ এজির সঙ্গে ১০ বছরের চুক্তিও হয়েছে মোডার্নার। টিকা ৯৪ শতাংশ কার্যকরী হয়েছে বলেই দাবি করেছে মোডার্না। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের শরীরেও টিকার ডোজে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে এমনও দেখা গেছে, কমবয়সীদের থেকেও কয়েকজন প্রবীণ স্বেচ্ছাসেবকের শরীরে ভাইরাস প্রতিরোধী অ্যান্টিবডির সংখ্যা অনেক বেশি। যার অর্থ হল, শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ গড়ে উঠেছে বয়স্কদের মধ্যেও। ভ্যাকসিন ট্রায়ালের যেটা অন্যতম বড় ইতিবাচক দিক। মোডার্না আরও দাবি করেছে, এই আরএনএ ভ্যাকসিন এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যা শুধু করোনার নতুন মিউট্যান্ট স্ট্রেন নয়, যে কোনও সংক্রামক ভাইরাল স্ট্রেনকেই নির্মূল করতে পারবে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More