করোনার তৃতীয় ঢেউ অনিবার্য, সংক্রমণের গতি থামাতে লকডাউন উপায় হতে পারে: কেন্দ্রের বিজ্ঞান উপদেষ্টা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার তৃতীয় ঢেউ ঠেকানো অসম্ভব ব্যাপার। এমনটাই দাবি কেন্দ্রের বিজ্ঞান উপদেষ্টা ডক্টর কে বিজয়রাঘবনের। তাঁর বক্তব্য, কোভিড সংক্রমণ যে গতিতে বেড়ে চলেছে তাতে ‘থার্ড ওয়েভ’ অনিবার্য। তবে কখন এবং কোন সময়ে এই তৃতীয় ঢেউ ধাক্কা দেবে সেটা এখনই বলা মুশকিল।

করোনার দুই ধাক্কাই হাজার হাজার মৃত্যু ঘটিয়েছে। দেশে এখন করোনায় মৃত্যু ২ লাখের গন্ডি পার করে গেছে। দ্বিতীয় ঢেউ আরও বড় বিপর্যয় নিয়ে আছড়ে পড়েছে দেশে। রাজ্যে রাজ্যে শুরু হয়েছে মৃত্যুমিছিল। সংক্রমণের হার অনিয়ন্ত্রিত। তার ওপরে ভাইরাস ক্রমাগত তার রূপ বদলে চলেছে। বুধবার সাংবাদিক বৈঠক করে ডক্টর বিজয়রাঘবন বলছেন, পরিস্থিতি যে পর্যায়ে পৌঁছেছে তাতে করোনার তৃতীয় ঢেউ আটকানো অসম্ভব বলেই মনে হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, সংক্রমণের গতি রুদ্ধ করতে হলে কড়া লকডাউন ছাড়া অন্য কোনও উপায় নেই। ভিড়-মেলামেশা-জমায়েতে লাগাম পরানো না গেলে করোনাভাইরাসকে রোখা যাবে না কিছুতেই। আক্রান্তের সংখ্যাও বগ্লাহীনভাবে বেড়ে চলবে, সেই সঙ্গে মৃত্যুও বাড়বে পাল্লা দিয়ে।

বুধবারই দিল্লির এইমসের ডিরেক্টর ডক্টর রণদীপ গুলেরিয়া বলেছিলেন, দেশে লকডাউন শিথিল হওয়ার পর থেকেই নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই মেলামেশা করেছেন মানুষজন। ভাইরাসও তাই একটু একটু করে তার ডালপালা ছড়িয়েছে। একসময় প্রবল আকারে ঝাপটা দিয়েছে। হুড়হুড়িয়ে বেড়েছে কোভিড পজিটিভিটি রেট, রাজ্যে রাজ্যে সংক্রমণের হার বেড়েছে তড়তড়িয়ে। দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণের নতুন যে শৃঙ্খল তৈরি হয়েছে তাকে এত সহজে ভাঙা যাবে না। তার জন্য মানুষকে আরও বেশি সচেতন হতে হবে। মেলামেশা, ভিড়-জমায়েত একেবারে বন্ধ করে দিতে হবে। একই কথা বলছেন ডক্টর বিজয়রাঘবনও। যত বেশি মানুষ একে অপরের সংস্পর্শে আসবে ততটাই দ্রুত হারে ভাইরাস তারা শাখাপ্রশাখা বিস্তার করে চলবে। নতুন নতুন ভ্যারিয়ান্টও মাথা চাড়া দেবে। আর যার ভয়ঙ্কর পরিণতি হবে করোনার ‘থার্ড ওয়েভ’।

বিজ্ঞান উপদেষ্টার মতে, সার্স-কভ-২ ভাইরাস মানুষের শরীরে ঢোকার কৌশল শিখে গেছে। এত দ্রুত জেনেটিক মিউটেশন বা জিনের বিন্যাস বদলের এটাই হল কারণ। ব্রিটেন স্ট্রেন (বি.১.১.৭) ছাপিয়ে এখন ডবল ভ্যারিয়ান্ট (বি.১.৬১৭) ও ট্রিপল ভ্যারিয়ান্ট (বি.১.৬১৮) মাথাচাড়া দিয়েছে। করোনার স্পাইক প্রোটিনে খুব দ্রুত অ্যামাইনো অ্যাসিডের বিন্যাস বা সিকুয়েন্স বদলে চলেছে। অ্যামাইনো অ্যাসিডের কোডেও বদল আসছে। মুছে যাচ্ছে বেশ কিছু কোড, নতুন করে বিন্যাস সাজিয়ে নিচ্ছে ভাইরাস। ফলে নতুন নতুন ভ্যারিয়ান্টের জন্ম হচ্ছে। এই ভ্যারিয়ান্টগুলো আরও বেশি ছোঁয়াচে অর্থাৎ সুপার-স্প্রেডার। প্রাণঘাতীও বটে।

ভাইরাসের বিজয় রথের চাকা থামাতে হলে লকডাউনই উপায় হতে পারে, এমনটাই মত ডক্টর বিজয়রাঘবনের। তাঁর মতে, সাধারণ মানুষের সুযোগসুবিধার খেয়াল রেখেই লকডাউনের পথে যেতে হবে অন্তত কয়েকটা সপ্তাহ। কারণ আগামী কযেকটা সপ্তাহেই সংক্রমণের কার্ভ শীর্ষে পৌঁছনোর পূর্বাভাস দিয়েছেন গবেষকরা। এই গতি থামিয়ে দিতে পারলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে, না হলে আরও বড় বিপর্যয় ঠেকানো সম্ভব হবে না কিছুতেই।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More